মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম-দোয়া ও ঘরোয়া উপায় কি?


মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম মাথা ব্যথা কমানোর দোয়া, ঘরোয়া উপায় ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া , ঔষধ খাওয়ার নিয়ম, মাথা ব্যাথার ধরন, মাথা ব্যথার ওষুধ টাফনিল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম

মাথা ব্যাথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি খুবই সাধারণ সমস্যা যা কিছু ওষুধ খেলেই অথবা ঘরোয়া কিছু নিয়ম মেনে চললে ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। চলুন তাহলে মাথা ব্যথা কমানোর দশটি ওষুধের নাম সম্পর্কে জেনে আসি।

মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন

অনেকেই মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম সম্পর্কে জানতে চাই । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মাথা ব্যথা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন দুশ্চিন্তা, দূষিত পরিবেশ, শব্দ দূষণ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণে মাথাব্যথার সমস্যা হয়ে থাকে। মাথা ব্যথা বড় থেকে ছোট সব ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আমাদের মাথা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে এর মধ্যে বেশিরভাগ কারণেই দুশ্চিন্তার কোন ব্যাপার নেই।
migrane-and-headache
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা বড় ধরনের রোগের লক্ষণ হতে পারে। মাথা ব্যথা কোন রোগের জন্য হচ্ছে তা বুঝার জন্য আপনাকে মাথা ব্যথা কতটুকু তীব্র, ধরন কেমন, মাথার কোন অংশে বেশি ব্যথা অনুভব হচ্ছে এবং মাথা ব্যাথার স্থায়িত্ব কত এইসব কিছুর উপরে ভিত্তি করে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ মোনাস ১০ ( monas 10 ) এর কাজ কি?
তবে মাথা ব্যথা কমানোর বাজারে অনেক ভালো মানের ঔষধ পেয়ে যাবেন যেটা আপনার মাথাব্যথা সারাতে খুব ভালো কাজে দেবে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা মাথা ব্যাথার বিভিন্ন কারণ, মাথা ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায়, এর কার্যকরী ঔষধ, এই ওষুধগুলো খাওয়ার নিয়ম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি। চলুন তাহলে মাথা ব্যথা দূর করার উপায় ১০ টি ঔষুধের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

মাথা ব্যথা কমানোর ১৫টি ঔষধের নাম, কোম্পানির নাম ও জেনেরিক উপাদান সমূহঃ

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের মাথাব্যথা কমানোর ওষুধ পেয়ে যাবেন। তবে এর মধ্যে আপনার মাথাব্যথার ধরন অনুযায়ী ওষুধ বেছে নিতে হবে তাহলে ভালো উপকার পাবেন। মাথা ব্যাথা হলে কোন প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন ও ওষুধ সেবন করুন।
আরো পড়ুনঃ filmet 400 এর কাজ কি?
চলুন তাহলে মাথা ব্যথা কমানোর বাজারে পাওয়া যাওয়া সেরা কিছু ওষুধ সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করা যাক। এখানে আমরা অনেকগুলো ঔষধ কোম্পানির ব্র্যান্ড , ঔষধের নাম ও ওষুধের ডোজ সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করবঃ

  • (টাফনিল) Tufnil 200mg Tablet স্কাইপ ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড লিমিটেড। জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।
  • (টলমিক) Tolmic 200mg Tablet বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড।
  • (টলিফ) Tolfi 200mg Tablet বিনহাম ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড।
  • (প্যারাসিটামল) Paracetamol 500mg Tablet ।
  • (অ্যাসপিরিন) Aceclofenac 100mg Tablet জেনেরিক উপাদান acetylsalicylic acid ।
  • (আইবুপ্রোফেন) lbuprofen 200mg Tablet স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস । জেনেরিক উপাদান lbuprofen ।
  • (নামিটোল) Namitol 200mg Tablet এসিআই লিমিটেড।
  • (নাপা বা নাপা এক্সট্রা) Napa, Napa Extend Tablet বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড paracetamol ।
  • (মিগ্র্যাটল) Migratol 200mg Tablet বিয়াকোন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড। জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।
  • (মিনোপা) Minopa 200mg Tablet এসিআই ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড জেনেরিক উপাদান paracetamol।
  • (আরিন) Arain 200mg Tablet ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যাল। জেনেরিক উপাদান lbuprofen
  • (লজরিন) Lograin 200mg Tablet ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।
  • (এনিলিক) Anilic 200mg Tablet ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড । জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।
  • (মিগরেক্স) Migrex 200mg Tablet ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড । জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।
  • (মাইগান) Mygan 200mg Tablet chemist ল্যাবরেটরীস লিমিটেড। জেনেরিক উপাদান টলফেনামিক অ্যাসিড।

মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নামের তালিকা

প্যারাসিটামল (Paracetamol)

প্যারাসিটামল আমাদের দেশে পাওয়া যাওয়া খুবই পরিচিত ও সহজলভ্য একটি মাথা ব্যাথা দূর করার ঔষধ। এটি সাধারণত ফাস্ট, নাপা নামে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত হালকা ও মাঝারি মাত্রার মাথা ব্যথার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তেমন নেই বললেই চলে। প্যারাসিটামল আমাদের শরীরের প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপাদনের মাত্রা কমিয়ে মাথা ব্যথা প্রশমন করতে সাহায্য করে। এর ব্যবহার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১০০০ মি.গ্রা. ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পরপর নিতে হবে। তবে সারাদিনে ৪০০০ মি.গ্রা. এর বেশি প্রয়োগ করা উচিত নয়। প্যারাসিটামল এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারণত অনেক কম তবে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে লিভারের সমস্যা হতে পারে।

আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)

এটি আমাদের মাথা ব্যাথা দূর করার জন্য খুবই কার্যকর একটি ওষুধ। যা আমাদের মাঝেমধ্যে হওয়া ছোটখাটো মাথা ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। আইবুপ্রোফেন সাধারণত একটি নন স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAID) । এই ওষুধটি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর ২০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম নেয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করলে পাকস্থলীর সমস্যা, আলসার এবং কিডনি সমস্যা হতে পারে।

ন্যাপ্রোক্সেন (Naproxen)

ন্যাপ্রোক্সেন একটি দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা জন্য একটি সেরা NSAID ওষুধ। যা দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রদাহকে কমিয়ে মাথা ব্যথা অথবা মাইগ্রেনের সমস্যা ভালো করে। ঔষধ টি ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘন্টা পর পর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নেওয়া যেতে পারে। ন্যাপ্রোক্সেন গ্রহণের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন কিডনির সমস্যা, পাকস্থলীর সমস্যা ও রক্তপাতের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

এসিটামিনোফেন (Acetaminophen)

এসিটামিনোফেন সাধারণত প্যারাসিটামলের একটি বিকল্প ওষুধের নাম। এটি আমাদের মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম নিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে 24 ঘন্টায় ৪০০০ মিলিগ্রাম এর বেশি সেবন করা উচিত নয়। এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে বিশেষ করে অতিরিক্ত গ্রহণ বা ভুল নিয়মে গ্রহণ এর ফলে লিভারের সমস্যা অথবা কিডনির সমস্যা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সাফি সিরাপ এর উপকারিতা, সাফি সিরাপ খেলে কি ওজন কমে?

অ্যাসপিরিন (Aspirin)

অ্যাসপিরিন সাধারণত হালকা ও মাঝারি ধরনের মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথার জন্য উপকারী। এটি সাধারণত মাথা ব্যথা, জ্বর, হার্ট অ্যাটাক, দাঁতের ব্যথা ও শরীরের যে কোন ব্যথার জন্য কার্যকরী। বাংলাদেশে অ্যাসপিরিন ওষুধটি ডিসপ্রিন নামে পাওয়া যে থাকে। ট্যাবলেটটি খাওয়ার পর খাওয়া উত্তম। এটি আমাদের রক্তের প্লেটলেটের ক্রিয়াকে বন্ধ করতে সাহায্য করে। ওষুধটি সাধারণত ৩২৫ থেকে ৬৫০ মিলিগ্রাম করে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর সেবন করা যেতে পারে।

অ্যাসপিরিন গ্রহণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো হলঃ কিডনির সমস্যা, বমি হওয়ার, পেটে জ্বালাপোড়া হওয়া, গ্যাস্ট্রিক, রক্তপাতের সমস্যা ও পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে সেবন করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ওষুধটি খাওয়া উচিত নয়।

সুমাট্রিপটান (Sumatriptan)

সুমাট্রিপটান একটি ট্রিপটান গ্রুপের ঔষধ যা মাথা ব্যাথা ও মাইগ্রেনের জন্য খুবই কার্যকরী। এই ওষুধটি সাধারণত আমাদের মস্তিষ্কের সেরোটোনিন হরমোন বৃদ্ধির মাধ্যমে মাইগ্রেনের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ২৪ ঘন্টা পর পর ২৫ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ডজে নেয়া যেতে পারে।

সুমাট্রিপটান এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যেমন মাথা ঘোরা, উদ্বেগ,বমি বমি ভাব ও পেশীর দুর্বলতা হতে পারে। এই ঔষধটি আপনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযাযী গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

রিজাট্রিপটান (Rizatriptan)

রিজাট্রিপটান একটি ট্রিপটান গ্রুপের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ। এটি আমাদের ব্রেনের সেরোটোনিন রিসেপ্টর এর উদ্দিপানা সৃষ্টিতে করে ও মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়।
এই ওষুধটির ডোজ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৫ থেকে ১০ মি.গ্রা. প্রতি ২ ঘন্টা পর পর সেবন করা যেতে পারে। তবে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ মি.গ্রা. এর বেশি খাওয়া উচিত নয়।
রিজাট্রিপটান গ্রহণের ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে যেমন ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ও মুখের শুষ্কতা হতে পারে।

এর্গোটামিন (Ergotamine)

এর্গোটামিন ক্লাস্টার হেডেক মাইগ্রেনের সমস্যার জন্য জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তনালীর সংকোচন এর মাধ্যমে মাথা ব্যথা কমাতে সাহায়তা করে।
ওষুধটির ডোজ সাধারণত এক ঘন্টা পর পর ১ থেকে ২ মিলিগ্রাম সেবন করতে পারেন। তবে দিনে ৬ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়।
এর্গোটামিন অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে মাথা ঘোরা, বমি ও পাকস্থলীর সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডিক্লোফেনাক (Diclofenac)

ডিক্লোফেনাক NSAID এর একটি মাথা ব্যথার জন্য ব্যবহৃত হওয়া ওষুধ যা আমাদের প্রদাহকে কমিয়ে মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।
সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ মি.গ্রা. প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘন্টায় সেবন করা যেতে পারে।
ডিক্লোফেনাক অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে যেমন কিডনির সমস্যা, পাকস্থলীর সমস্যা ও রক্তচাপ বৃদ্ধি হতে পারে।

কেটোরোলাক (Ketorolac)

কেটোরোলাক একটি NSAID যা আমাদের তীব্র মাথা ব্যথার জন্য খুবই কার্যকরী। এটি আমাদের প্রদাহকে কমিয়ে মাথা ব্যথা দূর করে।
প্রাপ্তবয়স্ককরা এর ডোজ হিসেবে ১০ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম প্রতি ৬ ঘণ্টায় সেবন করা যেতে পারে। তবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রোধে ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে কেটোরোলাক ভুল নিয়মে গ্রহণ করলে কিডনির সমস্যা, রক্তপাতের সমস্যা ও পাকস্থলীর সমস্যা হতে পারে।

জ্বর মাথা ব্যাথা কি?

জ্বরের কারণে হওয়া মাথাব্যথা কে সাধারণত জ্বর মাথা ব্যথা বলা হয়। জ্বরের কারণে হাওয়া মাথাব্যথা একটি খুবই সাধারণ ব্যাপার। এটি হওয়ার কারণ সাধারণত শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আমাদের রক্তনালীর চাপ পরিবর্তন হয় এজন্য মাথাব্যথা সৃষ্টি হয়। শরীরের ভিতরে কোন ধরনের সংক্রমণ হলে এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। এর সাধারণত কিছু কারণ আছে যেমনঃ
  • ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া জ্বর বা সর্দি কাশি
  • চিকুনগুনিয়া অথবা ডেঙ্গু রোগ।
  • সাইনাসের সমস্যা।
  • ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি।
  • শরীরে পানি শূন্যতা ইত্যাদি।
জ্বর মাথা ব্যাথা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন কারোর যদি তিন দিনের বেশি জ্বর ও মাথা ব্যাথা থাকে, যদি মাথাব্যথা খুবই তীব্র হয়, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বমি ভাব, চোখের পিছনে ব্যথা শরীরের ব্যথা দিয়ে লক্ষণ দেখলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা এটি ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে।

জ্বর মাথাব্যথার ওষুধের নাম

জ্বর মাথাব্যথার ওষুধের নাম সম্পর্কে আমাদের ভেতর অনেকেই জানতে চাই। জ্বর মাথা ব্যাথা খুবই সাধারণ একটি রোগ যা খুব কম সময়ের ভেতর বা কিছু ওষুধ সেবনের ফলে কমে যায়। জ্বর মাথা ব্যথা কুমার অনেকগুলো ওষুধ আছে যেমন napa / napa extand, প্যারাসিটামল, অ্যাস পিরিন ইত্যাদি। একসাথে অনেকগুলো মাথা ব্যথার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। জ্বর যদি ১০২ ডিগ্রীর উপরে যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

মাথা ব্যথা ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

আমরা অনেকেই কোন না কোন সময় মাথা ব্যাথার সমস্যাই ভুগে থাকি। মাথা ব্যাথা হওয়ার কারণ সাধারণত মানসিক চাপ, বিষন্নতা, ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, উদ্বেগ, শারীরিক অসুস্থতা ও ডিহাইড্রেশন ইত্যাদির কারণে হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ মাথা ব্যথার সমস্যা শুধুমাত্র ওভার দ্য কাউন্টার ঔষুধ ও ও বিশ্রামের মাধ্যমে চলে যায়। তবে ঘন ঘন মাথা ব্যাথা ও দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যথা ও দুর্বলতা বড় কোন ধরনের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ জোভিয়া গোল্ড সিরাপ খেলে কি মোটা হয়?
এই মাথা ব্যাথা কমানোর অনেক ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় তবে এই ওষুধগুলো খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। এই নিয়ম না মানলে উপকারের পরিবর্তে অপকারিতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য আমাদের মাথা ব্যথার ঔষুধ খাওয়ার আগে ঔষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে এই ওষুধ খাওয়ার কিছু নিয়ম সম্পর্কে জেনে এসে যাকঃ
  • তীব্র মাইগ্রেনের ব্যথা বা মাথা ব্যথার জন্য ১ থেকে ২ ঘন্টা পর পর ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ওষুধ নিয়ে যেতে পারে।
  • হালকা বা মাঝারি মাথা ব্যথার জন্য ১০০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম ঔষুধ দিনে ৩ বার সেবন করতে পারেন।
  • তবে মাথা ব্যথা হলে ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কেননা ডাক্তার আপনাকে আপনার মাথাব্যথা ধারণ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ বা মাত্রা অনুযায়ী ঔষধ প্রেসক্রিপশন করতে পারেন। এছাড়াও সাধারণ মাথাব্যথা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী এজন্য মাথাব্যথার ওষুধ আমাদের বাসা বাড়িতে প্রতিটা সময় থাকা উচিত।

মাথা ব্যথার বিভিন্ন ধরন

মাথা ব্যথা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে যেমনঃ প্রাথমিক মাথা ব্যথা ও মাধ্যমিক মাথা ব্যাথা।

প্রাথমিক মাথা ব্যাথাঃ প্রাথমিক মাথা ব্যথা হল সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি খুবই সাধারণ রোগ। এই ধরনের মাথা ব্যাথা সব ধরনের মানুষকে ক্ষেত্রে কম বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণত আমাদের মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন উদ্বেগ, ঘুম কম হওয়া ও বিভিন্ন খাবার বা ছোটখাটো কারণে হয়ে থাকে। প্রাথমিক মাথা ব্যথা সাধারণত কোন বড় ধরনের অসুস্থ বা রোগের কারণ নয়। তবু আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে এটি চিন্তার, দুর্দশা ও অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই ধরনের মাথা ব্যথার জন্য চিন্তার কোন কারণ নাই সময়ের ব্যবধানে এটি ঠিক হয়ে যায়।

মাধ্যমিক মাথা ব্যাথাঃ মাধ্যমিক মাথা ব্যথা ক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কেন না এ ধরনের মাথাব্যথা বড় কোন রোগের পূর্বাভাস হতে পারে। এই মাথা ব্যথার কারণে আমাদের ঘাড় ও মাথার চারপাশে প্রচন্ড ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। ঘাড়ের চারপাশে ব্যথা আমাদের সংবেদনশীল স্নায়ুবিক পেশীর বা রক্তনালীতে প্রবাহ হতে পারে। ফলে এই ব্যথা আমাদের মস্তিষ্কে অনুভুতির সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের ব্যাথার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় কোন ধরনের রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণ মাথা ব্যথার কারণ সমূহঃ

মাথা ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। যা আমাদের কম বেশি সবার ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই ব্যথাগুলো সাধারণত বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে। এর কিছু কারণ সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করা যাকঃ
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা বা অতিরিক্ত টেনশন এর কারণে হতে পারে।
  • মাইগ্রেনের কোন সমস্যা হলে।
  • দীর্ঘ সময় কম্পিউটার অথবা মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে।
  • অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম করলে।
  • অনেক ক্ষেত্রে চোখের সমস্যার কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।
  • অতিরিক্ত ক্যাফিন জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করলে।
  • উচ্চ রক্তচাপের কারণে।
  • ঘাড়ের পেশীতে টান লাগলে।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় নেশা জাতীয় দ্রব্য বা অ্যালকোহল সেবন করলে।
  • ঘুম কম হলে বা দীর্ঘ সময় না ঘুমিয়ে থাকলে।
  • আমাদের সাইনাসের কোন ধরনের সংক্রমণ হলে।
  • মাথায় কোন ধরনের আঘাত লাগলে।
  • মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তচাপ বা রক্তক্ষরণ হলে।
  • দীর্ঘ সময় ট্রাভেল বা ভ্রমণ করলে।
  • পানি শূন্যতা বা ডিহাড্রেশন এর কারণে।
  • শারীরিক ক্লান্তি কারণে।
  • কোন ব্যক্তি যদি খুব বেশি মানসিক চাপে থাকে তাহলে তার মস্তিষ্কে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরিত হয় যা রক্তনালির তাপের উপর প্রভাব সৃষ্টি করে এর ফলে মাথা ব্যথা সৃষ্টি হয়।
  • মহিলারা বিভিন্ন ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ এর ঔষধ সেবন করে থাকেন এর ফলে মাথা ব্যথা সৃষ্টি হয়।
  • উচ্চ শব্দ, উজ্জ্বল আলো ও গন্ধ মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মাথা ব্যথা হতে পারে।

মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

উপরে আমরা মাথা ব্যথা কমানোর দশটি ওষুধের নাম সম্পর্কে জেনেছি। চলুন এবার মাথা ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে আসা যাক। মাথা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কেননা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো জানা থাকলে ঔষধ ছাড়াই খুব দ্রুত আমরা মাথা ব্যাথা উপশম পেতে পারি। মৃদু বা মাঝারি ধরনের মাথা যন্ত্রণার জন্য ঘরোয়া উপায় গুলো জানা অনেক ক্ষেত্রে উপকারী। চলুন তাহলে মাথা ব্যাথা কমানোর ১০ টি উপায় সম্পর্কে জেনে আসা যাক।
আরও পড়ুনঃ

  • ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে সচল রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া। অপর্যাপ্ত ঘুম আমাদের মাথা ব্যাথা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হতে পারে। এজন্য মাথাব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে ঘুম অপরিহার্য।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলে আমরা ডিহাইড্রেশনে ভুগে থাকি। আর এই ডিহাইড্রেশন আমাদের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ। তাই মাথা ব্যাথা দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণের পানি পান করুন।
  • অনেক সময় ক্লান্তির ফলে আমাদের মাথা ব্যাথা হয়ে থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে মাথা ব্যাথা কমতে পারে।
  • কপাল, মাথা বা ঘাড়ে গরম বা ঠান্ডা পানির স্যাক দিলে মাথা যন্ত্রণার সমস্যা অনেকটা দূর হয়।
  • ঘাড়ে বা কপালে হালকা মাসাজ করলে তৎক্ষণিক ভাবে মাথা ব্যথার সমস্যা থেকে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।
  • মাথা ব্যাথার আর একটি অন্যতম বড় কারণ হলো শব্দ দূষণ। এজন্য আমাদের কোলাহলপূর্ণ, যেখানে প্রচুর শব্দ সৃষ্টি হয় এমন স্থান থেকে দূরে থাকলে মাথা ব্যথা সমস্যা কম হয়।
  • তীব্র উজ্জ্বল আলো দিকে অনেকক্ষণ তাকায় থাকলে মাথা ব্যথা হতে পারে এজন্য তীব্র আলো থেকে দূরে থাকুন।
  • সাধারণ মাথা ব্যাথা হলে আদা চা খেতে পারেন এতে ভালো উপকার পাবেন।
  • আমরা অনেক সময় বিভিন্ন কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগে থাকি। এই দুশ্চিন্তা আমাদের মাথাব্যথা সহ আরো অনেক রোগের প্রধান কারণ। এজন্য যতটা সম্ভব দূর চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
  • মোবাইল কম্পিউটার অথবা যেকোনো ধরনের স্কিনে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থাকুন। 

মাথা ব্যথার মলমের নাম ও ব্যবহার

মাথা ব্যথা কমানোর ১৫টি ঔষধের নাম ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন সাথে মাথা ব্যথার মলমের নাম ও ব্যবহার জেনে, মাথা ব্যথা হলে ব্যবহার করুন। এতে করে ঔষুধের প্রয়োজন হয় না তৎক্ষণিক মাথা ব্যথা হলে এই মলম অত্যন্ত কার্যকরী।
  • ডাইক্লোফেন ১% মলম ( Diclofen 1% Ointment )
  • টাইগার বাম ( tiger balm )
  • vicks vaporub
  • amrutanjan
  • মিথাইল স্যালিসাইলেট ( Methyl Salicylate )
  • পেইন বাম
  • মুভ ( move )
  • মেন্থল ( Menthol )
  • নীলগিরি বাম ( nilgiri balm )

সতর্কতা ও সাবধানতা

মাথা ব্যথা কমানোর মলম ব্যবহারের কিছু নিয়ম ও সতর্কতা আছে। অল্প পরিমাণ মলম নিয়ে প্রদাহস্থানে আলতো ভাবে মাসাজ করুন। চোখ অথবা মুখের যেকোন স্পর্শকাতর স্থানে লাগা থেকে সতর্ক থাকুন। এই মলম গুলো খাওয়ার জন্য নয়। শিশুদের নাগালে বাইরে রাখুন। দিনে দুই থেকে তিন বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। এই মলম গুলো ব্যবহারের আগে প্রয়োজনে একজন ভালো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়াও মলমের প্যাকেটে থাকা নির্দেশনা সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চলুন।

মাথা ব্যথা ঔষুধের দাম সমূহঃ

মাথা ব্যথা কমানোর ১0টি ঔষধের নাম , খাওয়ার নিয়ম ও বিভিন্ন মাথাব্যথা ধরন সম্পর্কে জানলাম। এবার আমরা মাথা ব্যথা কমানোর ওষুধের দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। ওষুধ কেনার আগে অবশ্যই ওষুধের দাম সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। বাজারে বিভিন্ন মাথা যন্ত্রণার ওষুধের দাম বিভিন্ন হয়ে থাকে যেমনঃ
  • Tufnil 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Lograin 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Anilic 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ৮ টাকা।
  • Paracetamol 500mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা ৯১ পয়সা।
  • lbuprofen 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ০.৮৮ টাকা।
  • Arain 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Minopa 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ৭ টাকা ৩৯ পয়সা।
  • Migrex 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Migratol 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Aceclofenac 100mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ২২ টাকা ৫০ পয়সা।
  • Tolfi 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ৯ টাকা ৫০ পয়সা।
  • Namitol 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Tolmic 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ৮ টাকা ৩ পয়সা।
  • Mygan 200mg প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১০ টাকা।
  • Napa, Napa Extend প্রতি পিচ ট্যাবলেটের দাম মাত্র ১ থেকে ৩ টাকা।

মাথা ব্যথা কমানোর সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা।

উপরে আমরা মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম সম্পর্কে আলোচনা করেছি । চলুন এবার কিভাবে মাথাব্যথা সঠিক ওষুধ বেছে নেবেন সেই সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। মাথা ব্যথা কমানোর জন্য আমাদের সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা খুবই জরুরী কেননা প্রতিটি ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কার্যকারিতা ও কাজ করার ধরন ভিন্ন।
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
 
আপনি আপনার রোগের ধরন , লক্ষণ, আপনার শারীরিক অবস্থা ও মাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাথা ব্যথার ওষুধ বেছে নিন। যেমন আপনার মাথা ব্যথার সমস্যা যদি মৃত হয় তাহলে এসিটারমিনোফেল ও প্যারাসিটামল খেলে ভালো কাজ করবে আর যদি মাথা ব্যাথার সমস্যা খুবই তীব্র হয় তাহলে সুমাট্রিপটান বা রিজাট্রিপটান ভালো কাজ করবে।

মাথা ব্যথা কমানোর ব্যায়াম

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা মাথা ব্যথা কমার অনেক ব্যায়াম আছে যেগুলো নিয়মিত করলে মাথা যন্ত্রণা থেকে উপশম পাওয়া সম্ভব। মাথা ব্যথা কমানোর ব্যায়াম সম্পর্কে নিচে কিছু ধারনা নেওয়া যাকঃ

আরও পড়ুনঃ

মাথা ব্যাথা কমাতে নাসাকানসন ব্যায়াম

  • প্রথমে দুই পা কিছুটা ফাঁকা করে বসুন।
  • এরপর আপনার হাতগুলো দুই পায়ের হাঁটুর সমান দূরত্বে রাখুন।
  • ততটুকুই ফাঁকা রাখুন যতোটুকু আপনার পেট যাতে দুই পায়ের উড়ুর মাঝে বসতে পারে।
  • এরপর দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়া অবস্থায় হাত দুইটি সোজা মাথার উপর তুলুন।
  • এভাবে সাধারণত ২ থেকে ৩ মিনিট করলে ধীরে ধীরে আপনার মাথা যন্ত্রণা উপসম হবে।

মাথা ব্যথা কমাতে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম

  • শান্ত বা ধীরে নিঃশ্বাস ও গভীর শ্বাস প্রশ্বাস আমাদের শরীর ও মনকে শান্ত রাখে ও বিভিন্ন টেনশন, দুশ্চিন্তা থেকে বের হতে সাহায্য করে।
  • প্রথমে কোন একটি শান্ত কোলাহলমুক্ত পরিবেশে আসন করে বসুন।
  • এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।
  • এবার শ্বাস নেওয়ার দ্বিগুণ সময় শ্বাস ছাড়ুন।
  • এভাবে কিছু সময় শ্বাস প্রশ্বাস নিলে আপনি দুরস্থিতা থেকে মুক্তি পাবেন সাথে সাথে দুশ্চিন্তার কারণে হাওয়া মাথাব্যথার সমস্যা থেকেও পরিত্রান পাবেন।

অনুলোম বিলোম ব্যায়াম

  • অনুলোম বিলোম একটি শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম যা মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয় ও শরীর ও মনকে শান্ত রাখার মাধ্যমে মাথা ব্যথা দূর করে।
  • প্রথমে একটি শান্ত ও শৃংখল পরিবেশে আরামদায়ক আসন মেরুদন্ড সোজা করে বসুন।
  • এরপর চোখ দুইটি বন্ধ করুন।
  • এরপর নাকের নাসারন্ধ্রকে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের সাহায্যে বন্ধ করুন। এবং ধীরে ধীরে বাম নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন।
  • এবার আপনার বাম নাসারন্ধ অনামিকা আঙ্গুলের মাধ্যমে বন্ধ করুন ও ডান নাসারন্ধ্র এর মাধ্যমে শ্বাস ছাড়ুন।

    মাইগ্রেন ও সাধারণ মাথা ব্যথার মধ্যে পার্থক্য

    মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম, দাম, খাওয়ার নিয়ম ও মাথা ব্যাথার কারণ সম্পর্কে উপরে আমরা বিস্তৃত আলোচনা করেছি। এবার আমরা জানবো সাধারণ মাথা ব্যাথা ও মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। এই পার্থক্য জানতে পারলে আপনি নিজেই খুব সহজে কোনটা মাইগ্রেনের ব্যথা ও কোনটা মাথাব্যথা সেটা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

    সাধারণ মাথা ব্যাথা

    • সাধারণ মাথা ব্যথা অল্প ও মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে।
    • কপাল বা পুরো মাথা প্রদাহ অনুভব হতে পারে।
    • ঘাড়ে চাপ অনুভূতি হতে পারে।
    • পরিশ্রম এর ফলে মাথা ব্যাথা বেশি বৃদ্ধি পায় না।
    • এই ধরনের ব্যথাগুলো সাধারণত খুব বেশি মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা ও অস্থিরতার কারণে হয়ে থাকে।
    • এই ব্যথাগুলো সাধারণত কিছু সময়ের ভিতরে ঠিক হয়ে যায়।

    মাইগ্রেনে মাথা ব্যথা

    • মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথা মাঝারি ও তীব্র আকারের অনুভূতি হয়ে থাকে।
    • সাধারণত মাথার যে কোন এক সাইডে ব্যাথা হয়ে থাকে।
    • তীব্র উজ্জ্বল আলো ও ও শব্দের কারণে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।
    • বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে।
    • যেকোনো কাজ করলে বা মাথা নাড়ালে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।
    • চোখে ঝাপসা দেখতে পারে।
    • এই ব্যথাগুলো সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    মাইগ্রেনের মাথা ব্যথার বিভিন্ন লক্ষণ সমূহঃ

    মাইগ্রেনের এর মাথাব্যথার লক্ষণ বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। নিচে লক্ষণগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলোঃ

    প্রোড্রোম

    মাথাব্যথার কয়েক ঘন্টা অথবা দিন পর প্রায় ৬০% মানুষ মাইগ্রেনের প্রোড্রোম লক্ষণগুলো বুঝতে পারে। এই লক্ষণগুলো হলো তীব্র পানি তৃষ্ণা লাগা, স্ফীত হওয়া, মুড পরিবর্তন হওয়া, অবসাদ ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, খোদামন্দা বা খিদে না লাগা, গন্ধ আলো বা শব্দের প্রতি অতি সংবিধানশীলতা সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো দেখা যায়।

    দেহজ্যোতি

    দেহজ্যতি লক্ষণ গুলো সাধারণত স্নায়ুতন্ত্র থেকে এসে থাকে। এক্ষেত্রে দৃষ্টির নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণগুলো খুবই ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় ও ৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দেহ জ্যোতির লক্ষণ গুলো দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা দেখতে না পারা, শরীরের যেকোনো এক পাশ কসার হয়ে যাওয়া, কথার ভিতরে জড়তা সৃষ্টি হওয়া, হাত ও পা ভারী হয়ে আসা, স্বাদ গন্ধ বা স্পর্শের পরিবর্তন আসা, কানে কিছু একটা শব্দ হচ্ছে বা ঝুনঝুন শব্দ হওয়া, চোখে বিভিন্ন ধরনের আলোকরশ্মির রেখা কালো বিন্দু কিংবা হালকা ঝলকানির দেখা মাঝে মাঝে হ্যালুসিলেশন এর মত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া।

    আক্রমণ

    এই ধরনের মাইগ্রেনের মাথাব্যথা খুবই সাধারণ ব্যাথা হিসেবে শুরু হয়ে থাকে। এটি সাধারণত যে কোন শারীরিক পরিশ্রম এর সময় বাড়তে পারে। মাথা ব্যথা সাধারণত একপাশ থেকে আরেক পাশে হয়ে থাকে। প্রথমে এটি মাথার সামনের দিকে অনুভব হতে পারে এবং পরবর্তীতে এটি পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। এই মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথার রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব অথবা বমি হতে পারে এবং কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ।

    পোস্টড্রোম

    এই ধরনের মাথা ব্যথা গুলো একদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আর এর লক্ষণ গুলো হল ক্ষুধামান্দা সৃষ্টি হওয়া বা খিদে বেড়ে যাওয়া, দুর্বলতা, পেশীতে ব্যথা, ক্লান্তি সতেজ বা সুখ অনুভব ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

    মাইগ্রেনের বিভিন্ন ধরন সমূহঃ

    মাইগ্রেনের বিভিন্ন ধরনের রয়েছে যা মাথা ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে মাইগ্রেন রয়েছে যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হল অরা সহ মাইগ্রেন অথবা অরা ছাড়া মাইগ্রেন। 

    • নীরব মাইগ্রেনঃ এই মাথাব্যথা সাধারণত কোন লক্ষণ থাকে না এজন্য একে নীরব মাইগ্রেন বলা হয়।
    • মাসিক মাইগ্রেনঃ মহিলাদের মাসিক বা পিরিয়ডের সময় এই মাথা ব্যথা গুলো হয়ে থাকে।
    • পেটের মাইগ্রেনঃ এই ধরনের মাথাব্যথায় পেটের ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া সম্ভব না থাকে।
    • ভেস্টিবুলার মাইগ্রেনঃ এই মাথা ব্যাথা সাধারণত মাথা ঘুরে থাকে এছাড়াও ভারসাম্যহীনতার সমস্যা, বমি বমিভাব অথবা বমি হতে পারে।
    • চক্ষু সংক্রান্ত মাইগ্রেনঃ এই ধরনের মাইগ্রেনের মাথাব্যথায় আমাদের দুইটি চোখের আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে।

    মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের চিকিৎসা

    মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথার সাধারণত কোন নিরাময় নেই। তবে আমরা রোগীদের বিভিন্ন ওষুধ বা ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করি। এটি আমাদের যে কোন ধরনের মাথা ব্যথার উপসর্গ গুলো কমাতে বা তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ পর্যায়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

    সাধারণত আমরা আপনাদের বিভিন্ন থেরাপি, লাইফ স্টাইল পরিবর্তন, স্ট্রেস কমানো, রিল্যাক্সেশন থেরাপি ও ভালো ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে মাইগ্রেন এর কারণে মাথাব্যথা সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করি। এর সাথে আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গন বমি বমি ভাবের ঔষধ পরামর্শ করে থাকেন এবং তীব্র উজ্জ্বল আলো শব্দ ও গন্ধ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

    মাথা ব্যাথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা নির্ণয়

    আমাদের ডাক্তার বিভিন্ন উপসর্গের ভিত্তিতে আপনার কি সমস্যা সেটা নির্ণয় করে। যেমন আপনার লাইফ স্টাইল, খাদ্যাভ্যাস, চলাফেরা , স্টেস, স্বাস্থ্য ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে নিশ্চিত যে কোন সমস্যার জন্য আপনার মাইগ্রেন অথবা মাথা ব্যাথা করছে। আপনার মাথা ব্যথার ধরন ও লক্ষণ নিবিড় ভাবে পরিচালনার মাধ্যমে ডাক্তাররা আপনার সমস্যার সমাধান দিবেন। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আপনার কোন কোন লক্ষ্য গুলো পর্যালোচনা করবে তা নিচে বিস্তারিত দেয়া হলোঃ
    • আপনার মাথা ব্যাথার উপসর্গ গুলো কি কি।
    • আপনার পরিবারের অন্য কারোর মাথা ব্যথার সমস্যা আছে কিনা।
    • মাথা ব্যথার অস্তিত্বকাল কত।
    • কত সময় পর পর এই সমস্যাগুলো দেখা যায়।
    • আপনি কোন ধরনের ঔষধ ব্যবহার করছেন। কেননা বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।
    • আপনার অন্য কোন রোগ আছে কিনা। বিভিন্ন রোগের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।
    উপরের লক্ষণগুলো পরীক্ষা করা ছাড়াও ডাক্তার আপনার কিছু টেস্ট বা পরীক্ষা নিতে পারেন যেমনঃ
    • ইসিজি
    • এমআরআই
    • সিটি স্ক্যান
    • রক্ত পরীক্ষা

    কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

    সাধারণত আমাদের মাথা ব্যাথা সমস্যা কিছু ওষুধ ও ঘরোয়া উপায়ে নিরাময় হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী তা নিচে দেওয়া হলঃ
    • মাথাব্যথার সাথে যদি জ্বর, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা অথবা ঘাড় শক্তে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী।
    • মাথা ব্যথার তীব্রতা যদি খুব বেশি।
    • মাথা ব্যথার সমস্যা যদি দীর্ঘ কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে।
    • আপনার মাথা ব্যথার সমস্যা যদি এমন হয় যে আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে কোন কাজকর্ম করতে পারতেন না তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    মাথা ব্যথা কমানোর দোয়া?

    আমরা অনেক সময় বিভিন্ন কারণে মাথা ব্যথার সমস্যা ভোগে থাকি। এই মাথাব্যথা কমানোর অনেক উপায় ও ওষুধ রয়েছে যার মাধ্যমে মাথা ব্যাথা নিরাময় করা যায়। তবে এর থেকে ভালো উপায় হল মাথাব্যথার দোয়া মাধ্যমে মাথা ব্যাথা নিরাময়ের চেষ্টা করা। এই ব্যথা কমানোর দোয়া সাধারণত কোরআন বা হাদিস এর কোথাও তেমন ভাবে উল্লেখ নেই। 

    তবে আলেম ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে মাথা ব্যথা কমানোর দোয়া উল্লেখ ও নির্ণয় করেছেন। সেই দোয়া বা আমল গুলো নিয়মিত অথবা মাথা ব্যথার সময় আমল করলে অবশ্যই থেকে পরিত্রান পাবেন ইনশাল্লাহ। চলুন তাহলে মাথা ব্যথার দোয়া বা আমল সম্পর্কে আলোচনা করা যাকঃ

    ( আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়িদিনা মুহাম্মাদিন ওয়ালা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম ) এই দোয়াটি সাতবার পাঠ করবেন।

    হযরত মুহাম্মদ সাঃ উল্লেখ করেছেন “তোমাদের ভিতরে যেই ব্যক্তি মাথাব্যথা স্থানে হাত রেখে তিন বার বিসমিল্লাহ পাঠ করবে ও আউজু বিকুদরাতিহি মিন শাররি মা তুআনি ওয়া তাজিদু ওয়া তুহাজিরু সাতবার পাঠ করবে তার মাথাব্যথা ভালো হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

    কিছু সাধারণ প্রশ্নঃ( FAQ )

    ১:- মাথা ব্যথার সবচেয়ে ভালো মলম কোনটি?

    মাথা ব্যাথার সবচেয়ে ভালো মলম গুলোর ভিতরে ডাইক্লোফেন ১ % ও ডাইক্লোফেন ১ % অন্যতম।

    ২:- কি খেলে মাথা ব্যথা দ্রুত কমে?

    মাথা ব্যথা কমানোর জন্য ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে পারেন যেমন তরমুজ, বাদাম মাশরুম ও পানি ইত্যাদি।

    ৩:- ক্লাস্টার মাথাব্যথার লক্ষণ কী কী?

    ক্লাস্টার মাথাব্যথা হল এক ধরনের তীব্র মাথাব্যথা যার ফলে আমাদের চোখের পাতা নেমে আসে, চোখের চারপাশে ব্যথার সৃষ্টি হয়, নাক বন্ধ হয়ে আসে ও চোখ দিয়ে পানি পরার মতন লক্ষণ সৃষ্টি হয়।

    ৪:-পানি কম খেলে কি মাথা ব্যথা হয়?

    হ্যাঁ, পানি কম খেলে মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ৫:-খাওয়ার পর মাথাব্যথার কারণ কী?

    সাধারণত শর্করা জাতীয় খাবার মাথা ব্যথা সৃষ্টি করে। এজন্য শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পরিমাণের পানি পান করতে হবে।

    উপসংহারঃ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম-দোয়া ও ঘরোয়া উপায়।

    উপরে আমরা মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম-দোয়া ও ঘরোয়া উপায় , ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মাথা ব্যথা ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মাথা ব্যাথা সমস্যা বিভিন্ন ধরনের ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

    মাথা ব্যাথার সমস্যা খুবই সাধারণ তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি কোন বড় ধরনের রোগের পূর্বাভাস হতে পারে। এজন্য মাথাব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন। আশা করা যায় এই পোষ্টের মাধ্যমে তাদের মাথা ব্যথার সমস্যা রয়েছে তারা উপকৃত হবেন।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url