চর্ম এলার্জি দূর করার উপায়- লক্ষণ, কারণ, প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সহ চর্ম এলার্জি, নাকের এলার্জি, ত্বকের এলার্জি, রক্তের এলার্জি, হাতের এলার্জি, শরীরে এলার্জি, পায়ের এলার্জি, নাকের এলার্জি সম্পর্কে আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে আলোচনা করতে চলেছি। 
চর্ম এলার্জি দূর করার উপায়- লক্ষণ, কারণ, প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

এছাড়াও কোন কোন খাবার খেলে চর্ম এলার্জি হয় আর কোন কোন খাবার খেলে চর্ম এলার্জি দূর হয় ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা জানবো। চলুন তাহলে নিচে চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত।

চর্ম এলার্জি দূর করার উপায়

চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সম্পর্কে আমরা জানবো। চর্ম এলার্জি বা ত্বকের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, লাল ভাব, ফুসকুড়ি বা শুষ্ক ত্বকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কয়েকটি সহজ ও কার্যকর উপায় আছে। নতুন সাবান, লোশন, ডিটারজেন্ট বা প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকুন। খাদ্য এলার্জি থাকলে (দুধ, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি) সীমিত করুন।

পরিপূর্ণ পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখুন এবং ধুলো, পরাগকণিকা বা পোষা প্রাণীর আলার্জি এড়ান।হালকা, গন্ধহীন সাবান বা কাস্টিল সাবান ব্যবহার করুন। গরম জলে দীর্ঘ সময় গোসল করা এড়ান।গোসলের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডা কম্প্রেস বা ওটমিল প্যাক চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ
অ্যালোভেরা জেল প্রয়োগ করলে ত্বক শান্ত হয়। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বক শুষ্ক না হতে দিন। তীব্র চুলকানি বা ফুসকুড়ি হলে ডাক্তার পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে হালকা কর্টিসোন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে নিজে ব্যবহার করা ঠিক নয়। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করুন, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ এলার্জি বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া ত্বকের রোগ কমাতে সাহায্য করে। 

হঠাৎ এলার্জি দূর করার উপায়

হঠাৎ এলার্জি হলে দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য কিছু সরাসরি এবং সহজ উপায় আছে। লক্ষ্য রাখতে হবে, এটা প্রাথমিক সহায়তা; যদি এলার্জি গুরুতর হয় বা শ্বাসকষ্ট, মুখ/চোখ ফোলা দেখা দেয়, তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তার দেখানো আবশ্যক। যদি এলার্জি কোনো খাবার বা ধূলোময় পরিবেশ থেকে হয়ে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে সেই উৎস থেকে দূরে চলে যান।

চুলকানি বা ফুসকুড়ি হলে ওই স্থান ধুয়ে নিন। এলার্জি হওয়া স্থানে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা কম্প্রেস দিলে চুলকানি ও ফোলা কমে। ১০–১৫ মিনিট ধরে হালকা করে চাপ দিন। হঠাৎ চুলকানি বা ফুসকুড়ি হলে ওরাল অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন লোরাটাডিন, সিট্রিজিন) অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত আরাম দেয়। বড়দের জন্য প্রিসক্রিপশন অনুযায়ী ডোজ নিন।
গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কতদিন পর বুঝা যায়
যদি ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা জ্বালা থাকে, হালকা হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম প্রয়োগ করলে আরাম আসে।দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না, ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি। শরীর থেকে এলার্জি উপাদান দ্রুত বের করতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। যদি শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলার ফোলা, বা চুলকানির সঙ্গে মাথা ঘোরা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে এমারজেন্সি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

নাকের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

নাকের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, জল পড়া, জ্বালা বা নাক বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ঘরোয়া যত্নে অনেক সময় এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নাক পরিষ্কার রাখা। নরম পানি বা সালাইন সলিউশন দিয়ে দিনে দুই–তিনবার নাক ধোয়া উপকারী। গরম পানি দিয়ে স্টিম নিলে নাকের পথ খোলা থাকে এবং শ্লেষ্মা নরম হয়।

এলার্জির উৎস এড়ানোও জরুরি। ধুলো, ধোঁয়া, পরাগকণিকা বা পোষা প্রাণীর কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং পর্দা ও বিছানা নিয়মিত ধুয়ে নিন। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে গরম নাক স্টিম নেওয়া, ঠান্ডা কম্প্রেস ব্যবহার করা এবং মৌ, আদা বা লেবুর চা পান করা অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য করে। এগুলো নাকের জ্বালা কমায়, শ্লেষ্মা পাতলা করে এবং শরীরকে আরাম দেয়।
সুরমা মাছ ও টুনা মাছের পার্থক্য
জীবনধারায় কিছু পরিবর্তনও কার্যকর। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, হালকা ব্যায়াম বা ধ্যান করুন এবং নিয়মিত ঘুম নিন। এতে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং এলার্জির তীব্রতা কমে। যদি এলার্জি দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়, তখন ডাক্তার দেখানো দরকার। কখনো কখনো অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা নাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে হতে পারে।

ত্বকের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা শুষ্ক ত্বকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ঘরোয়া যত্নে অনেক সময় এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমেই, এলার্জির উৎস এড়ানো জরুরি। নতুন সাবান, লোশন, ডিটারজেন্ট বা প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকুন। যদি কোনো খাবারের কারণে এলার্জি হয়, তবে সেটি সীমিত করুন। ধুলো, পরাগকণিকা বা পোষা প্রাণীর কাছ থেকেও দূরে থাকুন।

ত্বক পরিষ্কার রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হালকা, গন্ধহীন সাবান ব্যবহার করুন এবং গরম জলে দীর্ঘ সময় গোসল এড়ান। গোসলের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয় না এবং চুলকানি কমে। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ঠান্ডা কম্প্রেস বা ওটমিল প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেল ত্বক শান্ত করতে এবং লাল ভাব কমাতে সহায়ক। শুষ্ক ত্বকের জন্য হালকা ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত চুলকানি বা ফুসকুড়ির জন্য ডাক্তার পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা হালকা কর্টিসোন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন নিজের ইচ্ছায় ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়াও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করাও এলার্জি কমাতে সহায়ক।

এলার্জি চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়

উপরে আমরা চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সম্পর্কে জেনেছি এবার অ্যালার্জি চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। এলার্জি বা চুলকানি সাধারণত ত্বকে লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা জ্বালাপোড়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ঘরোয়া যত্নে অনেক সময় এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমেই এলার্জির কারণ এড়ানো জরুরি। নতুন সাবান, লোশন, ডিটারজেন্ট বা প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকুন। যদি কোনো খাবারের কারণে এলার্জি হয়, তা সীমিত করুন।

ধুলো, ধোঁয়া বা পোষা প্রাণীর কাছ থেকেও দূরে থাকা ভালো। চুলকানির তীব্রতা কমাতে ঠান্ডা কম্প্রেস বা বরফ মোড়ানো কাপড় আক্রান্ত স্থানে ৫–১০ মিনিট রাখুন। এটি জ্বালা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে। ওটমিল প্যাক বা অ্যালোভেরা জেল ত্বক শান্ত করতে ও লাল ভাব কমাতে কার্যকর। ত্বক শুষ্ক না রাখতে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

গোসলের সময় গরম জলে দীর্ঘক্ষণ থাকা এড়িয়ে হালকা সাবান ব্যবহার করা ভালো। যদি চুলকানি তীব্র হয় বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়, ডাক্তার পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা হালকা কর্টিসোন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করাও এলার্জি ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে।

রক্তের এলার্জি দূর করার উপায়

বাংলাদেশে কথাবার্তায় “রক্তের এলার্জি” বলতে সাধারণত এমন এলার্জিকে বোঝানো হয় যেটা বারবার হয়, সহজে সারে না বা শরীরের ভেতরের প্রবণতার কারণে দেখা দেয়। এটা কোনো আলাদা রোগ নয়, বরং ত্বক বা শরীরের এলার্জির একটি দীর্ঘস্থায়ী ধরণ। ঘরোয়া যত্নে অনেক সময় এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

প্রথমেই এলার্জির ট্রিগার চিহ্নিত করে এড়ানো জরুরি। যে খাবার খেলে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা লাল দাগ বাড়ে যেমন চিংড়ি, ইলিশ, গরুর মাংস, ডিম, বাদাম বা অতিরিক্ত ঝাল মসলা সেগুলো কিছুদিন বাদ দিয়ে দেখুন। ধুলো, ধোঁয়া, কেমিক্যাল সাবান বা ডিটারজেন্ট থেকেও দূরে থাকুন। রক্ত পরিষ্কার রাখার জন্য পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের হতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানি অনেকের জন্য উপকারী হয়। মৌসুমি ফল, শাকসবজি আর হালকা খাবার নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। চুলকানি বা ফুসকুড়ি হলে ঘরোয়া ভাবে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বক শান্ত করে এবং জ্বালা কমায়। ঠান্ডা পানিতে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নেওয়া বা ঠান্ডা কম্প্রেস দেওয়াও আরাম দেয়।

ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল এড়িয়ে চলুন। গন্ধহীন, মাইল্ড সাবান ব্যবহার করুন এবং গোসলের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়। মানসিক চাপও এলার্জি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম এবং স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো এলার্জির তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

যদি এলার্জি দীর্ঘদিন থাকে, খুব বেশি ছড়ায়, রাতে চুলকানি বেড়ে যায় বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে না থেকে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো দরকার। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা নিয়মিত ওষুধ লাগতে পারে।

রক্তের এলার্জি হলে কোন খাবার খাবেন কোন খাবার খাবেন না

রক্তের এলার্জি কমাতে খাবারের দিকে খেয়াল রাখা খুব জরুরি। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শরীরকে শান্ত রাখে এবং এলার্জির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন শাকসবজি যেমন লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঝিঙে, চিচিঙ্গা খাওয়া ভালো। ফলের মধ্যে আপেল, কলা, নাশপাতি ও পাকা পেঁপে নিরাপদ। ভাতের সাথে ডাল, সেদ্ধ সবজি এবং অল্প তেলে রান্না করা খাবার উপকারী। 

পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকে, যা এলার্জি কমাতে সাহায্য করে। কিছু খাবার রক্তের এলার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে চিংড়ি, কাঁকড়া, ইলিশ, শুঁটকি, গরুর মাংস, ডিম, বাদাম, বেগুন অনেকের ক্ষেত্রে এলার্জি বাড়ায়। অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, প্রসেসড খাবার ও সফট ড্রিংকস এলার্জি আরও খারাপ করতে পারে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কারও কারও জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দুধ খাওয়ার পর যদি চুলকানি বা ফুসকুড়ি বাড়ে, তাহলে কিছুদিন বন্ধ রেখে দেখুন। একইভাবে নতুন কোনো খাবার খেলে এলার্জি বাড়লে সেটি তালিকা থেকে বাদ দিন। শেষ কথা হলো, রক্তের এলার্জিতে একেকজনের শরীর একেকভাবে রিঅ্যাক্ট করে। তাই কোন খাবারে আপনার এলার্জি বাড়ে সেটা লক্ষ্য করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাবার নিয়ন্ত্রণের সাথে নিয়মিত পানি পান, ভালো ঘুম আর স্ট্রেস কম রাখলে এলার্জি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এলার্জি চুলকানি দূর করার ঔষধ

চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় বিষয়ে জানার পর আমাদের যে বিষয় জানা গুরুত্বপূর্ণ এটা হল এলার্জি দূর করার ঔষধ বা ট্যাবলেট কোনগুলো। এলার্জি থেকে হওয়া চুলকানি কমানোর জন্য সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন ও কিছু ক্রিম/লোশন ব্যবহার করা হয়। নিচে ওষুধগুলো কাজ অনুযায়ী প্যারা আকারে দিলাম। নিজে নিজে দীর্ঘদিন ওষুধ না খেয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। চুলকানি কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট। যেমন সিট্রিজিন, লোরাটাডিন, ফেক্সোফেনাডিন। 

এগুলো শরীরের এলার্জি রিঅ্যাকশন কমিয়ে চুলকানি, লাল দাগ ও ফুসকুড়ি কমাতে সাহায্য করে। কিছু ওষুধে ঘুম ভাব আসতে পারে। ত্বকের জন্য ব্যবহার করা হয় অ্যান্টিহিস্টামিন বা ক্যালামাইন লোশন। ক্যালামাইন লোশন ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং চুলকানি দ্রুত কমায়। হালকা এলার্জিতে এটি বেশ নিরাপদ।চুলকানি বেশি হলে বা লালচে ফোলা থাকলে ডাক্তাররা হালকা স্টেরয়েড ক্রিম যেমন হাইড্রোকর্টিসোন ব্যবহার করতে বলেন। 

এটি প্রদাহ ও চুলকানি কমায়। তবে নিজের ইচ্ছায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। যদি এলার্জির সাথে সংক্রমণ বা ঘা থাকে, তখন কখনো কখনো কম্বিনেশন ক্রিম দেওয়া হয় যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক ও চুলকানি কমানোর উপাদান থাকে। এগুলো শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, গন্ধহীন সাবান ব্যবহার এবং চুলকানো এড়ানো খুব জরুরি। যদি চুলকানি বারবার হয়, রাতে বেশি বাড়ে বা শরীরজুড়ে ছড়ায়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানো দরকার।

হাতের এলার্জি দূর করার উপায়

হাতের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি, শুষ্কতা বা জ্বালার মাধ্যমে দেখা দেয়। ঠিকভাবে যত্ন নিলে অনেক সময় ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমে কারণটা এড়ানো সবচেয়ে জরুরি। সাবান, ডিটারজেন্ট, স্যানিটাইজার, কেমিক্যাল বা ধুলো থেকে হাতের এলার্জি বেশি হয়। নতুন কিছু ব্যবহার করলে যদি সমস্যা বাড়ে, সেটি বন্ধ করুন। প্রয়োজনে বাসন ধোয়া বা কেমিক্যালের কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন।

হাত পরিষ্কার কিন্তু শুষ্ক না রেখে যত্ন নিতে হবে। বারবার গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া এড়িয়ে চলুন। হালকা, গন্ধহীন সাবান ব্যবহার করুন। হাত ধোয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার লাগান, যাতে ত্বক ফেটে না যায়। চুলকানি বা জ্বালা হলে ঠান্ডা কম্প্রেস দিলে আরাম আসে। অ্যালোভেরা জেল বা নারকেল তেল পাতলা করে লাগালে ত্বক শান্ত হয় এবং শুষ্কতা কমে।

হালকা এলার্জিতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলকানি বেশি হলে ডাক্তার পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা হালকা স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা হয়। তবে স্টেরয়েড ক্রিম নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। খাবার ও জীবনযাপনেও খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ঝাল ও ফাস্টফুড কম খান এবং ঘুম ঠিক রাখুন। এগুলো এলার্জি কমাতে সাহায্য করে। যদি হাতের এলার্জি দীর্ঘদিন থাকে, ফেটে যায়, পানি বের হয় বা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

শরীরে এলার্জি দূর করার উপায়

শরীরের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, লাল দাগ, ফুসকুড়ি বা জ্বালার মাধ্যমে দেখা দেয়। ঠিকভাবে যত্ন নিলে অনেক সময় ঘরোয়া ও সাধারণ চিকিৎসায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমেই এলার্জির কারণ চিহ্নিত করে এড়ানো জরুরি। যে খাবার, সাবান, ডিটারজেন্ট, কাপড়ের রং, ধুলো বা কেমিক্যাল ব্যবহারে সমস্যা বাড়ে, সেগুলো বন্ধ বা সীমিত করুন। নতুন কিছু ব্যবহার করলে শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন।

ত্বকের যত্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। গরম পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল না করে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। গন্ধহীন, মাইল্ড সাবান ব্যবহার করুন এবং গোসলের পর পুরো শরীরে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান, যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়। চুলকানি কমাতে ঠান্ডা কম্প্রেস, অ্যালোভেরা জেল বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো ত্বক শান্ত করে এবং জ্বালা কমায়। চুলকানো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ক্ষত ও সংক্রমণ হতে পারে।

খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড কম খান। বেশি করে শাকসবজি, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। অনেকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবারে এলার্জি বাড়ে, সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোও জরুরি। স্ট্রেস এলার্জি বাড়াতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম এবং পরিষ্কার পরিবেশ শরীরের এলার্জি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পায়ের এলার্জি দূর করার উপায়

পায়ের এলার্জি সাধারণত চুলকানি, লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, শুষ্কতা বা জ্বালার মাধ্যমে দেখা দেয়। সঠিক যত্ন নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমে কারণটা এড়ানো জরুরি। ভেজা মোজা, টাইট জুতা, ঘাম, ধুলো বা কেমিক্যালের সংস্পর্শে পায়ের এলার্জি বাড়ে। দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় পা রাখবেন না। পরিষ্কার, শুকনো মোজা ব্যবহার করুন এবং জুতা বাতাস চলাচল করে এমন বেছে নিন।

পা প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। গরম পানিতে বেশি সময় ভিজিয়ে রাখবেন না। গন্ধহীন, হালকা সাবান ব্যবহার করুন। ধোয়ার পর পায়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান, বিশেষ করে গোড়ালি ও আঙুলের ফাঁকে। চুলকানি বা জ্বালা হলে ঠান্ডা কম্প্রেস দিলে আরাম পাওয়া যায়। অ্যালোভেরা জেল বা নারকেল তেল পাতলা করে লাগালে ত্বক শান্ত হয়। চুলকানো এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ক্ষত ও সংক্রমণ হতে পারে।

হালকা এলার্জিতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি চুলকানি বেশি হয় বা লাল দাগ বাড়ে, তাহলে ডাক্তার পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা প্রয়োজনীয় ক্রিম ব্যবহার করা হয়। খাবার ও জীবনযাপনেও খেয়াল রাখা দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ঝাল ও ভাজাপোড়া কম খান এবং শরীর পরিষ্কার রাখুন।

নাকের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

নাকের এলার্জি হলে সাধারণত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক চুলকানো বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। কুসুম গরম পানির ভাপ নেওয়া নাকের এলার্জির জন্য খুব উপকারী। দিনে এক থেকে দুইবার স্টিম নিলে নাকের ভেতরের জমে থাকা মিউকাস নরম হয়, হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়া কমে। চাইলে পানিতে সামান্য লবণ বা আদা দেওয়া যেতে পারে।

লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা ভালো কাজ দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নাক ধুলে ধুলাবালি ও এলার্জির কারণগুলো বের হয়ে যায়। এতে নাকের জ্বালা ও চুলকানি কমে। আদা ও মধু নাকের এলার্জি কমাতে সহায়ক। আদা চা বা এক চামচ মধু নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং এলার্জির উপসর্গ হালকা হয়।

ঘরের ধুলাবালি ও অ্যালার্জেন থেকে দূরে থাকা জরুরি। ঘর পরিষ্কার রাখুন, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত ধুয়ে নিন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করলে নাকে ধুলাবালি কম ঢুকবে। ঠান্ডা পানি ও ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন। কুসুম গরম পানি পান করুন এবং খুব ঠান্ডা পরিবেশে সরাসরি যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিলে নাকের এলার্জি দ্রুত কমে।

কোল্ড এলার্জি লক্ষণ

কোল্ড এলার্জি হলে ঠান্ডা আবহাওয়া, ঠান্ডা পানি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গেলে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নিচে কোল্ড এলার্জির সাধারণ লক্ষণগুলো প্যারা আকারে দেওয়া হলো। ঠান্ডা লাগার সঙ্গে সঙ্গে হাঁচি শুরু হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া কোল্ড এলার্জির খুব সাধারণ লক্ষণ। অনেক সময় নাক ও গলার ভেতরে চুলকানি অনুভূত হয়।

ত্বকে চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা বাতাসে বের হলে হাত, পা, মুখ বা ঘাড়ে চুলকানি বেশি হয়। কখনও কখনও ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠান্ডায় চোখ চুলকানো, পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া কোল্ড এলার্জির একটি লক্ষণ।

গলা শুকিয়ে যাওয়া, গলা ব্যথা বা হালকা কাশি হতে পারে। ঠান্ডা পরিবেশে বেশি সময় থাকলে এই উপসর্গগুলো বাড়তে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকের ভেতর চাপ লাগার অনুভূতি হয়। যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে কোল্ড এলার্জি বেশি তীব্র হতে পারে। দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় থাকলে শরীর দুর্বল লাগা বা মাথা ব্যথাও হতে পারে।

কোল্ড এলার্জি মেডিসিন ইন বাংলাদেশ

নাক বা শরীর থেকে হওয়া কোল্ড/অ্যালার্জি কমাতে বাংলাদেশে বেশ কিছু সাধারণ ওষুধ (ঔষধ) পেতে পারেন। এগুলো মূলত অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট বা নাকে স্প্রে হিসেবে কাজ করে, এবং হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি বা এলার্জির অন্যান্য উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। সব ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শে নেওয়া উচিত।

সাধারণ ওষুধ হিসেবে সিট্রাইজিন (Cetirizine) পাওয়া যায়, যা এলার্জি ও সর্দি হাঁচি কমাতে ব্যবহৃত হয়। ফেক্সোফেনাডাইন (Fexofenadine) একটি কম ঘুমপাড়ানি করে এমন অ্যান্টিহিস্টামিন, নাক চোখের এলার্জি কমাতে ভালো কাজ করে। হিস্টাসিন/ক্লোরফেনিরামিন (Chlorpheniramine) বেশ পুরনো ও সস্তা অ্যান্টিহিস্টামিন, তবে এটি কখনো কখনো ঘুম আনতে পারে।

কিছু ওষুধে ফেক্সোফেনাডাইন + পসুডোইফেড্রিন থাকে, যা শুধু এলার্জি নয়, নাক বন্ধ ভাবও কমায়। এই ধরণের কম্বো কিছু মানুষের কাছে তীব্র শীত বা কোল্ড এলার্জির জন্য উপকারী, তবে ডাক্তার দেখানোর পরে নেওয়া ভালো। অ্যাজেলাস্টাইন (Azelastine) ন্যাসাল স্প্রে সরাসরি নাকের ভেতরে ব্যবহৃত হয় এলার্জির উপসর্গ কমাতে। ক্রোমোলিন সোডিয়াম + জাইলোমেটাজোলিন (Natrol Plus) মতো স্প্রে নাকের জ্বালা, শুকনো ভাব ও নাক বন্ধ ভাব কমাতে সাহায্য করে।

কোল্ড এলার্জি দূর করার উপায়

কোল্ড এলার্জি বলতে সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়া, ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা জিনিসের সংস্পর্শে এলে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, চুলকানি বা ত্বকে লাল ফুসকুড়ি হওয়াকে বোঝায়। ঠিকভাবে যত্ন নিলে এটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ঠান্ডা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সবচেয়ে জরুরি। শীতের সময় গরম কাপড় পরুন, গলা ও নাক ঢেকে রাখুন।

ঠান্ডা বাতাসে বের হলে স্কার্ফ বা মাস্ক ব্যবহার করুন। খুব ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল বা হাত মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলুন। নাকের কোল্ড এলার্জিতে কুসুম গরম পানির ভাপ বা স্টিম নেওয়া উপকারী। দিনে এক দুবার স্টিম নিলে নাকের ভেতরের জ্বালা কমে এবং নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচি কম হয়। কুসুম গরম পানি দিয়ে নাক ধোয়াও কাজে দেয়। খাবারের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। গরম খাবার ও পানীয় যেমন আদা চা, মধু, স্যুপ খেলে শরীর উষ্ণ থাকে এবং এলার্জির তীব্রতা কমে। 

খুব ঠান্ডা পানীয়, আইসক্রিম বা ফ্রিজের খাবার কিছুদিন এড়িয়ে চলাই ভালো। ত্বকের কোল্ড এলার্জিতে গরম পানি দিয়ে গোসল না করে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। গোসলের পর ত্বকে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান, যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়। ঠান্ডা বাতাসে ত্বক ঢেকে রাখা উপকারী। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমানোও কোল্ড এলার্জি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কোল্ড এলার্জির ভ্যাকসিন

কোল্ড এলার্জি বা ঠান্ডার কারণে হওয়া অ্যালার্জির জন্য এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো সাধারণ ভ্যাকসিন বাজারে নেই, যেটা সবাই পাবে এবং যা ঠান্ডার এলার্জি প্রতিরোধ করবে বলে বিজ্ঞানে স্বীকৃত। কোল্ড এলার্জি মূলত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া, তাই এর জন্য কোনো একবারের টিকা নেই যেটা দিয়ে রোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। 

একটু আলাদা কিন্তু সম্পর্কিত একটি চিকিৎসা হল অ্যালার্জেন ইমিউনথেরাপি (allergen immunotherapy), যেখানেই শরীরকে ধীরে ধীরে অ্যালার্জেনের সাথে পরিচিত করিয়ে ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া কমানোর চেষ্টা করা হয়। এটি অনেক ধরনের পরিবেশগত অ্যালার্জি যেমন ধূলিকণা, পরাগ, ডাস্ট মাইট ইত্যাদিতে কার্যকর হতে পারে এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে কিছু মাস থেকে কয়েক বছর ব্যাপী কোর্স হিসেবে করা হয়। 

তবে ঠান্ডা‑প্ররোচিত অ্যালার্জি বা cold urticaria‑র জন্য একটানা খোদ ভ্যাকসিন নেই। চিকিৎসকরা সাধারণত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ, লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং ঠান্ডা থেকে এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেন। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে এলার্জি/ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত ইমিউনথেরাপি বা চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়াই নিরাপদ।

কোল্ড এলার্জি কেন হয়

কোল্ড এলার্জি মূলত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া। সাধারণভাবে বললে, যখন কেউ ঠান্ডা পরিবেশ, ঠান্ডা পানি বা বরফের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীর কিছু প্রোটিনকে হঠাৎ “হানিকারক” হিসেবে চিনতে শুরু করে। এতে হিস্টামিন নামে রাসায়নিক মুক্ত হয়, যা এলার্জির লক্ষণ সৃষ্টি করে।

পরিবারের কেউ আগে থেকেই অ্যালার্জিতে ভুগলে, সেই predisposition বংশগতভাবে পাওয়া যায়।শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্বাভাবিক ক্ষেত্রে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু কোল্ড এলার্জিতে এটি ভুলভাবে ঠান্ডাকে হুমকি হিসেবে মনে করে। শারীরিক দুর্বলতা, দীর্ঘকাল ঠান্ডায় থাকা, হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে চলে যাওয়া বা ঘামের সংস্পর্শ এলার্জি বাড়াতে পারে।

যারা ধূলিকণা, পরাগ বা খাদ্য এলার্জিতে ভুগছেন, তাদের মধ্যে কোল্ড এলার্জি হওয়ার ঝুঁকি একটু বেশি।ফলে শীত বা ঠান্ডা‑প্ররোচিত এলার্জিতে দেখা যায় হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি, ত্বকে লাল ফুসকুড়ি বা চোখে পানি পড়া। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি বা বরফের সংস্পর্শে cold urticaria নামের ফুসকুড়ি দেখা যায়।

কোল্ড এলার্জি কি ভালো হয়

উপরে আমরা যেকোনো ধরনের চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সম্পর্কে জেনেছি এবার কোল্ড এলার্জি কি ভালো হয় এ সম্পর্কে জানব। কোল্ড এলার্জি সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয় না, কিন্তু অনেক সময় তা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটি মূলত শরীরের ইমিউন সিস্টেমের অতিসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া, তাই শরীর একেবারে “সুস্থ” হয়ে এলার্জি থেকে মুক্ত হয় না।

ছোটদের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গ কমতে পারে, কিন্তু বড়দের বা যাদের ইমিউন সিস্টেম বেশি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হতে পারে। কোল্ড এলার্জি স্থায়ীভাবে শেষ করা খুব কঠিন, তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গ কমানো, ঠান্ডা থেকে রক্ষা ও জীবনধারার পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে।

চর্ম এলার্জি সম্পর্কে সকল প্রশ্ন সমূহঃ

লেবু খেলে কি এলার্জি হয়?

হ্যাঁ,, লেবু খেলে কিছু মানুষের এলার্জির সম্ভাবনা দেখা যায়। এই এলার্জি হওয়ার মূল কারণ লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড।

ফল খেলে কি এলার্জি হয়?

সব ফল খেলে এলার্জি হয় না তবে কিছু কিছু ফল আছে সেগুলোতে থাকা প্রোটিনের কারণে এলার্জি হতে পারে।

আদা খেলে কি এলার্জি হয়?

হ্যাঁ আদা খেলে এলার্জি হতে পারে।

টমেটো খেলে কি এলার্জি হয়?

টমেটোতে থাকা কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন ও এসিডের কারণে এলার্জি দেখা দিতে পারে।

আনারস খেলে কি এলার্জি হয়?

হ্যাঁ, অনেকের ক্ষেত্রে আনারস খেলে এলার্জি দেখা দেয়

Q1: এলার্জির জন্য কোন জুস খাওয়া উচিত?

A: আপেল, কমলা (যদি লেবুতে এলার্জি না থাকে), বেরি জুস।

Q2: এলার্জির পর কি পান করা যায়?

A: পানি, হালকা চা, গরম ব্রথ।

Q3: লেবু পানিতে কি এলার্জি আছে?

A: হ্যাঁ, কিছু মানুষের মুখ, গলা বা ত্বকে চুলকানি হতে পারে।

Q4: লেবু কাদের খাওয়া উচিত নয়?

A: যারা সাইট্রাস বা অ্যাসিডে সংবেদনশীল।

Q5: এলার্জিক রাইনাইটিস এর চিকিৎসা কী?

A: অ্যান্টিহিস্টামিন, নাকের স্প্রে, এলার্জি এড়িয়ে চলা।

Q6: গলা চুলকায় এলার্জি হলে কি পান করা যায়?

A: গরম পানি, আদা চা, হালকা মধু।

Q7: কানের ভিতর ও গলায় চুলকানি কেন হয়?

A: এলার্জি, সংক্রমণ, একজিমা।

Q8: মধু খেলে কি এলার্জি কমে?

A: কিছু মানুষের জন্য হালকা সহায়ক, কিন্তু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সম্পূর্ণ নয়।

Q9: সবচেয়ে বেশি এলার্জিযুক্ত ১০টি খাবার কী?

A: বাদাম, দুধ, ডিম, মাছ, শেলফিশ, সোয়া, গম, চিনাবাদামজাতীয় খাবার, কিছু ফল, সংরক্ষক/এডিটিভ।

Q10: এলার্জি হলে কি ঝিনঝিন হতে পারে?

A: হ্যাঁ, হাত-পা বা মুখে ঝিনঝিন ভাব হতে পারে।

উপসংহারঃচর্ম এলার্জি দূর করার উপায়

উপরে আমরা চর্ম এলার্জি দূর করার উপায় সম্পর্কে জেনেছি যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি চর্ম এলার্জি পুরোপুরি ভালো রাখতে হলে আপনাকে, তুমি বা আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু সচেতন পরিবর্তন আনা জরুরি। এলার্জির মূল কারণ যেমন ধুলাবালি, কিছু খাবার, কেমিক্যাল বা প্রসাধনী এড়িয়ে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। 

ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা, হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনে শক্ত সাবান বা পারফিউম ব্যবহার না করলেই অনেক সমস্যা কমে যায়। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। সব মিলিয়ে, নিয়মিত যত্ন ও সঠিক চিকিৎসাই চর্ম এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url