সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ কি? সিজারের পর দ্রুত সেলাই শুকানোর উপায়, বেল্ট
পড়ার নিয়ম, সেলাই শুকাতে কত সময় লাগে । সিজারের পর শোয়ার নিয়ম ইত্যাদি
সম্পর্কে আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে আলোচনা করতে চলেছি।
আমাদের দেশে প্রতিবছর অসংখ্য মহিলারা সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। এই সময়
অনেকের ক্ষেত্রে ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দেয়। অনেক সময় ইনফেকশন বিভিন্ন বড় ধরনের
রোগে পরিণত হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে আসা যাক সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো
কি কি?
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম-দোয়া ও ঘরোয়া উপায় কি?
শিশুটি যখন খাওয়া শুরু করবে তখন আপনি আপনার অন্য একটি হাত তার মাথাটি নিচে ব্যবহার করুন। আপনার দুই হাত একই দিকে রেখে কনুই বাঁকিয়ে বাচ্চাকে ধরে রাখুন। তার মাথার নিচে আপনার হাতটি থাকা অবস্থায় শিশুকে স্তন খেতে সহায়তা করুন। এই কাজগুলো করার সময় আপনি চাইলে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।
কাটা স্থান সব সময় শুকনো রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভিজে স্থানে সব সময় ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস ও বিভিন্ন রোগ জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়। এজন্য কাটা স্থান সবসময় শুকনো রাখা উচিত। এতে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়।
সিজারের পর পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত কেননা সিজার একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন যার পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়। আর সময় বিশ্রামের পরিবর্তে পরিশ্রম করলে সেলাইয়ের স্থানে টান লেগে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শরীর সব সময় সচল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা আমাদের শরীর যত সক্রিয় থাকবে শরীরে তত বেশি রক্ত প্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। যদি কাটা স্থানে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় তাহলে ক্ষত দ্রুত শুকায়। তবে মাথায় রাখতে হবে এই পরিশ্রম যেন খুব বেশি না হয় পরিশ্রম বেশি হলে সেলাইয়ের টান লাগার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি হালকা পরিশ্রম করতে পারেন। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে সিজারের পর ক্ষত শুকানোর আগ পর্যন্ত কোন প্রকার ভারী কাজ করা যাবে না।
আরো পড়ুনঃ
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি তার শরীরের যে কোন ধরনের ক্ষত দ্রুত শুকায়। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সিজারের পর বেশি করে ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার, ডিম, দুধ মাংস, মুরগি, মাছ , আইরন, ফলিক এসিড ইত্যাদি খাবার সিজারের পর কমপক্ষে তিন মাস খেতে হবে।
সিজারের পর বেশি বেশি পানি পান করা সেলাই দ্রুত শুকানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের পর অনেক মহিলার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেটে অনেক চাপ পড়ে ও কাটা স্থানে আঘাত লাগতে পারে। এজন্য কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা হলে বেশি করে পানি পান করুন। এছাড়াও আপনার খাবার তালিকায় প্রচুর পরিমাণের ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
উপরের এই নিয়ম গুলো সঠিক নিয়মে পালন করলে আশা করা যায় আপনার সিজারের সেলাই দ্রুত শুকাতে সাহায্য করবে।
তবে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের ভেতর সেলাই অনেকটা শুকিয়ে যায়। তবে পুরোপুরি ভাবে শুকাতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। সেলাই দ্রুত শুকানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে কাটার পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন করলে আশা করা যায় খুবই দ্রুত আপনার সেলাই গুলো শুকিয়ে যাবে।
আরো পড়ুনঃ
সিজারের পর যখন শরীরে এনেস্থেশিয়ার প্রভাব কেটে যায় তখন সাধারণত বেল্ট ব্যবহার করা হয়। বেল্ট ব্যবহার করার মূল কারণ পেট কে বিভিন্ন আঘাত থেকে রক্ষা করা ও পেটের মেদ কমানো। এজন্য ডাক্তার আপনাকে আপনার পেটের মাপ অনুযায়ী বেল্ট পড়ার নিয়ম বলে দেবে। তবে এই বেল্টগুলো খুব বেশি শক্ত বা টাইট করে পড়া উচিত না।
অনেকেই মনে করতে পারেন বেল্ট পড়লে কাটা স্থানে চাপ পড়তে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি হওয়ার মূল কারণ আপনি আপনার পেটের সাইজ অনুযায়ী সঠিক বেল্ট পড়েননি এ কারণে পেটে চাপ পড়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সঠিক সাইজ অনুযায়ী বেল্ট পড়লে আপনার অপারেশনের জায়গায় ব্যথার পরিমাণ অনেক অংশে কমে যায়।
আবার কেউ কেউ মনে করেন সিজারের পর সব সময়ের জন্য বেল্ট ব্যবহার করা জরুরী। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে আপনি যখন চলাফেরা করবেন ঠিক তখন বেল্ট ব্যবহার করা উত্তম। যাতে কাটা অঞ্চলে আঘাত লেগে ব্যথা লাগার সম্ভাবনা কমে। তাছাড়াও মহিলাদের শোয়ার সময় বেল্ট খুলে ঘুমানো উচিত। এতে আপনার ঘুমের সমস্যা হবে না। সিজারের পর ১ থেকে ২ সপ্তাহ বেল্ট পড়া যথেষ্ট। এই বেল্ট মহিলাদের কাটা অঞ্চলে ঝাকুনির আঘাত থেকে রক্ষা করে।
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ ও উপসর্গ
সিজার শব্দটির সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। সিজারের পরবর্তীতে মায়েদের
শরীরে যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। কেননা সিজারের পড়ে মায়েরা অনেক দুর্বল
হয়ে যায় এছাড়া বিভিন্ন রোগে ভাগেন। তাছাড়াও সিজারের পরে ইনফেকশনের
সম্ভাবনাতো রয়েছে। একজন সিজার করা মায়ের অবশ্যই এ বিষয়ে জানা উচিত যে
সিজারের পরে ইনফেকশন বা সংক্রমণ রোধ কিভাবে করবে , সেলাই শুকানোর উপায় ও
সিজারের পর বেল্ট করার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
যেকোনো অস্ত্র প্রচারের পর ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ তার কাছে যত্নের ব্যাপারে সচেতন
হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সময় অনুযায়ী সঠিক যত্ন না নিলে ক্ষতস্থানে
বিভিন্ন জটিল রোগী জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে
আমরা সিজারের পরবর্তী সময় সম্পর্কিত সকল বিষয়গুলো আলোচনা করব।
গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায়-প্রথমবার ও ২য় বার গর্ভবতী হওয়ার
লক্ষণ
ক্ষত স্থানে কোন প্রকার সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা বোঝার একমাত্র উপায় হল সিজার
বা কাঠাস্থানটি পর্যবেক্ষণ করা। ক্ষতস্থানটি যদি আপনি দেখতে না পান তাহলে অন্য
কাউকে অথবা ডাক্তারের মাধ্যমে কাটা স্থান পরীক্ষা করায় নিতে পারেন । কাটার
স্থানের এমন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন শরীরের
ক্ষতস্থানে ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়েছে কিনা । চলুন তাহলে ইনফেকশনের কিছু লক্ষণ
নিচে দেওয়া যায়ঃ
অনেক মহিলাদের ক্ষেত্রে সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়। তবে আমাদেরও তো
অনেকে জানে না এই লক্ষণগুলো কি কি। সিজারের পর ইনফেকশন এর লক্ষণ যদি দ্রুত
শনাক্ত করা যায় তাহলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। আর যদি
এই সংক্রমণ মূল লক্ষণগুলো বুঝতে দেরি করেন তাহলে এই সংক্রমণ গুলো আরো বড় আকার
ধারণ করতে পারে। এজন্য আমাদের সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা থাকা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলন তাহলে সিজারের পর সংক্রমণ এর লক্ষণ গুলো সম্পর্কে
আলোচনা করা যাকঃ
- শরীরে জ্বর থাকলে
- কাটা স্থানে প্রচন্ড তীব্র ব্যথা থাকলে
- প্রসাবের সময় কষ্ট হলে
- মাসিক এর সাথে যদি দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত আসে
- শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যদি অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে থাকে
- ক্ষত স্থানে ব্যথা সহ যদি লালচে অথবা ফোলাভাব থাকে
- প্রসবের পর পেটের ব্যথা কোমার পরিবর্তে যদি বৃদ্ধি পায়
- ক্ষতটি থেকে যদি পুঁজ বের হয় বা ফুলতে শুরু করে
- ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে ও সময়ের সাথে সাথে সেই দুর্গন্ধ কমে না আসলে।
- শরীরে যদি ১০০.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর উপর জ্বর থাকলে
- প্রস্রাব করার সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করলে
- যোনি থেকে খারাপ দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব নিঃসৃত হলে
- যোনি স্থানে রক্তক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে ।
- যোনির রক্তপাত জমাট বাঁধার মতো সমস্যা সৃষ্টি হলে
- পা ফুলে গেলে ও আঘাত লাগলে।
সিজারের পর ইনফেকশনের ছবি
সিজারের পর ক্ষতে সংক্রমণ কী?
সিজারের পর যদি ক্ষত স্থান ঠিকভাবে পরিচর্যা না করা হয় তাহলে সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ দেখাটা স্বাভাবিক। যেহেতু সিজার করলে আমাদের শরীরের নির্দিষ্ট অংশ কাটা হয় তাই অস্ত্রোপচারের পরবর্তীতে এটি অন্য কোন সাধারণ ক্ষতর থেকে আলাদা নয়। আমাদের শরীরে কোন ক্ষত স্থান থাকলে সেখানে রোগ জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ক্ষতস্থানে কোন সংক্রমণ ঘটে তাহলে এটি খুব দ্রুত নিরাময় করা যায় না।সিজারের মাধ্যমে প্রসবের পরে সংক্রমণের কারণগুলি
বর্তমানে ওষুধের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য শরীরের ক্ষতস্থান থেকে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কিছু কারণবশত এই স্বয়ং ক্রমানের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে সিজারের মাধ্যমে প্রসবের পরে স্ট্যাপেল বা নাইলন এর সেলাই করলে মহিলাদের ক্ষতের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
এ থেকে বাঁচতে এই নাইলন গুলোর বিকল্প হিসেবে পলিগ্লাইকোলাইড (পিজিএ) এর সেলাই
ব্যবহার করা অনেকটাই নিরাপদ। এই সুতোগুলো যেহেতু আরও ভালো করে শোষণ হয় ও
বায়োডেজেডেবল হয়। সিজারের পর সংক্রমণের কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলঃ
- অপারেশনের মাধ্যমে প্রসবের সময় মহিলাদের শরীর থেকে যদি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় ।
- সিজারের মাধ্যমে প্রসব ও শ্রম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে হয়েছে
- সিজারের পর যদি সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার অথবা ক্ষতের সংক্রমণ রোধে কোন প্রকাশ যত্ন না নিলে।
- অতীতে সিজারের মাধ্যমে প্রসব করা হলে
- গর্ভাবস্থায় যদি প্রসবকালীন সময়ের চেকআপ গুলো অনিয়মিত হয়।
- দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড গ্রহণ করলে
- অ্যামনিয়োটিক তরল জাতীয় পদার্থ ভ্রূণের ঝিল্লির সাথে সংক্রামিত হতে পারে এজন্য প্রসব চলাকালীন সময়ে কোরিওঅ্যামনিওনাইটিস বাড়তে পারে।
- শরীরে যদি ডায়াবেটিস বা এইচআইভির মত রোগ থাকে তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়।
- স্থূলত্বে এর সমস্যাই ভুগলে।
কিভাবে সিজারের ক্ষত সংক্রমণ নির্ণয় করবেন
দক্ষ চিকিৎসাগরা মহিলাদের সিজারের পরে মহিলাদের কাঁটা স্থান সম্পূর্ণ সংক্রমণ
মুক্ত আছে কিনা তার নিশ্চিত হওয়ার পরে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেয়। তবে অনেক
ক্ষেত্রে মহিলারা বাড়িতে যাওয়ার পর কাঁটা স্থানে সংক্রমণ দেখতে
পান।প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করা বাইরের সেলাই বা টেপ না খুলেই ক্ষত স্থানটি
পরীক্ষা করে।
পরবর্তীতে যদি দেখে অঞ্চল দিতে লালভাব ও ফোলাভাব রয়েছে তাহলে সংক্রমণ হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।কিছু সময় সেলাই গুলো ভালো ভাবে পরীক্ষা করা হাই । কাটা স্থান
কতটুক নিরাময় হয়েছে এই সম্পর্কে আরও ভালো করে বুঝতে কভারিং ব্যান্ডেজটি
সরিয়ে দেখা যেতে পারে। একটি সংক্রমণ সাধারণত প্রয়োজনের তুলনায় পূর্বেই সেলাই
গুলো ভেঙে ফেলতে পারে।
গর্ভাবস্থায় কবুতরের মাংস খাওয়ার উপকারিতা-কবুতরের মাংসের ক্ষতিকর দিক
সিজারের পর আপনার ক্ষতস্থান থেকে যদি পুজ বের হয় তাহলে ডাক্তার আপনাকে একটি
ইঞ্জেকশন দিবে ও পুঁজ গুলো ধীরে ধীরে বের করে ফেলবে। এছাড়াও ডাক্তার আপনার
ক্ষতস্থানটি পরীক্ষা করবে ও ক্ষতস্থান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করবে যেটা
ল্যাবের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ক্ষত স্থানে সংক্রমণ আছে কিনা তা নির্ণয় করবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আপনি কীভাবে আপনার ক্ষতের যত্ন নিচ্ছেন ও গত সপ্তাহ গুলোতে কী
কী সম্ভাব্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তা জানতে চাইবেন। এটি আমাদের সংক্রমণের
উৎস কোথা থেকে হয়েছে এই সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা দিবে।
যখন কাঁটা স্থানের চারপাশের টিস্যু গুলো ফুলে যায় বা লালচে হতে আরম্ভ করে এবং প্রচন্ড ব্যথা সৃষ্টি হয় তখন এই সংক্রমণকে সেলুলাইটিস বলে। এই সংক্রমণ হওয়ার মূল কারণ স্ট্যাফিলোকোকাল অথবা স্ট্রেপ্টোকোকাল স্ট্রেনের ব্যাকটিরিয়া দ্বারা আক্রমণ। এই সংক্রমনে সাধারণত পুঁজ খুব কম থাকে।
পেটের ফোঁড়াঃ
পেটের ফোড়া হলে কাটা অঞ্চলটি কোমল ও স্ফীত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ক্ষতের চারপাশের এলাকা ফুলে যেতে থাকে। এই ইনফেকশনে টিস্যুর ভেতর সংক্রামিত করে ব্যাকটিরিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এই ব্যাকটেরিয়া গুলো সাধারণত পোদের সৃষ্টি করে ও ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বেরোতে থাকে।
সিজারের পর সংক্রমণের প্রকার ভেদ সমূহঃ
সেলুলাইটিসঃযখন কাঁটা স্থানের চারপাশের টিস্যু গুলো ফুলে যায় বা লালচে হতে আরম্ভ করে এবং প্রচন্ড ব্যথা সৃষ্টি হয় তখন এই সংক্রমণকে সেলুলাইটিস বলে। এই সংক্রমণ হওয়ার মূল কারণ স্ট্যাফিলোকোকাল অথবা স্ট্রেপ্টোকোকাল স্ট্রেনের ব্যাকটিরিয়া দ্বারা আক্রমণ। এই সংক্রমনে সাধারণত পুঁজ খুব কম থাকে।
পেটের ফোঁড়াঃ
পেটের ফোড়া হলে কাটা অঞ্চলটি কোমল ও স্ফীত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ক্ষতের চারপাশের এলাকা ফুলে যেতে থাকে। এই ইনফেকশনে টিস্যুর ভেতর সংক্রামিত করে ব্যাকটিরিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এই ব্যাকটেরিয়া গুলো সাধারণত পোদের সৃষ্টি করে ও ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বেরোতে থাকে।
এন্ডোমেট্রাইটিসঃ
অনেক সময় এন্ডোমেট্রাইটিস সংক্রমণটি জরায়ুর ভেতরে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে ও জরায়ুর উপরিভাগে জ্বালা যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এই সাম্যসাটি সাধারণত ব্যাকটিরিয়া জনিত হয়ে থাকে যেটা এন্ডোমেট্রাইটিস নামে পরিচিত। এই ইনফেকশনটি অতিরিক্ত জ্বরসহ পেটে বা যোনি স্রাব সময় তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
থ্রাশঃ
অনেক সময় এন্ডোমেট্রাইটিস সংক্রমণটি জরায়ুর ভেতরে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে ও জরায়ুর উপরিভাগে জ্বালা যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এই সাম্যসাটি সাধারণত ব্যাকটিরিয়া জনিত হয়ে থাকে যেটা এন্ডোমেট্রাইটিস নামে পরিচিত। এই ইনফেকশনটি অতিরিক্ত জ্বরসহ পেটে বা যোনি স্রাব সময় তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
থ্রাশঃ
থ্রাশ সংক্রমণটি সাধারণত ক্যানডিডা নামক এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা সৃষ্টি হয়ে
থাকে। যেই মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদেরকে এই ছত্রাকটি বেশি
আক্রমণ করে। এছাড়াও যেই মহিলারা নিয়মিত স্টেরয়েড নেয় থ্রাশ ইনফেকশন হওয়ার
সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কাটা স্থানে ভাল ব্যাকটেরিয়া না থাকায় বা পরিমাণে কম
থাকায় সহজে ইস্ট সংক্রমণ শরীরে ঘা হতে পারে।
মূত্রের সংক্রমণঃ
অনেক মহিলাদের মূত্রত্যাগের সুবিধার জন্য ক্যাথেটারের প্রয়োজন পরে। এই ই-কোলি নামক ব্যাকটিরিয়ার কারণে মূত্রনালীর সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অনেক মহিলাদের মূত্রত্যাগের সুবিধার জন্য ক্যাথেটারের প্রয়োজন পরে। এই ই-কোলি নামক ব্যাকটিরিয়ার কারণে মূত্রনালীর সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সিজারের পর সংক্রমণের জটিলতা
নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসঃ এই সংক্রামটি আমাদের শরীরের ভালো টিসুগুলোকে
ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফ্যাসিয়াল ফাটলঃ এই অবস্থায় আমাদের শরীরের স্বাস্থ্যকর সমস্ত টিস্যু গুলো আরো ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ক্ষতের ডিহেসেন্সঃ সেলাই ও নিরাময় স্তর গুলো খুলে যেতে থাকে।
ক্ষত নির্গমনঃ এই অবস্থায় ক্ষত স্থানটি সম্পূর্ণ খুলে যায় ও অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
ফ্যাসিয়াল ফাটলঃ এই অবস্থায় আমাদের শরীরের স্বাস্থ্যকর সমস্ত টিস্যু গুলো আরো ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ক্ষতের ডিহেসেন্সঃ সেলাই ও নিরাময় স্তর গুলো খুলে যেতে থাকে।
ক্ষত নির্গমনঃ এই অবস্থায় ক্ষত স্থানটি সম্পূর্ণ খুলে যায় ও অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।
সিজারের পর সংক্রমণের চিকিৎসা
- ক্ষতস্থানটি ঠিকভাবে সেরে উঠছে কিনা সেই দিকে নিয়মিত খেয়াল রাখুন।
- ক্ষতস্থান থেকে কোন প্রকার তরল পদার্থ নির্গত হচ্ছে কিনা বা তরল পদার্থ জমাট বাঁধছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা।
- ক্ষতস্থানে কোন প্রকার পুঁজ থাকলে তা বের করার ব্যবস্থা করা।
- ক্ষত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে জীবাণুমুক্ত স্যালাইনের দ্রবণ ব্যবহার করা।
- ক্ষতটি থেকে যদি তরল পদার্থ বের হতে থাকে তাহলে সিজারের স্থানটিকে জীবাণুমুক্ত স্ট্রিপ দিয়ে প্যাক করে ফেলা
- কাটা স্থানটি নিয়মিত জীবাণাসক ঔষধ দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করা ও নিয়মিত ড্রেসিং করা।
- সিজারের পর সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণঅস্ত্রোপচারের পরবর্তীতে ক্ষত স্থানটি নিয়মিতভাবে যত্ন নিন।
- সিজারের স্থানে কোন প্রকার অস্বাভাবিক কিছু দেখলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- সিজারের পর অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়ম মেনে গ্রহণ করুন ও দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের ডোজ গুলো সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- নিয়মিতভাবে সাবধানে পরিষ্কার দ্রব্য দিয়ে ক্ষত টি পরিষ্কার করুন ও নিয়মিত ময়লা ড্রেসিং টি পরিবর্তন করুন।
- কাটা স্থানটির উপরে আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
- ক্ষতস্থান না শুকনো অবধি কোন প্রকার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- ক্ষতের উপর কোন প্রকার চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- ক্ষতটিতে কোন প্রকার আঘাত বা টান পেতে দেবেন না।
- শরীরের তাপমাত্রা যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।
- যদি ক্ষতস্থান টিতে ব্যথা,পুঁজ, বা ফোলাভাব লক্ষণ গুলো দেখতে পান তাহলে দক্ষ ডাক্তারের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
- সিজারের পর দ্রুত ক্ষত নিরাময়ের উপায়ব্যথা ও ফোলাভাবের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা বা ওষুধ গ্রহণ নিশ্চিত করুন।
- সতর্কতার সাথে হাঁচি দিন প্রয়োজনে হাঁচি দেওয়ার সময় পিঠ ও পেট এর সহায়তা দিন ।
- প্রচুর পরিমাণে তরল পানি ও পান করুন।
- সিজারের পর কোন প্রকার ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকুন।
- শরীরকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিন।
সিজারের পর সংক্রমণ ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সিজারের পর সংক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হলে শিশুকে দুধ খাওয়ানো অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় অনেকেই চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। এই অবস্থা থেকে বাঁচার কিছু উপায় আছে । এর জন্য আপনি যা করতে পারেন তাহলে একপাশে ফিরে শুন ও শিশুকে আপনার পাশে ধরে রাখুন। স্তনটিকে শিশুর মুখে ধাক্কা দিন ও শিশুকে ল্যাচ করতে দেন।শিশুটি যখন খাওয়া শুরু করবে তখন আপনি আপনার অন্য একটি হাত তার মাথাটি নিচে ব্যবহার করুন। আপনার দুই হাত একই দিকে রেখে কনুই বাঁকিয়ে বাচ্চাকে ধরে রাখুন। তার মাথার নিচে আপনার হাতটি থাকা অবস্থায় শিশুকে স্তন খেতে সহায়তা করুন। এই কাজগুলো করার সময় আপনি চাইলে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।
সিজারের সেলাই শুকানোর উপায়
উপরে আমরা সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সিজারের পরে সাধারণত যে স্থানে কাটা হয়েছে সেই জায়গায় সেলাই দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে সেলাই। এই সেলাই শুকানো নিয়ে অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়। আবার অনেকেই সেলাই শুকানোর সঠিক নিয়ম বা উপায় সম্পর্কে জানেন না। যার ফলে সিজারের পর সেলাই শুকাতে দেরি হয় অথবা বিভিন্ন ইনফেকশনের সম্ভাবনা থেকে যায়। চলুন তাহলে সিজারের সেলাই শুকানোর উপায় সম্পর্কে জেনে আসা যাক।কাটা স্থান সব সময় শুকনো রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ভিজে স্থানে সব সময় ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস ও বিভিন্ন রোগ জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়। এজন্য কাটা স্থান সবসময় শুকনো রাখা উচিত। এতে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়।
সিজারের পর পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত কেননা সিজার একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন যার পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে ক্ষতস্থান দ্রুত শুকিয়ে যায়। আর সময় বিশ্রামের পরিবর্তে পরিশ্রম করলে সেলাইয়ের স্থানে টান লেগে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শরীর সব সময় সচল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা আমাদের শরীর যত সক্রিয় থাকবে শরীরে তত বেশি রক্ত প্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। যদি কাটা স্থানে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় তাহলে ক্ষত দ্রুত শুকায়। তবে মাথায় রাখতে হবে এই পরিশ্রম যেন খুব বেশি না হয় পরিশ্রম বেশি হলে সেলাইয়ের টান লাগার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি হালকা পরিশ্রম করতে পারেন। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে সিজারের পর ক্ষত শুকানোর আগ পর্যন্ত কোন প্রকার ভারী কাজ করা যাবে না।
আরো পড়ুনঃ
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি তার শরীরের যে কোন ধরনের ক্ষত দ্রুত শুকায়। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সিজারের পর বেশি করে ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার, ডিম, দুধ মাংস, মুরগি, মাছ , আইরন, ফলিক এসিড ইত্যাদি খাবার সিজারের পর কমপক্ষে তিন মাস খেতে হবে।
সিজারের পর বেশি বেশি পানি পান করা সেলাই দ্রুত শুকানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপারেশনের পর অনেক মহিলার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেটে অনেক চাপ পড়ে ও কাটা স্থানে আঘাত লাগতে পারে। এজন্য কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা হলে বেশি করে পানি পান করুন। এছাড়াও আপনার খাবার তালিকায় প্রচুর পরিমাণের ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
উপরের এই নিয়ম গুলো সঠিক নিয়মে পালন করলে আশা করা যায় আপনার সিজারের সেলাই দ্রুত শুকাতে সাহায্য করবে।
সিজারের পর সেলাই শুকাতে কতদিন লাগে
সিজারের পর সেলাই শুকাতে কতদিন লাগে? সেটা নির্ভর করে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর এছাড়াও আপনি কোন ধরনের খাবার খাচ্ছেন, সেলাই ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন কিনা, ক্ষতস্থান কতটুকু পরিচর্যা করছেন ইত্যাদির উপর। সিজারের পর সেলাই শুকাতে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশিদিন সময় লাগে আবার কারোর ক্ষেত্রে কম।তবে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের ভেতর সেলাই অনেকটা শুকিয়ে যায়। তবে পুরোপুরি ভাবে শুকাতে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। সেলাই দ্রুত শুকানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে কাটার পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন করলে আশা করা যায় খুবই দ্রুত আপনার সেলাই গুলো শুকিয়ে যাবে।
সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয়
সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ দেখাটা খুবই স্বাভাবিক। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশিরভাগ ডেলিভারি নরমাল এর পরিবর্তে সিজারিয়ান ডেলিভারি বেশি হয়। যার ফলে অনেক সময় সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারির কারণে ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩২ ই লক্ষ্যেরও বেশি নারী সন্তান জন্ম দেন। যার ভেতরে ৪২ শতাংশ বাচ্চা প্রসব হয় সিজারের মাধ্যমে। এদের ভেতরে অনেকেরই সিজারের পর সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এমনকি পুনরায় অস্ত্র প্রচারের প্রয়োজন পড়ে। চলুন তাহলে সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয় সেই সম্পর্কে জেনে এসে যাক।- কোন মহিলা যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
- অপারেশন করার যন্ত্র গুলো যদি জীবাণুমুক্ত না হয়।
- হাসপাতালের পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হাই
- রোগী যদি ক্ষতস্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করে
- রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন পোশাক জুতা ইত্যাদি পরিষ্কার না থাকলে
- ক্ষতস্থানে সব সময় ভিজিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে
- সিজার করার জিনিসপত্র ঠিকভাবে জীবাণুনাশক এর মাধ্যমে পরিষ্কার না করলে
- সিজারের রুম সঠিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করলে
- রোগীর শরীরে যদি পুষ্টির অভাব থাকে
- সিজারের করার জন্য ব্যবহৃত পানি যদি জীবাণুমুক্ত না থাকে।
- এছাড়াও সিজারের পর আরো অনেক কারণে ইনফেকশন এর সম্ভাবনা হয়ে থাকে। এই ইনফেকশনগুলো অনেক সময় শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে এজন্য অবশ্যই আমাদের সিজারের পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার সাথে সাথে সঠিক নিয়মে ওষুধ গ্রহণ করা ছাড়াও উপরের নিয়মগুলো মেনে চললে এই সংক্রমণ গুলো থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব।
সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয়
সিজারের পর ইনফেকশন হলে কি করতে হবে এই বিষয়ে আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা। সিজারের পর যদি ইনফেকশন হয় তাহলে এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো করলে এই সংক্রমণ থেকে দ্রুত নিরাময় পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মহিলারা সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করে। এর ফলে তাদের তল পেটের চর্বি জামা সহ নানা রকম সমস্যা দেখা যায়। এজন্য আমাদের সিজারের পর সংক্রমণ হলে কি করনীয় এই সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ চলুন তাহলে তাহলে এই ইনফেকশন হলে কি করবেন এই সম্পর্কে আলোচনা করা যায়।- ইনফেকশন হলে ক্ষতস্থান ভালো করে ভায়োডিন বা ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
- ক্ষতস্থানে অপরিষ্কার হাত দিয়ে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
- ক্ষতস্থানে সাবান শ্যাম্পু অথবা অন্য কিছু লাগানো থাকে বিরত থাকুন। এতে আপনার ঘা পাকতে পারে
- পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করুন।
- ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান যেমন কমলালেবু, লেবু, ঝাল ইত্যাদি প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
- ক্ষতস্থান সব সময় শুকন রাখুন কেননা ভেজা স্থানে ব্যাকটেরিয়া ও রোগ জীবাণু বেশি বৃদ্ধি পায়।
সিজারের পর বেল্ট পরার নিয়ম
সিজারের পর বেল্ট পড়ার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা উচিত। কেননা সিজারের পর বেল্ট পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বেল্ট আমাদের পেটের মেদ বা চর্বি কমাতে সাহায্য করে ও পেটের সেলাইকে টানের হাত থেকে রক্ষা করে। যার ফলে মহিলাদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়। আর এই বেল্টটা পড়া না থাকলে পেটে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থেকে যায়। সিজারের পর বেল্ট পড়ার অনেকগুলো সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।আরো পড়ুনঃ
সিজারের পর যখন শরীরে এনেস্থেশিয়ার প্রভাব কেটে যায় তখন সাধারণত বেল্ট ব্যবহার করা হয়। বেল্ট ব্যবহার করার মূল কারণ পেট কে বিভিন্ন আঘাত থেকে রক্ষা করা ও পেটের মেদ কমানো। এজন্য ডাক্তার আপনাকে আপনার পেটের মাপ অনুযায়ী বেল্ট পড়ার নিয়ম বলে দেবে। তবে এই বেল্টগুলো খুব বেশি শক্ত বা টাইট করে পড়া উচিত না।
অনেকেই মনে করতে পারেন বেল্ট পড়লে কাটা স্থানে চাপ পড়তে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এটি হওয়ার মূল কারণ আপনি আপনার পেটের সাইজ অনুযায়ী সঠিক বেল্ট পড়েননি এ কারণে পেটে চাপ পড়া খুবই স্বাভাবিক। তবে সঠিক সাইজ অনুযায়ী বেল্ট পড়লে আপনার অপারেশনের জায়গায় ব্যথার পরিমাণ অনেক অংশে কমে যায়।
আবার কেউ কেউ মনে করেন সিজারের পর সব সময়ের জন্য বেল্ট ব্যবহার করা জরুরী। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে আপনি যখন চলাফেরা করবেন ঠিক তখন বেল্ট ব্যবহার করা উত্তম। যাতে কাটা অঞ্চলে আঘাত লেগে ব্যথা লাগার সম্ভাবনা কমে। তাছাড়াও মহিলাদের শোয়ার সময় বেল্ট খুলে ঘুমানো উচিত। এতে আপনার ঘুমের সমস্যা হবে না। সিজারের পর ১ থেকে ২ সপ্তাহ বেল্ট পড়া যথেষ্ট। এই বেল্ট মহিলাদের কাটা অঞ্চলে ঝাকুনির আঘাত থেকে রক্ষা করে।
সিজারের পর ড্রেসিং করার নিয়ম
এর আগে আমরা সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো কি কি? এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।সিজারের পর মাকে বাসায় আনার পর কাটা জায়গায় ভালোভাবে সঠিক নিয়মে ড্রেসিং করা খুবই জরুরী। কেননা ভালো ড্রেসিং এর উপর নির্ভর করে আপনার ক্ষত কত দ্রুত শুকাবে তার ওপর। তবে ড্রেসিং করার আগে আমাদেরকে জানতে হবে কিভাবে সঠিক নিয়মে ড্রেসিং করা হয়। আমাদের ভেতর অনেকেই আছে যারা কাঁটা স্থানে সঠিক নিয়মে ড্রেসিং না করার কারণে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়ে যায়। চলুন তাহলে জেনে আসা যাক কিভাবে সঠিক নিয়মে ড্রেসিং করা যাই।- প্রথমে আপনার হাত সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন যাতে আপনার হাতে কোন রোগ জীবাণু না থেকে থাকে।
- তারপর হাতে পরিষ্কার হ্যান্ড গ্লাভস পড়ে নিন। যদি গ্লাভস না পান তাহলে স্পিরিট এর মাধ্যমে হাত ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে নিন।
- গজ কাপড়ের মাধ্যমে কাটা জায়গায় ডক্টর স্প্রিট দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নীন।
- এরপর গজ কাপড়টি কাঁটা স্থানের উপর রাউন্ড করে প্যাঁচান। এর ফলে কাটার সেলাইয়ের মার্শাল অঞ্চলে কালেকশন থাকলে সেটা বের হয়ে যাবে।
- যে কোন ধরনের ভালো জীবাণু নাশক যেমন ভায়োটিন সাহায্যে ভালোভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করুন।
- আপনার সেলাইয়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী ডাক্তার আপনাকে যেই ক্রিম অথবা অয়েনমেন্ট প্রেসক্রিপশন করেছে সেটি ভালোভাবে প্রয়োগ করুন।
সিজারের পর খাবার তালিকা সমূহঃ
ডাক্তার সিজারের পর মহিলাদের সাধারণত বিভিন্ন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। আবার এমন অনেক খাবার আছে যেগুলো বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে ডাক্তার। সিজারের পর এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে আপনার ক্ষত দ্রুত শুকায় আবার এমন কিছু খাবার আছে কিন্তু এগুলো খেলে ঘা পেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা ঘা শুকাতে দেরি হয়।
এজন্য আপনার সিজারের পরবর্তীতে দ্রুত ঘা শুকানোর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানা
উচিত। এছাড়া কোন খাবার খাওয়া যাবে না তাও জানা উচিত। দ্রুত সুস্থতার জন্য
মহিলাদের খাবার তালিকায় নিয়মিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার থাকাটা খুবই জরুরী।
চলুন সিজারের পর খাবার তালিকা সম্পর্কে কিছু ধারনা আনা যাক।
ভিটামিন সি জাতীয় খাবার আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ বের করে এছাড়াও ভিটামিন সি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে ভালো কাজ করে। এজন্য আমাদের সিজারের পর ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে পেয়ারা, লেবু, আমলকি, কমলালেবু, ইত্যাদি।
ভিটামিন সি জাতীয় খাবার আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ বের করে এছাড়াও ভিটামিন সি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে ভালো কাজ করে। এজন্য আমাদের সিজারের পর ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে পেয়ারা, লেবু, আমলকি, কমলালেবু, ইত্যাদি।
থানাকা ফেস প্যাক দাম কত
এ সময় মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আপনার খাবার তালিকা রাখতে পারেন মাছ মাংস, ডিম, দুধ, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ফলমূল ও ডাল ইত্যাদি। এছাড়াও প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। সিজারের পর মহিলাদের অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হয়ে থাকে এই সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রচুর শাকসবজি, ফাইবার যুক্ত খাবার ও পানি পান করা উচিত।
এছাড়াও বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, আঁশযুক্ত ও আয়রন যুক্ত খাবার রয়েছে যেমন শাকসবজি, ড্রাগন ফল, বিটরুট, লাল শাক, পালং শাক, গাজর, সজনে, বিভিন্ন শাকসবজি, লাল চালের ভাত ও আটা, ফলমূল ও ইত্যাদি খাবার তালিকায় রাখুন। যে সমস্ত খাবারের প্রতি এলার্জি আছে সেই খাবারগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।
এলার্জি আপনার সেলাইয়ের জায়গায় চুলকানির সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনার হজম হতে অনেক সময় লাগে , পেট ফাপা, এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা সহ পেটের নানান সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এই খাবারগুলো যথাসম্ভব এটা চলবে। সিজারের পর যেই খাবারগুলো ডাক্তাররা খেতে নিষেধ করে সেগুলো হলোঃ
গর্ভবতী অবস্থায় ও তার পরবর্তীতে সন্তান জন্মদানের পর মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে। যে কারণে মানসিক পরিবর্তন, ঘুমের অভাব ও ঠিকমতো শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সিজারের পর যন্ত্রণার কারণে মায়েরা নানান সময় অনিদ্রা, বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, ও হতাশায় ভোগেন। এজন্য মায়ের মানসিক প্রশান্তি বা রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য একটি ভালো ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও সিজারের পর ভুল নিয়মে শোয়ার কারণে সেলাইয়ের স্থানে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে। আর এই ঘুম ভালো করতে সঠিক নিয়মে শোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিজারের পরবর্তীতে ব্যথা কমাতে ডাক্তাররা বিভিন্ন ব্যাথা নাশক ওষুধ বা পেইন কিলার দিয়ে থাকে। যার ফলে ঘুম ভালো হয় তবে এই পেইন কিলার আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গর ক্ষতির জন্য দায়ী বিশেষ করে বিভিন্ন কিডনির সমস্যা হতে পারে। সঠিক নিয়মে আসলে মায়েদের প্রশ্বাস নিতে অনেকটা সুবিধা হয়। নিচে সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলঃ
এ সময় মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আপনার খাবার তালিকা রাখতে পারেন মাছ মাংস, ডিম, দুধ, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ফলমূল ও ডাল ইত্যাদি। এছাড়াও প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। সিজারের পর মহিলাদের অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হয়ে থাকে এই সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রচুর শাকসবজি, ফাইবার যুক্ত খাবার ও পানি পান করা উচিত।
এছাড়াও বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, আঁশযুক্ত ও আয়রন যুক্ত খাবার রয়েছে যেমন শাকসবজি, ড্রাগন ফল, বিটরুট, লাল শাক, পালং শাক, গাজর, সজনে, বিভিন্ন শাকসবজি, লাল চালের ভাত ও আটা, ফলমূল ও ইত্যাদি খাবার তালিকায় রাখুন। যে সমস্ত খাবারের প্রতি এলার্জি আছে সেই খাবারগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।
এলার্জি আপনার সেলাইয়ের জায়গায় চুলকানির সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আপনার হজম হতে অনেক সময় লাগে , পেট ফাপা, এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা সহ পেটের নানান সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এই খাবারগুলো যথাসম্ভব এটা চলবে। সিজারের পর যেই খাবারগুলো ডাক্তাররা খেতে নিষেধ করে সেগুলো হলোঃ
- ভাজাপোড়া অথবা যে খাবার গুলো সরাসরি ডুবন্ত তেলে ভাজা হয় এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীয় খাবার খাবেন না।
- কোমল পানীয় যেমন সেভেন আপ, কোকাকোলা, স্প্রাইট ও টাইগার ইত্যাদি জাতীয় পানীয় থেকে বিরত থাকুন।
- অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় খাবার যেমন চা ও কফি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে সাবধান থাকবেন।
- যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল জাতীয় খাবার যেমন মদ, সিগারেট, গাঁজা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- যে সমস্ত খাবার খেলে আপনার পেটের নানান হজমের সমস্যা দেখা দেয় সেই খাবারগুলো খাবেন না।
- যে খাবারগুলো আপনার ক্ষতস্থান পাকাতে পারে বা শুকাতে দেরি করে এই খাবারগুলো খাবেন না।
সিজারের পর শোয়ার নিয়ম
ইতিমধ্যে আমরা সিজারের পর ইনফেকশন কি, ইনফেকশনের লক্ষণ, সিজারের পর ইনফেকশন কেন হয়, সিজারের সেলাই দ্রুত শুকানোর নিয়ম, ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এবার চলুন সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আসে। সিজারের পর সঠিক নিয়মে শোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সঠিকভাবে শোয়ার শোয়ার উপর নির্ভর করে মায়ের ভালো ঘুম ও ক্ষতস্থানের সুরক্ষা।গর্ভবতী অবস্থায় ও তার পরবর্তীতে সন্তান জন্মদানের পর মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে। যে কারণে মানসিক পরিবর্তন, ঘুমের অভাব ও ঠিকমতো শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সিজারের পর যন্ত্রণার কারণে মায়েরা নানান সময় অনিদ্রা, বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, ও হতাশায় ভোগেন। এজন্য মায়ের মানসিক প্রশান্তি বা রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য একটি ভালো ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও সিজারের পর ভুল নিয়মে শোয়ার কারণে সেলাইয়ের স্থানে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে। আর এই ঘুম ভালো করতে সঠিক নিয়মে শোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিজারের পরবর্তীতে ব্যথা কমাতে ডাক্তাররা বিভিন্ন ব্যাথা নাশক ওষুধ বা পেইন কিলার দিয়ে থাকে। যার ফলে ঘুম ভালো হয় তবে এই পেইন কিলার আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গর ক্ষতির জন্য দায়ী বিশেষ করে বিভিন্ন কিডনির সমস্যা হতে পারে। সঠিক নিয়মে আসলে মায়েদের প্রশ্বাস নিতে অনেকটা সুবিধা হয়। নিচে সিজারের পর শোয়ার নিয়ম সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলঃ
- সিজারের পর মায়েরা সোজা হয়ে শুতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে সিজারের সেলাইয়ের উপর কোন প্রকার চাপ পড়ে না। মায়েরা সোজা হয়ে শুয়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমাতে পারেন।
- বাঁ দিকে পাশ ফিরে শুলে আমাদের শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই পাস ফিরে শুতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে পেটের সেলাইয়ের আঘাত থেকে বাঁচতে পেটের নিচে একটি বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।
- মহিলারা চাইলে পিঠ উঁচু করে শুতে পারে। সিজারের পর আরামের জন্য বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। চিৎ হয়ে শুয়ে পিঠের নিচে নরম বালিশ ব্যবহার করে ঘুমাতে পারেন এতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সুবিধা হবে।
- বাজারে অনেক আরাম চেয়ার পাওয়া যায় এছাড়াও আমাদের বাসার চেয়ার গুলোকে শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারি।
সিজারের পর কতদিন ব্লিডিং হয়
সিজারের পর কতদিন ব্লিডিং হয়? এই ব্যাপারে আমাদের ভেতর অনেকেই জানতে আগ্রহী। সিজারের পরে সাধারণত কাটা স্থান থেকে ব্লিডিং হতে দেখা যায় এই ব্লিডিং এর মাত্রা কারোর ক্ষেত্রে বেশি আবার কারোর ক্ষেত্রে কমে থাকে। এছাড়াও কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশিদিন হয় আবার কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খুব বেশিদিন ব্লিডিং হতে দেখা যায় না।
আর এই ব্লিডিং এর সমস্যা নিয়ে আমাদের ভেতর অনেকেই দূর চিন্তাই ভোগে থাকেন।
অপারেশনের পর যোনিপথ দিয়ে রক্ত যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। প্রায় ১ থেকে ১.৫
মাস পর্যন্ত ব্লিডিং হতে পারে ও মাঝে মাঝে রক্তের দলা যেতে পারে। ও এই ব্লিডিং
এর সাথে পেট ব্যথা হতে পারে। এই সময় মহিলারা সাধারণত সেনেটারি প্যাড ব্যবহার
করে। ইনফেকশন থেকে বাঁচতে যোনিপথে টেম্পল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও এই
সময়ে সহবাস করা থেকে বিরত থাকুন।
প্রতি ১ ঘন্টায় যদি ২টি প্যাড ব্লিডিং এ সম্পূর্ণ ভিজে যায় ও ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রক্তপাত দেখা যায় তাহলে সেটাকে সাধারণত ভারী রক্তপাত বলা হয়। যদি এই ধরনের ভারী রক্তপাতের লক্ষণ দেখতে পান সেক্ষেত্রে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার কাশির পেছনে কারণ বের করবে ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিবে। এছাড়া বাড়িতে আপনি মধু খেয়ে কাশি কমাতে পারেন। মধু আমাদের কাশি নিরাময়ে খুবই উপকারী। দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে ও কাশির সময় হালকা বালিশ পেটে চাপ দিয়ে ধরতে পারেন। এতে আপনার পেটে চাপের পরিমাণ কম লাগবে।
তবে এই ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যায়। কিছু কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ব্যথা দ্রুত কমে যায় আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথা থাকে। ব্যথা সাধারণত ১ সপ্তাহ থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদি ব্যথার পরিমাণ খুব তীব্র হয় ও সাথে জ্বর থাকে তাহলে সেটা সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। এই সময় বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
প্রতি ১ ঘন্টায় যদি ২টি প্যাড ব্লিডিং এ সম্পূর্ণ ভিজে যায় ও ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রক্তপাত দেখা যায় তাহলে সেটাকে সাধারণত ভারী রক্তপাত বলা হয়। যদি এই ধরনের ভারী রক্তপাতের লক্ষণ দেখতে পান সেক্ষেত্রে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
সিজারের পর কাশি হলে করণীয়
কাশি আমাদের শরীরের একটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই কাশি আমাদের যে কোন সময় হতে পারে। তবে সিজারের পর কাশি হলে মায়েদের নানান রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেননা কাশির মাধ্যমে সেলাইয়ের উপর টান পড়ে আঘাতের সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও সিজারের পরে কাশি মায়েদের শরীরের রক্ত জমাট বাধার সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যদি সিজারের পর কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা যায় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার কাশির পেছনে কারণ বের করবে ও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিবে। এছাড়া বাড়িতে আপনি মধু খেয়ে কাশি কমাতে পারেন। মধু আমাদের কাশি নিরাময়ে খুবই উপকারী। দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে ও কাশির সময় হালকা বালিশ পেটে চাপ দিয়ে ধরতে পারেন। এতে আপনার পেটে চাপের পরিমাণ কম লাগবে।
সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে
সিজারের সময় যেহেতু তলপেটে কাটা হয় এই কারণে ক্ষতস্থানে কিছুদিন ব্যাথা থাকতে পারে। এই ব্যথা খুবই স্বাভাবিক। এজন্য অবশ্যই ডাক্তার আপনাকে ব্যাথা কমানোর ওষুধ দিবে তবুও অনেকে জানতে চাই সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে। সিজারের পর ব্যথার পরিমান ও কতদিন থাকে তা নির্ভর করে আপনি ক্ষতের কতটুকু সঠিক নিয়ম মেনে পরিচর্যা করছেন, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ খাচ্ছেন কিনা ও কি পরিমান পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছেন তার ওপর।তবে এই ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যায়। কিছু কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ব্যথা দ্রুত কমে যায় আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথা থাকে। ব্যথা সাধারণত ১ সপ্তাহ থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদি ব্যথার পরিমাণ খুব তীব্র হয় ও সাথে জ্বর থাকে তাহলে সেটা সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। এই সময় বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
উপসংহারঃ সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ
উপরে আমরা সিজারের পর ইনফেকশনের লক্ষণ গুলো কি কি? সিজারের পর শোয়ার নিয়ম- সিজারের পর দ্রুত সেলাই শুকানোর উপায়, সিজারের পর বেল্ট পড়ার নিয়ম, সেলাই শুকাতে কত সময় লাগে ইত্যাদি বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি । যা থেকে আমরা বুঝতে পারি সিজার একজন মায়ের মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
আমাদের দেশের প্রতি বছর অসংখ্য মহিলা সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।
নিরাপদে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিজারের পর ইনফেকশন
থেকে রক্ষা ও সন্তানকে সুস্থভাবে লালন পালন করা। আশা করা যায় এই পোস্টের
মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে পরবর্তী আর্টিকেল
পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ধন্যবাদ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url