থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা। থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম। থানকুনি পাতার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আলোচনা করতে চলেছি। থানকুনি পাতার ঔষধি গুনাগুনের জন্য খুবই পরিচিত।

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ থানকুনি পাতাকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে বর্তমানে এর প্রচলন অনেক কমে গেছে। চলুন তাহলে থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত এই পোস্টের মাধ্যমে জেনে আসা যাক।

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক। থানকুনি পাতা হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক হার্ব যা আমাদের শরীরের জন্য নানান উপকারী। আদ্র বা ভেজা মাটিতে এটি জন্মায় ।এর বৈজ্ঞানিক নাম sentella asiatica ।এর পাতা কান্ড ও শিকড় সবগুলো ঔষধি গুণে ভরপুর যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।এর কিছু উপকারিতা দিক নিচে দেওয়া হল:
আরও পড়ুনঃ আসল শিলাজিৎ চেনার উপায়-শিলাজিৎ খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা
থানকুনি পাতার ঔষধি গুনাগুন অনেক। থানকুনি পাতা হল একটি ঔষধি ভেষজ উদ্ভিদ। প্রাচীন কালে গ্রামের মানুষগুলো থানকুনি পাতা তাদের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করত তবে বর্তমানে থানকুনি পাতার ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনেক বছর আগে এই ঔষধি পাতা বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো হতো। প্রাচীন যুগের বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে থানকুনি পাতা খাওয়ার সম্পর্কে বলা আছে। বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশ থানকুনি পাতা প্রাচীনকাল থেকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

থানকুনি পাতার উপকারিতা

  • আমাদের শরীরে অনেক সময় বিভিন্ন আঘাতের কারণে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয় ও রক্তক্ষরণ হয়। এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে থানকুনি পাতা বেটে ব্যবহার করলে রক্ত পড়া বন্ধ হয় ও ব্যথা কমে।
  • ক্ষতস্থানকে বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও রোগ জীবাণুর সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • আমাদের শরীরে বিভিন্ন অংশে যেমন হার্ট কিডনি লিভার ইত্যাদি অঙ্গে অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধার মত সমস্যা সৃষ্টি হয় থানকুনি পাতার রস খেলে এই রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা অনেকটা কমে যায়।
  • থানকুনি পাতা আলসার নিরাময়ের সাহায্য করে।
  • তাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে তারা বাড়িতে থানকুনি পাতা ভিজিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সেই পানি পান করলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
  • মধুর সাথে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর টক্সিন পদার্থ বের হয়ে যায়। যার ফলে আপনার ফুসফুস সুস্থ থাকবে।
  • আমাদের শরীরের বিভিন্ন জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে এই থানকুনি পাতা।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ দূর করে।
  • লিভার ভালো রাখে।
  • ক্ষত নিরাময় করে।
  • আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তি দেয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • কাশি ও শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি দেয়।
  • অনিদ্রা দূর করে।
  • শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়।
  • দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।
  • কাশির সমস্যা ভালো করে।
  • থানকুনি পাতা বাচ্চাদের তোতলামির সমস্যা ভালো করতে পারে।
  • থানকুনি পাতা আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

থানকুনি পাতার অপকারিতা

  • থানকুনি পাতার অনেক উপকারিতা দিক আছে তবে এটির সঠিক ব্যবহার না জানলে এটির বিভিন্ন পার্শ প্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে থানকুনি পাতা গ্রহণে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যাদের থানকুনি পাতাতে এলার্জি আছে তাদের এটি সেবনে এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহারে কিডনি ও লিভারের সমস্যা হতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত কেননা এটির ভুল ব্যবহার গর্ভপাতের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
  • থানকুনি পাতা রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম। তবে এটি রক্ত চাপ অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে । বিশেষ করে যারা রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে ঔষধ সেবন করছে।
  • পেটের বিভিন্ন যন্ত্রণা অতি তীব্র মাত্রায় দেখা দিতে পারে।
  • অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে।
  • হঠাৎ রক্তচাপ অতিরিক কমে যেয়ে মাথা ঘোরার মত শুরু হতে পারে।
  • অপারেশন এর দুই সপ্তাহের ভেতর থানকুনি পাতা খাওয়া উচিত নয়।

চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা

  • থানকুনি পাতা চুলের গোড়া শক্তিশালী করে ফলে চুল পড়া কমে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।এর ভেতর থাকা উপাদান নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতাতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট চুলের ফলিকল শক্তিশালী করে চুল পড়া রোধে করে। চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং চুলে পুষ্টি উপাদান পৌঁছাতে সহায়তা করে।
  • থানকুনি পাতাতে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতা চুলের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে করে।চুলকে সতেজ ও স্বাস্থ্যবান রাখে এবং চুলের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে হাইড্রেট রাখে।
  • থানকুনি পাতা খেলে কি হয়
  • থানকুনি পাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের শরীরের নানান রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।
  • এটি পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে ত্বক, চুল এবং শরীরের নানান রোগ নিরাময়ে কাজে লাগে। থানকুনি পাতা আমাদের মস্তিষ্কের উন্নতি সাধনে সহায়তা করে।

গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা

  • গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়া নিয়ে অনেকের ভেতর নানান কৌতুহল রয়েছে যেমন: গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়া যায় কিনা, কতটুকু খাওয়া উচিৎ, কিভাবে খেতে হবে ও কতদিন পর পর খাওয়া উচিৎ ইত্যাদি। গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা খাওয়া যায় তবে খাওয়ার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতার অনেক উপকারিতা আছে। থানকুনি পাতাতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপাদান যা গর্ভাবতী মায়ের স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী।
  • গর্ভাবস্থায় অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা ভোগেন। থানকুনি পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • থানকুনি পাতা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যা প্লাসেন্টার কার্যকারিতা বাড়ায়।
  • গর্ভাবস্থায় হরমোনের কারণে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে , থানকুনি পাতা ত্বকের ক্ষত নিরাময় করতে সাহায্য করে।
  • থানকুনি পাতা গর্ভাবস্থায় মানুষিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা উপাদান স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে।তবে গর্ভাবস্থায় থানকুনি পাতা সতর্কতার সাথে গ্রহণ করা উচিৎ কেননা এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিংবা সঠিক নিয়মে না খেলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে।

যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতা যৌবন ধরে রাখার একটি প্রাকৃতিক ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এটি শরীরের কোষকে সজীব রাখতে এবং বার্ধক্য রোধে সহায়তা করতে পারে। থানকুনি পাতাতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল কমিয়ে ত্বকের বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে।থানকুনি ত্বকের কোষে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায় যা ত্বককে মসৃণ ও টানটান রাখে। এটি রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখে।

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা জানার পর থানকুনি পাতা কিভাবে খেতে হয় সম্পর্কে জানা উচিত। থানকুনি পাতা সাধারণত বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সর্বত্রই পাওয়া দিয়ে থাকে। তবে এগুলো শহরাঞ্চলের অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারেও বেচাকেনা হয়ে থাকে। এই উদ্ভিদ লবণাক্ত আবহাওয়া বেশি বেশিরভাগ সময় জন্মায় থাকে। এটি একটি ঔষধি গাছ। গরম পানিতে থানকুনি পাতার রস খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ পাঙ্গাস মাছে কি এলার্জি আছে ও এর উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনি চাইলে থানকুনি পাতা বিভিন্ন নিয়মে খেতে পারেন। নিয়ম মেনে থানকুনি পাতার খেলে আমাদের শরীর এর অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তাহলে থানকুনি পাতার উপকারিতা সঠিকভাবে পেতে এর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসি। থানকুনি পাতার রস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

থানকুনি পাতার ভর্তা

উপকরণ:
আমরা চাইলে থানকুনি পাতার ভর্তা করে খেতে পারি। থানকুনির পাতার ভর্তা খেতে অনেক পছন্দ করে। এই ভর্তা করার জন্য আমাদের প্রয়োজন ২০০ গ্রাম থানকুনি পাতা, এক থেকে দুইটি আলু সিদ্ধ, রসুন পরিমাণ মতো, কাঁচা মরিচ, পরিমাণ মতো পেঁয়াজকুচি, পরিমাণ মতো লবণ ও পরিমাণ মতো সরিষার তেল ইত্যাদি।
আরও পড়ুনঃ সুরমা মাছ ও টুনা মাছের পার্থক্য-টুনা মাছের দাম বাংলাদেশ
প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে আলু সেদ্ধ করে হত্যা ভর্তা করে নিন। তারপর থানকুনি পাতা ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিন। এবার আদা কুচি, রসুন কুচি, লবণ, পেঁয়াজকুচি ও সরিষার তেল একসাথে ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে। তার সাথে আলু সেদ্ধ ও কাঁচা মরিচ করে একসাথে মিশিয়ে ভর্তা করে ফেলতে হবে এবার থানকুনি পাতা কুচিগুলো ভালোভাবে ওই ভর্তার সাথে মিশিয়ে নিন হয়ে গেল সকলের পছন্দর একটি থানকুনি পাতা ভর্তা।

থানকুনি পাতার ভাজি

উপকরণঃ
থানকুনি পাতা ভাজির জন্য প্রয়োজন ১০০ গ্রাম থানকুনি পাতা, পেঁয়াজ পরিমাণ মতো, মরিচ পরিমাণ মতো, লবণ পরিমাণ মতো, তেল পরিমান মত নিয়ে নিন। আপনি চাইলে এর সাথে কিছু আলু কুচি অথবা অন্য সবজি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি চাইলে ভাজির স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এর সাথে চিংড়ি মাছ ও যোগ করতে পারেন।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
প্রথমে থানকুনি পাতা কচি করে কেটে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন সিনেমা চিংড়ি মাছ ও আলু গুলো কচি করে কেটে নিন । চিংড়ি মাছ পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। করায়ে তেল দিয়ে তেল একটু গরম হওয়ার পর রসুন, পেঁয়াজ, আদা ও কাঁচামরিচ দিয়ে ভালো নাড়াতে হবে। এতে পরিমাণ মতো লবণ ব্যবহার করুন। পরবর্তীতে মসলাগুলোতে থানকুনি পাতা যোগ করুন। তার সাথে চিংড়ি ও আলু কুচি দিয়ে ভালো করে নারুন। এরপর ভালোভাবে আলু সিদ্ধ হয়ে গেলে ৫ থেকে ৬ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এবার তৈরি হয়ে গেল খুবই সুস্বাদু ও উপকারী থানকুনি পাতা ভাজি।

থানকুনি পাতার জুস

উপকরণঃ
আপনি চাইলে থানকুনি পাতার জুস করে খেতে পারেন। অনেক বাচ্চা আছে যারা থানকুনি পাতা খেতে চান না। এজন্য বাচ্চাদের থানকুনি পাতার উপকারিতা পাওয়ার জন্য থানকুনি পাতা জুস করে খাওয়াতে পারেন। এতে বাচ্চারা থানকুনি পাতা খেতে আগ্রহী হবে। এই জুস তৈরির জন্য আপনার প্রয়োজন ১০০ গ্রাম থানকুনি পাতা ও মধু নিন পরিমাণ মত।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
থানকুনি পাতার জুস বানানো খুবই সহজ। প্রথমে কিছু পরিমাণ থানকুনি পাতা নিয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ব্লেন্ডার অথবা পাটায় থানকুনি পাতা ভালোভাবে বেটে নিন। ব্লেন্ড হয়ে যাওয়া থানকুনি পাতা একটি পরিষ্কার ছাঁকনিতে ছেকে রস বের করে নিন। পরবর্তীতে থানকুনি পাতার রসের সাথে পরিমাণ মতো মধু মেশান। আপনি চাইলে দুধের সাথে মিশিয়েও থানকুনি রস খেতে পারেন। নিয়মিত এই নিয়মে জুস করে খেলে অনেক উপকার পাবেন।

থানকুনি পাতার বড়া

উপকরণঃ
আমাদের ভেতরে অনেকেই ভাজাপোড়া খেতে পছন্দ করে। তবে এই ভাজাপোড়া আমাদের শরীরের জন্য অপকারী। এজন্য আমরা চাইলে আমাদের শরীরের জন্য উপকারী থানকুনি পাতা বড়া করে খেতে পারি। থানকুনি পাতার বড়া খেতে অনেকেই পছন্দ করে। এই বড়া তৈরির জন্য আপনার প্রয়োজন ১০০ গ্রাম থানকুনি পাতা পরিমাণ মতো পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, লবণ, মরিচ, তেল ও বেসন নিয়ে নিন।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
প্রথমে আমাদের থানকুনি পাতা ভালো করে কুচি করে কেটে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পরবর্তীতে থানকুনি পাতা কুচি গুলোর ভিতরে আদা, রসুন, পেঁয়াজ কুচি , হলুদ, বেসন, মরিচ ও লবণ একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন। একটি পাত্রে তেল গরম করে নিন। এই গরম তেলে মাখানো থানকুনি পাতা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন।

বাচ্চাদের থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতার উপকারিতা অনেক তবে বাচ্চাদের খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ১ থেকে ২ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য খুবই অল্প পরিমাণ দিতে হবে। এই বয়সী বাচ্চাদের জন্য ১ বা আধা চা-চামচ দিলেই হবে। এবং ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন তবে ১ চা চামচের বেশি না দেওয়ায় ভালো।

পেটের সমস্যায় থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতা পেটের বিভিন্ন সমস্যার জন্য খুবই উপকারী। এটি পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন: গ্যাস, ডায়রিয়া,পেট ফোলা, আলসার কিংবা আমাশয়ের মতো রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। তাছাড়া আমাদের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। হজমে সাহায্য করে। পেটের আলসার দূর করে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভালো করে। আমাশয়ের মতো সমস্যা ভালো করে। হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। পেটের রোগের চিকিৎসা কাজে দেয়।

থানকুনি পাতা খেলে ফর্সা হয়

থানকুনি পাতা ত্বককে সরাসরি ফর্সা করতে পারে না। তবে এটি বিভিন্ন ভাবে ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সক্ষম। থানকুনি পাতাতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের দাগ ছোট দূর করে এবং ত্বককে মসৃণ করে,যার ফলে ত্বক কিছুটা ফর্সা দেখায়। তবে থানকুনি পাতা ত্বককে সরাসরি ফর্সা করাতে না 

পারলেও এটি ত্বকের বিভিন্ন ভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। থানকুনি পাতা ত্বকে ব্রণের সমস্যায় খুব ভালো কাজ করে। এটি ব্রণের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ব্রণের সমস্যা ভালো করে। ত্বককে মসৃণ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। কোনো আঘাত বা ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে।

থানকুনি পাতার বৈশিষ্ট্যঃ

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানালাম এবার আমরা থানকুনি পাতার বৈশিষ্ট্য বা চেনার উপায় সম্পর্কে জানব। থানকুনি পাতা আমাদের আশপাশে আদ্র বা স্যাতসেতে পরিবেশে জন্মানো এক ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ। আমাদের ভেতরে অনেকেই থানকুনি পাতা চেনে না। তবে থানকুনি পাতা চেনার অনেকগুলো উপায় আছে।
  • থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম হল centella asiatica
  • থানকুনি পাতার আকৃতি সাধারণত ছোট্ট, গোলাকার কিছুটা ডিম্বাকৃতিতে মতন।
  • থানকুনি পাতার কিনারা অনেকটা ঢেউ খেলার মতন।
  • পাতার রং সাধারণত গারো সবুজ
  • এই গাছগুলো সাধারণত মাটির উপরে থাকে।
  • আদ্র বা ভিজে আবহাওয়া বেশি জন্মায়
  • গাছগুলো দেখতে কিছুটা লতার মতন

সাধারণ প্রশ্ন সমূহ(FAQ)

সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতা খেলে কি হয়?

থানকুনি পাতা সকালে খালি পেটে খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ নিরাময় হয়। বিভিন্ন জ্ঞানীদের মতে সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতা খাওয়া বেশি উপকারী।

থানকুনি পাতা কি লিভারের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, থানকুনি পাতা আমাদের লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

থানকুনি পাতা কি ডায়রিয়ার জন্য ভালো?

হ্যাঁ, থানকুনি পাতা আমাদের ডায়রিয়া আলসার সহ বিভিন্ন রোগের জন্য ভালো।

থানকুনি পাতা খেলে কি গ্যাস কমে?

থানকুনি পাতা আমাদের পেটের গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

থানকুনি পাতা কোন কোন রোগের জন্য উপকারী?

থানকুনি পাতা আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের জন্য উপকারী যেমন পেটের সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা আলসার, ডায়রিয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্দি কাশির সমস্যা, শরীরের বিভিন্ন ঘা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, ব্রণের সমস্যা, হজনের সমস্যা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ সহ বিভিন্ন রোগের জন্য উপকারী।

উপসংহারঃ থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

উপরে আমরা থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা। থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম থানকুনি পাতা খেলে কি ত্বক ফর্সা হয়, যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতার উপকারিতা, চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা থানকুনি পাতা খাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে আলোচনা করেছে। থানকুনি পাতার ঔষধি বৈশিষ্ট্য আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত এই থানকুনি পাতা খেতে পারেন। আশা করা যায় এই পোস্টের মাধ্যমে আপনার উপকৃত হয়েছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url