আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা, লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া চিকিৎসা ও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ
আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা, লক্ষণ, কারণ, পুরাতন আমাশায় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা ও
আমাশায় রোগের ওষুধ কোনটি বা অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কোনগুলো ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা
এই পোষ্টের মাধ্যমে আলোচনা করতে চলেছি। আমাশায় রোগ সাধারণত একটি অনুজীবী দ্বারা
সংক্রমিত একটি রোগ যেটা সাধারণত আমাদের অপরিষ্কার পানি ও খাবার গ্রহণ ও
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে হয়ে থাকে।
আমাশায় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকগুলো খাবার তালিকায় রয়েছে যেগুলো
নিয়ম মেনে গ্রহণ করলে আমাশয় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তাহলে আমাশয়
রোগীর খাবার তালিকা ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসা যাক।
আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা
বাচ্চাদের আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা কি? আমাশয় হলে শরীর খুব দ্রুত পানি ও লবণ
হারায়, তাই খাবার বাছাইয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। এ সময় এমন খাবার খেতে হবে যা
সহজে হজম হয়, পেটকে শান্ত রাখে এবং শরীরে শক্তি জোগায়। সাদা ভাত, নরম
খিচুড়ি, পাতলা ডাল, সেদ্ধ আলু, পাকা কলা, টোস্ট বা শুকনো বিস্কুট ভালো
বিকল্প।
লাউ, ঝিঙে, পেঁপে জাতীয় সবজি সেদ্ধ করে খেলে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে। পাশাপাশি
ডাবের পানি, ওআরএস বা লবণ-চিনির পানি শরীরের পানিশূন্যতা রোধে খুব কার্যকর।
প্রয়োজনে পাতলা সবজি বা মুরগির সুপও খাওয়া যেতে পারে। আমাশয়ের সময় কিছু
খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলা দরকার। ঝাল, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
পেটের সমস্যা বাড়ায়।
কাঁচা সবজি ও সালাদ হজমে কষ্ট করে। দুধ ও বেশি দুগ্ধজাত খাবার অনেক সময়
ডায়রিয়া বাড়াতে পারে। গরু বা খাসির ভারী মাংস, সফট ড্রিংক, কফি এবং অতিরিক্ত
মিষ্টি খাবার থেকেও দূরে থাকা ভালো। খাওয়ার নিয়মও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একবারে
বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত। সব খাবার পরিষ্কার ও গরম থাকা
দরকার।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে যাতে শরীর দুর্বল না হয়ে পড়ে। বিশ্রাম নিলে দ্রুত
আরোগ্য পাওয়া সহজ হয়। যদি পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসে, জ্বর থাকে বা শরীর
খুব দুর্বল লাগে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো
সঠিক যত্ন নিলে আমাশয় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
আমাশয় রোগীর খাবার খাওয়ার নিয়ম
আমাশয় বা ডায়রিয়া থাকলে খাদ্য খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে রোগ দ্রুত ভালো হতে পারে। নিচে কিছু মূল নিয়ম দেওয়া হলো:
- ভাত, খিচুড়ি, সেদ্ধ আলু, রুটি (ময়দা নয়, হালকা গমের রুটি) খেতে পারেন।
- দুধ বা দুধজাত খাবার যদি হজমে সমস্যা করে, তবে সীমিত বা একেবারেই বাদ দিতে পারেন।
- শরীরের পানি কমে গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। তাই প্রচুর পানি, ORS (oral rehydration solution), জুস বা হালকা স্যুপ খাওয়া জরুরি।
- ঠাণ্ডা এবং গ্যাসযুক্ত পানীয় এড়ানো ভালো।
- তেল, মশলাদার খাবার, ভাজা খাবার, সস বা গ্রেভি এড়ান।
- কাঁচা শাকসবজি বা খুব বেশি ফাইবারের খাবার কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়াতে পারে।
- পাকা কলা, আপেল (সেদ্ধ বা চাটনি আকারে) খেতে পারেন।
- দই বা প্রোবায়োটিক খাবার হজম ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- একসাথে অনেক খাওয়া না করে দিনে ৫–৬ বার হালকা খাবার নিন।
- খাবার ধীরে ধীরে খেতে হবে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাবেন, এতে হজম সহজ হয়।
সাদা আমাশয় রোগের ঔষধের নাম
সাদা আমাশয় সাধারণত আমিবা সংক্রমণে হয়। এর চিকিৎসায় কিছু নির্দিষ্ট
অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। নিচে প্রচলিত ওষুধের নাম দিচ্ছি,
তবে এগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে খাওয়া উচিত নয়। চলুন তাহলে সাদা
আমাশয়ের ব্যবহৃত ওষুধের নাম সম্পর্ক আলোচনা করা যায়ঃ
ডোজ এবং কতদিন খেতে হবে তা রোগীর বয়স ও অবস্থার উপর নির্ভর করে। ভুল ডোজে খেলে রোগ পুরোপুরি সারে না এবং আবার ফিরে আসতে পারে। যদি পায়খানায় রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকে, জ্বর আসে, বা শরীর দুর্বল লাগে, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। চাইলে রোগীর বয়স বললে সাধারণ চিকিৎসা কাঠামো বুঝিয়ে দিতে পারি।
- Metronidazole
- Tinidazole
- Ornidazole
- Secnidazole
- Diloxanide furoate
- Paromomycin
- ORS বা স্যালাইন পানি
- প্রয়োজনে জ্বর বা পেটব্যথার সাধারণ ওষুধ
ডোজ এবং কতদিন খেতে হবে তা রোগীর বয়স ও অবস্থার উপর নির্ভর করে। ভুল ডোজে খেলে রোগ পুরোপুরি সারে না এবং আবার ফিরে আসতে পারে। যদি পায়খানায় রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকে, জ্বর আসে, বা শরীর দুর্বল লাগে, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। চাইলে রোগীর বয়স বললে সাধারণ চিকিৎসা কাঠামো বুঝিয়ে দিতে পারি।
পুরাতন আমাশয় রোগের লক্ষণ
পুরাতন বা দীর্ঘদিনের আমাশয় মানে হলো সংক্রমণ পুরোপুরি না সেরে অন্ত্রে লুকিয়ে থাকা জীবাণু বারবার সমস্যা তৈরি করছে। এতে লক্ষণগুলো হঠাৎ নয়, ধীরে ধীরে চলতে থাকে। এ ধরনের আমাশয়ে বারবার পাতলা পায়খানা হয়, কখনো স্বাভাবিক আবার হঠাৎ ঢিলে হয়ে যায়। পায়খানার সঙ্গে শ্লেষ্মা থাকতে পারে, তবে সব সময় রক্ত নাও থাকতে পারে।আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কতদিন পর বোঝা যায়
অনেক সময় টয়লেটে যাওয়ার পরও মনে হয় পেট পুরো খালি হয়নি। পেটের নিচের দিকে
ব্যথা বা মোচড় ধরা অনুভূত হয় এবং গ্যাসের সমস্যা থাকে। ক্ষুধা কমে যায়,
খাওয়ার পর অস্বস্তি লাগে, শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওজন কমতে পারে।
কিছু রোগীর মাথা ঘোরা, হালকা জ্বর বা সব সময় ক্লান্ত লাগার মতো অনুভূতি
থাকে।
দীর্ঘদিন চললে শরীরে পানিশূন্যতা ও পুষ্টির ঘাটতিও তৈরি হতে পারে। যদি এ ধরনের
লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তাহলে পায়খানার পরীক্ষা করে সঠিক জীবাণু
শনাক্ত করা দরকার। ঠিকমতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যা বারবার ফিরে আসে, তাই
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
রক্ত আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত?
উপরে আমরা আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানলাম এবার চলুন রক্ত আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত তা জেনে আসা যাক। রক্ত আমাশয় হলে খাবার নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময় অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত থাকে এবং সহজে হজম হয় এমন খাবার দরকার। এ অবস্থায় সাদা ভাত, নরম খিচুড়ি, পাতলা ডাল, সেদ্ধ আলু, পাকা কলা এবং টোস্ট বা শুকনো বিস্কুট খাওয়া ভালো।
লাউ, ঝিঙে, পেঁপে বা গাজরের মতো সবজি ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেতে হবে। ডাবের পানি,
ওআরএস বা লবণ-চিনির পানি শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে জরুরি। হালকা মুরগির সুপও
উপকারী। ঝাল, ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার, কাঁচা সবজি, সালাদ, গরু বা খাসির
মাংস, সফট ড্রিংক, কফি এবং অতিরিক্ত মিষ্টি এ সময় এড়িয়ে চলা উচিত।
দুধ ও বেশি দুগ্ধজাত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়াতে পারে, তাই
সাময়িকভাবে না খাওয়াই ভালো। অল্প অল্প করে বারবার খাবেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম
নেবেন এবং সব খাবার পরিষ্কার ও গরম রাখবেন। রক্ত আমাশয় হলে শুধু খাবার নয়,
সঠিক ওষুধ চিকিৎসা জরুরি। রক্তসহ পায়খানা, জ্বর বা তীব্র পেটব্যথা থাকলে দেরি
না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।
রক্ত আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত না?
রক্ত আমাশয় হলে এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খাওয়া আমাদের একদম উচিত নয়। রক্ত আমাশয় হলে কিছু খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলা দরকার, কারণ এগুলো অন্ত্রকে আরও উত্তেজিত করে এবং রক্তপাত বাড়াতে পারে। ঝাল খাবার, অতিরিক্ত মরিচ বা মসলাযুক্ত তরকারি খাওয়া যাবে না। ভাজাপোড়া ও বেশি তেলযুক্ত খাবার হজমে কষ্ট করে, তাই বাদ দিতে হবে।আরো পড়ুনঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ওষুধের নাম
গরু, খাসি বা হাঁসের মতো ভারী মাংস এ সময় খাওয়া উচিত না। কাঁচা সবজি, সালাদ
এবং অপরিষ্কার ফল অন্ত্রে সংক্রমণ বাড়াতে পারে। দুধ ও বেশি দুগ্ধজাত খাবার
অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বাড়ায়, তাই সাময়িকভাবে এড়ানো ভালো। সফট ড্রিংক,
কফি, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং দোকানের প্যাকেটজাত জাঙ্ক ফুড থেকেও দূরে থাকতে হবে।
খুব ঠান্ডা খাবার বা ফ্রিজের খাবার না খাওয়াই নিরাপদ।
পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
আমাশয় রোগীর খাবার তালিকার একটি ধারণা পাওয়ার পর আমাদের পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জানা উচিত। পুরাতন আমাশয় বা দীর্ঘদিনের আমাশয় এমন একটি সমস্যা, যা বারবার ফিরে আসে এবং শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া যত্ন ও খাবারের নিয়ম মেনে চললে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া চিকিৎসা সহায়ক পদ্ধতি, মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়।পুরাতন আমাশয়ে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। ওআরএস বা লবণ-চিনির ঘরোয়া স্যালাইন পান করলে শরীরের লবণের ঘাটতি পূরণ হয় এবং দুর্বলতা কমে। ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। এটি অন্ত্রকে ঠান্ডা রাখে এবং হজমে সহায়তা করে।
প্রতিদিন ১–২ বার ডাবের পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়। পাকা কলা সহজপাচ্য এবং
অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এটি পাতলা পায়খানা কমাতেও
কার্যকর।
সাদা ভাত রান্নার পরের মাড় হালকা ও সহজপাচ্য। এটি পেটকে শান্ত রাখে এবং শক্তি জোগায়।
সাদা ভাত রান্নার পরের মাড় হালকা ও সহজপাচ্য। এটি পেটকে শান্ত রাখে এবং শক্তি জোগায়।
লাউ, ঝিঙে, পেঁপে বা গাজর ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেলে হজমে চাপ পড়ে না এবং পেট
আরাম পায়। পুরাতন আমাশয়ের অন্যতম কারণ পুনরায় সংক্রমণ। তাই খাবার আগে হাত
ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
Metronidazole
Tinidazole
Ornidazole
Secnidazole
Diloxanide furoate
Paromomycin
Ciprofloxacin
Azithromycin
Cefixime
জ্বর ও তীব্র পেটব্যথা হলে
কয়েক দিনের বেশি সমস্যা চললে
পুরাতন আমাশয় রোগের এলোপ্যাথিক ঔষধের নাম
পুরাতন বা দীর্ঘদিনের আমাশয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত অন্ত্রে থাকা আমিবা বা ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি নির্মূল করতে এলোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এই ওষুধগুলো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে খাওয়া ঠিক নয়, কারণ ভুল ডোজে রোগ পুরোপুরি সারে না। পুরাতন আমাশয় রোগের কিছু এলোপ্যাথিক ওষুধের নাম উল্লেখ করা হলোঃMetronidazole
Tinidazole
Ornidazole
Secnidazole
Diloxanide furoate
Paromomycin
আমাশয় রোগের এন্টিবায়োটিক
আমাশয় হলে সব সময় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। কারণ অনেক আমাশয় হয় আমিবা (পরজীবী) দ্বারা, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ লাগে। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত রক্ত আমাশয় হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়াল আমাশয়ের জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের নামCiprofloxacin
Azithromycin
Cefixime
কোন অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে তা নির্ভর করে
- সংক্রমণের ধরন
- রোগীর বয়স
- রোগের তীব্রতা
কখন অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত
পায়খানায় রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকলেজ্বর ও তীব্র পেটব্যথা হলে
কয়েক দিনের বেশি সমস্যা চললে
রক্ত আমাশয় রোগের ঔষধের নাম কি
রক্ত আমাশয় সাধারণত দুই কারণে হয় ব্যাকটেরিয়া বা আমিবা সংক্রমণে। কারণ অনুযায়ী ওষুধ আলাদা হয়। তাই পরীক্ষার পর চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে সঠিক পথ। তারপরও রক্ত আমাশয় হলে সাধারণভাবে ব্যবহার করা ওষুধগুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো।- Ciprofloxacin
- Azithromycin
- Cefixime
- Metronidazole
- Tinidazole
- Ornidazole
আমাশয় হলে কি মাছ খাওয়া যায়?
আমাশয় হলে মাছ খাওয়া যায়, তবে ভিত্তি হলো মাছের ধরন, রান্নার পদ্ধতি এবং পেটের অবস্থার ওপর। কিছু নিয়ম মেনে খেলে মাছ পেটের জন্য হালকা প্রোটিন সরবরাহ করে এবং শক্তি জোগায়।আমাশয় হলে যেসব মাছ খাওয়া যায় তাহলোঃ
- হালকা, পাতলা মাংসের মাছ যেমন রুই, পাঙ্গাস, ইলিশ ছোট পরিমাণে
- মাছ ভাজা বা তেলে ভাজা নয়
- ভালোভাবে সেদ্ধ বা বেঁকে রান্না করা
- ঝাল বা মসলা ছাড়া খাওয়া ভালো
আমাশয় হলে যেসব মাছ খাওয়া উচিত নয়
তেল, মশলা বা মরিচ দিয়ে রান্না করা মাছশুকনো বা ধোঁয়ানো মাছ (কারণ এগুলো পেটের সমস্যা বাড়াতে পারে)
আমাশয় হলে কি ডিম খাওয়া যাবে?
আমাশয় হলে ডিম খাওয়া যায়, কিন্তু কিছু নিয়ম মেনে খেতে হবে। সঠিকভাবে খেলে ডিম সহজপাচ্য প্রোটিন জোগায় এবং পেটের জন্য হালকা থাকে। তবে ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম আছে যেমনঃ- সেদ্ধ ডিম বা ওমলেট হালকা করে রান্না করা
- ঝাল বা তেল বেশি না দিয়ে রান্না করা
- একবারে বেশি না খেয়ে ছোট পরিমাণে খাওয়া
সতর্কতা ও সাবধানতা
- ভাজা ডিম বা তেল-মসলাযুক্ত ডিমের খাবার
- কাঁচা ডিম বা আংশিক রান্না করা ডিম
- পেট খুব সংবেদনশীল হলে শুরুতে একটিমাত্র ডিম দিয়ে পরীক্ষা করুন।
- যদি ডায়রিয়া, পেট ব্যথা বা রক্তপাত বাড়ে, তবে ডিম খাওয়া বন্ধ করুন।
- শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে ডাক্তার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
রক্ত আমাশয় হলে করণীয়
রক্ত আমাশয় হলে দ্রুত এবং সতর্কভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, কারণ এটি অন্ত্রে সংক্রমণ বা ক্ষতের কারণে ঘটে। রক্ত আমাশয় হলে কি করনীয় তা নিচে দেওয়া হলঃরক্ত সহ পায়খানা হলে পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের ধরন নির্ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক ডায়াগনসিসের পরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ (অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক বা অ্যান্টিবায়োটিক) খেতে হবে।
- রক্ত আমাশয়ের কারণে শরীরে পানি ও লবণ কমে যায়।
- ORS বা লবণ-চিনির পানি ব্যবহার করুন।
- ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে ছোট পরিমাণে ঘন ঘন পানি খাওয়ান।
- সাদা ভাত, খিচুড়ি, পাতলা ডাল, সেদ্ধ আলু, পাকা কলা
- হালকা স্যুপ বা সেদ্ধ সবজি (লাউ, গাজর, পেঁপে)
- ঝাল, তেল বেশি, ভারী মাংস ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
- হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্ন পানি ও রান্নার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
- যদি রক্তপাত বেশি হয়
- জ্বর, শক্তি হ্রাস বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়
আমাশয় সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন সমূহ(FAQ)
আমাশয় হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
আমাশয় হলে সাধারণত শরীরে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদির ঘাটতি দেখা যায় এছাড়াও ক্লান্তি লাগা, দেহের পানি শূন্যতা, বমি বমি ভাব সাথে জ্বর থাকা, পেটব্যথা ও গ্যাসের সমস্যা, খাদ্য হজম হতে সমস্যা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।ডিম খেলে কি আমাশয় ভালো হয়?
ডিম খেলে সরাসরি আমাদের আমাশয় সমস্যা ভালো হয় না তবে ডিমে থাকা প্রোটিন আমাদের শরীরের শক্তি যোগানোর পাশাপাশি আমাশয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় উপকারিতা পেতে পারেন। তবে ডিমে যেহেতু উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন থাকে সেজন্য এটি হজম হওয়া কিছুটা কঠিন। আমাশয় হলে ডিম খাওয়া যাবে কিনা তা নির্ভর করে আপনার হজম শক্তির উপর।অ্যামিবিক আমাশয়ের লক্ষণ?
অ্যামিবিক আমাশয় এর লক্ষণ ডায়রিয়ার থেকে কিছু টা আলাদা এর লক্ষণ গুলো হল হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, জ্বর হওয়া, শরীরে ক্লান্তি লাগা, দস্তে রক্ত আসা ও পেট ব্যাথার মতন লক্ষণ দেখা যেতে পারে।এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা আমাশয়ের কারণ?
এই ধরনের আমাশয় হয় সাধারণত প্রোটোজোয়া পরজীবের কারণে। এছাড়া এই রোগ হওয়ার প্রধান কারণ গুলো হল দূষিত পানি পান করা অথবা যে কোন কাজে ব্যবহার করা, অপরিষ্কার খাবার গ্রহণ করা, হাত না ধুয়ে ময়লা হাতে খাবার খাওয়া, ফল খাওয়ার আগে ভালো করে না ধোওয়া এছাড়াও এই আমাশয়ের দ্বারা সংক্রান্ত কোনো মানুষের সংস্পর্শে আসা।অ্যামিবিক আমাশয় কী?
অ্যামিবিক আমাশয় এন্টামিবা হিস্টোলাইতিকা নামক পরজীবী দ্বারা সংক্রামিত
হওয়া এক ধরনের আমাশয়। এই আমাশয় সাধারণত রক্ত যুক্ত দস্ত করে থাকে।
অ্যামিবিক আমাশয় কি নিরাময়যোগ্য?
হ্যাঁ, এই ধরনের আমাশয় সাধারণত নিরাময় যোগ্য। সাধারণত সঠিক নিয়মে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করলে ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।কোষ্ঠকাঠিন্য কি অ্যামিবিক আমাশয়ের লক্ষণ?
না, কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত অ্যামিবিক আমাশয় এর লক্ষণ না। তবে অ্যামিবিক আমাশয় থাকা অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।আমাশয়ের ৫টি লক্ষণ?
আমাশয়ের পাঁচটি লক্ষণ হল পেট ফোলা বা ব্যথা, বারবার দস্ত হওয়া, দুর্বলতা লাগা, ওজন কমে যাওয়া ও বারবার বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে ইত্যাদি।কোন প্রোটিস্টের কারণে আমাশয় হয়?
আমাশয় হওয়ার জন্য দায়ী পরজীবী হল এন্টামিবা হিস্টোলাইতিকা এই পরজবিটি
সাধারণত দূষিত খাবার অথবা পানি খাওয়া এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করার
কারণে ছড়ায় থাকে।
উপসংহারঃ আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা, লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া চিকিৎসা ও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ
উপরে আমরা আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা, আমাশয় রোগের লক্ষণ , আমাশয় হওয়ার
কারণ, আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, আমাশয় রোগের জন্য ঔষধ , রক্ত আমাশয় রোগ
হলে কোন এন্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হবে, আমাশয় রোগ হলে কোন খাবার খাওয়া যাবে
অথবা কোন খাবার খাওয়া যাবে না ও খাবার গুলো খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি।
বাংলাদেশের মানুষের আমাশ হয় খুবই একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে বাচ্চাদের এই
আমাশাগুলো হয়ে থাকে। এই আমাশয় পাওয়ার জন্য দায়ী হলো এন্টামিবা
হিস্টোলাইতিকা পরজীবী। তবে সঠিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ
করলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আশা করি এই পোস্টটি থেকে আপনারা উপকৃত
হয়েছেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url