omidon এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম

omidon এর কাজ কি?অমিডন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অমিডন ১০ খাওয়ার নিয়ম দাম এই ওষুধের উপাদান আমাদের শরীরে কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা এই আর্টিকেলে সঠিক তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব। 
omidon এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম
অমিডন ওষুধ মূলত আমাদের পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন বমি বমি ভাব, এসিডিটি ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এই ওষুধ খুবই উপকারী। চলুন এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

Omidon কি?

Omidon একটি বহুল ব্যবহৃত ওষুধের ব্র্যান্ড নাম, যার মূল উপাদান সাধারণত domperidone। এটি প্রধানত বমি বমি ভাব, বমি এবং গ্যাস্ট্রিকজনিত অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে বদহজম বা পাকস্থলীর চলাচল ধীর হয়ে গেলে চিকিৎসকেরা এই ওষুধটি প্রেসক্রাইব করেন।

এই ওষুধটি পাকস্থলীর গতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে খাবার দ্রুত নিচের দিকে নামতে পারে এবং পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার অনুভূতি কমে। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কে বমি উদ্দীপক সিগন্যাল ব্লক করে, যা বমি বা বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
tiens এর কাজ কি? পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম
Omidon সেবনের সময় কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন মুখ শুকিয়ে যাওয়া, হালকা মাথা ঘোরা বা পেটের অস্বস্তি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো সাময়িক এবং গুরুতর নয়, তবে উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে এই ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একইভাবে, অন্য ওষুধের সঙ্গে একসাথে সেবনের ক্ষেত্রে ইন্টারঅ্যাকশনের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই নিজে থেকে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

Omidon এর কাজ কি?

এই পোষ্টের মূল বিষয় হলো omidon এর কাজ কি সেই সম্পর্কে জানা। Omidon মূলত বমি বমি ভাব ও বমি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এর সক্রিয় উপাদান domperidone, যা শরীরে বমি উদ্দীপক সিগন্যাল কমাতে সাহায্য করে। ফলে বমি হওয়ার প্রবণতা কমে এবং রোগী স্বস্তি অনুভব করে।

এই ওষুধটি পাকস্থলীর চলাচল বা motility বাড়ায়। খাবার দীর্ঘ সময় পেটে আটকে থাকলে যে ভারী লাগা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয়, Omidon তা কমাতে সহায়তা করে। তাই বদহজম বা ধীর হজমজনিত সমস্যায়ও এটি ব্যবহার করা হয়।
alcet ট্যাবলেট কি কাজ করে? প্রতিক্রিয়া, ব্যবহার বিধি ও দাম
গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির কারণে যদি বমি বমি ভাব, ঢেকুর, বা বুকজ্বালার সাথে অস্বস্তি থাকে, সেসব উপসর্গ কমাতেও Omidon উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর অস্বস্তি বেশি হলে চিকিৎসকেরা এটি প্রেসক্রাইব করেন।

তবে Omidon শুধুমাত্র উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করে, রোগের মূল কারণ সারায় না। তাই বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা বা দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজে থেকে দীর্ঘদিন সেবন করা ঠিক নয়।

Omidon এর উপাদান সমূহঃ

Omidon এর প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো domperidone (অনেক ক্ষেত্রে domperidone maleate আকারে থাকে)। এই উপাদানটি একটি dopamine antagonist হিসেবে কাজ করে এবং বমি বমি ভাব ও বমি কমাতে সহায়তা করে। এটি পাকস্থলীর গতিশীলতা বাড়ায়, ফলে খাবার দ্রুত হজম প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে পারে। গ্যাস্ট্রিকজনিত অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার অনুভূতি কমাতেও এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
zimax 500 এর কাজ কি? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যবহার বিধি ও দাম
সক্রিয় উপাদানের পাশাপাশি Omidon ট্যাবলেটে কিছু সহায়ক উপাদান (excipients) ব্যবহৃত হয়, যা ওষুধের গঠন, স্থায়িত্ব ও শোষণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকতে পারে lactose, maize starch, povidone, magnesium stearate ইত্যাদি। এসব উপাদান সরাসরি চিকিৎসাগত কাজ না করলেও ট্যাবলেটের আকার, ভাঙন ও দ্রবণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। প্রস্তুতকারক ভেদে সহায়ক উপাদানের ধরন বা পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

কিছু ফর্মুলেশনে ট্যাবলেটের কোটিং উপাদানও যোগ করা হয়, যাতে ট্যাবলেট সহজে গেলা যায় এবং উপাদান সুরক্ষিত থাকে। এই কোটিংয়ে hypromellose, titanium dioxide বা অন্যান্য অনুমোদিত পদার্থ থাকতে পারে। এগুলো ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তন করে না, বরং স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ায়। নির্দিষ্ট উপাদান জানতে প্যাকেটের লিফলেট বা প্রস্তুতকারকের তথ্য দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

Omidon কিভাবে কাজ করে

Omidon এর মূল উপাদান domperidone, যা শরীরে dopamine receptor ব্লক করে কাজ করে। আমাদের মস্তিষ্কে একটি অংশ আছে যাকে vomiting center বলা হয়, সেখানে dopamine সক্রিয় হলে বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি তৈরি হতে পারে। Domperidone এই সিগন্যালকে বাধা দেয়, ফলে বমি কমে এবং বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই এটি antiemetic হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই ওষুধটি শুধু মস্তিষ্কেই নয়, পাকস্থলীতেও প্রভাব ফেলে। এটি পাকস্থলীর motility বা চলাচল বাড়ায়, যার ফলে খাবার দ্রুত অন্ত্রের দিকে অগ্রসর হয়। এতে পেটে খাবার জমে থাকা, ভারী লাগা বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তি কমে। বিশেষ করে বদহজম বা delayed gastric emptying থাকলে এটি উপকারী হতে পারে।

Domperidone সাধারণত blood-brain barrier খুব কম অতিক্রম করে। ফলে অনেক অন্য antiemetic ওষুধের তুলনায় সেডেশন বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব কম দেখা যায়। তবে ডোজ বেশি হলে বা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

Omidon বাজারে কোন কোন ফার্মে বা ডোজে পাওয়া যায়

Omidon ব্র্যান্ডে সাধারণত Domperidone Maleate নামে সক্রিয় ওষুধটি বিভিন্ন ডোজ ও ফর্মে বাজারে পাওয়া যায়। ট্যাবলেট হিসেবে 10 mg ডোজ খুবই প্রচলিত। এটা সাধারণত Incepta Pharmaceuticals Ltd. তৈরি করে থাকে এবং একটি স্ট্রিপে 10টি বা 15টি ট্যাবলেট হিসেবে পাওয়া যায়। এই ডোজটি বয়স্ক ও বড়দের জন্য সাধারণত বমি বমি ভাব, বদহজম ও গ্যাস্ট্রিক গতিশীলতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। 

এর পাশাপাশি Omidon-এর oral suspension বা সিরাপ ফরমুলেশনও আছে, যেখানে প্রতি 5 ml-এ 5 mg Domperidone থাকে। সিরাপটি প্রায় 60 ml বোতলে পাওয়া যায়, যা শিশু বা যারা ট্যাবলেট গিলে খেতে অসুবিধা অনুভব করে তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

আরেকটি ফর্ম হলো Omidon D (dispersible) 10 mg ট্যাবলেট, যা পানি দিয়ে দ্রবীভূত করে খাওয়া যায়। এই ধরনের ট্যাবলেটও Incepta Pharmaceuticals Ltd. তৈরি করে এবং একই সক্রিয় উপাদান Domperidone থাকে। এছাড়া বাজারে অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের Domperidone ব্র্যান্ডগুলোও পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু Omidon সাধারণত Incepta বা কিছু ক্ষেত্রে Square Pharmaceuticals PLC-এর মাধ্যমে পাওয়া যায়।

অমিডন খাওয়ার নিয়ম

Omidon খাওয়ার নিয়ম রোগীর বয়স, উপসর্গ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 10 mg ট্যাবলেট প্রতিদিন ২–৩ বার খাওয়া হয়। ট্যাবলেটটি প্রায়শই খাবারের ১৫–৩০ মিনিট আগে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ওষুধটি পাকস্থলীতে ভালোভাবে শোষিত হয় এবং কার্যকারিতা সর্বাধিক থাকে। 

নিজে থেকে ডোজ পরিবর্তন করা ঠিক নয়, কারণ এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে Omidon সাধারণত সিরাপ বা সাসপেনশন আকারে দেওয়া হয়। এখানে ডোজ নির্ধারণ করা হয় শিশুদের ওজন ও বয়স অনুযায়ী। শিশুদের ডোজ কখনো প্রাপ্তবয়স্কদের মতো নেওয়া যায় না। তাই শিশুর জন্য সঠিক ডোজ এবং খাওয়ার সময়সূচি জানার জন্য অবশ্যই ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যদি কোনো ডোজ ভুলে যান, মনে পড়লেই যত দ্রুত সম্ভব খেতে পারেন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় যদি কাছাকাছি থাকে, তবে মিসড ডোজটি বাদ দেওয়া উচিত। একসাথে দুই ডোজ খাওয়া নিরাপদ নয়। নিয়মিত ব্যবহার করতে গেলে সময়মতো খাওয়া ও ডোজ মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাচ্চাদের অমিডন ড্রপ এর কাজ কি?

বাচ্চাদের জন্য যে Omidon সিরাপ বা ড্রপ দেওয়া হয়, সেটির কাজ মূলত বমি বমি ভাব ও বমি কমানো। শিশুদের পাকস্থলী এবং হজম প্রক্রিয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। Omidon ড্রপ পাকস্থলীর চলাচল বাড়ায়, ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটে খাবার জমে থাকার কারণে যে অস্বস্তি বা ফাঁপা অনুভূতি তৈরি হয়, তা কমে।

এই ড্রপ মস্তিষ্কের বমি উদ্দীপক সিগন্যালও নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কে যখন dopamine receptor সক্রিয় হয়, তখন বাচ্চাদের বমি বমি ভাব বাড়তে পারে। Omidon এই সিগন্যাল ব্লক করে বমি কমাতে সাহায্য করে। ফলে শিশু আর বমি বা অস্বস্তি কম অনুভব করে এবং স্বস্তি পায়।

এছাড়া শিশুদের বদহজম, গ্যাস্ট্রিকজনিত অস্বস্তি, ঢেকুর বা খাওয়ার পর পেট ভারি লাগার মতো উপসর্গও Omidon ড্রপ দ্বারা কমানো যায়। তবে এটি রোগের মূল কারণ সারায় না, শুধুমাত্র উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করে।

বাচ্চাদের অমিডন ড্রপ খাওয়ার নিয়ম

বাচ্চাদের জন্য Omidon ড্রপ খাওয়ার নিয়ম মূলত বয়স, ওজন এবং উপসর্গ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সাধারণত ড্রপটি প্রতি ৫ মিলি-তে ৫ মিগ্রাম Domperidone হিসেবে পাওয়া যায়। চিকিৎসক শিশুদের ওজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেন এবং দিনে ২–৩ বার দেওয়ার পরামর্শ দেন। ওষুধটি খাবারের ১৫–৩০ মিনিট আগে দেওয়া হলে সবচেয়ে ভালো কার্যকারিতা দেখা যায়।

ড্রপটি সরাসরি বোতল থেকে বা একটি স্পেসিফিক ড্রপার ব্যবহার করে দেওয়া যেতে পারে। ড্রপ দেওয়ার সময় শিশুকে শান্ত করে রাখুন এবং ডোজ মেপে দেওয়া নিশ্চিত করুন। একসাথে বেশি ডোজ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

যদি কোনো ডোজ ভুলে যান, মনে পড়লেই যত দ্রুত সম্ভব দিতে পারেন। তবে পরবর্তী ডোজের সময় যদি কাছাকাছি থাকে, তখন মিসড ডোজটি বাদ দিয়ে সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী দেওয়া উচিত। একসাথে দুই ডোজ দেওয়া ঠিক নয়।

অমিডন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

omidon এর কাজ কি ও উপকারিতা জানার পর অনেকেই এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা জানতে চান। Omidon (Domperidone) সাধারণত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হলেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মুখ শুকানো, হালকা মাথা ঘোরা, পেটের অস্বস্তি বা ঢেকুর। এগুলো সাধারণত সাময়িক এবং গুরুতর হয় না, কিন্তু যদি উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিছু ক্ষেত্রে শিশু বা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ব্যথা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি হতে পারে। তাই হঠাৎ বা অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তারকে জানানো জরুরি।

দীর্ঘদিন বা উচ্চ ডোজে ব্যবহারের ফলে লিভার বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে জটিলতা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সেবনের আগে ডাক্তারকে অবহিত করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, Omidon পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা হলেও সতর্ক থাকা দরকার। মুখ শুকানো, মাথা ঘোরা, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি সবচেয়ে সাধারণ। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Omidon ব্যবহারের সতর্কতা ও সাবধানতা

Omidon ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা ও সাবধানতা মেনে চলা জরুরি। প্রথমেই মনে রাখতে হবে, এই ওষুধটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে আগে আলোচনা করা আবশ্যক। কারণ এই ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এসব অবস্থায় জটিলতা বাড়াতে পারে।

Omidon নেওয়ার সময় অন্য ওষুধের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে কিছু anti-fungal, anti-bacterial বা heart-related ওষুধের সঙ্গে একসাথে খেলে সমস্যা হতে পারে। তাই নতুন কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দরকার। শিশুদের জন্য সিরাপ বা ড্রপ ফর্ম ব্যবহার করতে হবে এবং ডোজ ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা হালকা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, তাই ওষুধ খাওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

অমিডন এর দাম

আমাদের ভেতর অনেকেই omidon এর কাজ কি সম্পর্কে জানার পর এই ওষুধের দাম জানতে চাই। সাধারণত বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন দামে এই ওষুধ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে Omidon ওষুধের দাম নিম্নরূপ (সাধারণ খুচরা বাজারের এবং অনলাইন ফার্মেসি তথ্য অনুসারে):
  • Omidon 10 mg ট্যাবলেট (Strip – 15 ট্যাবলেট) প্রায় ৳50 – ৳53 এর কাছাকাছি পাওয়া যায়। এই দামটি Incepta Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক উৎপাদিত সাধারণ ট্যাবলেটের মূল্য।
  • Omidon ড্রপ/সিরাপ (5 mg/5 ml, 60 ml বোতল) সাধারণত ৳36 – ৳40 এর মধ্যে পাওয়া যায়। সিরাপ ফরমুলেশনটি বিশেষ করে শিশুদের বা যারা ট্যাবলেট গিলতে অসুবিধা করে তাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
  • Omidon D নামে dispersible ট্যাবলেট (10 mg, 10 ট্যাবলেট) এর দাম প্রায় ৳18 – ৳22 রেঞ্জে থাকে, যা পানি দিয়ে দ্রবীভূত করে খাওয়া যায়। 

ওষুধের দাম ফার্মেসি, শহর বা অনলাইন স্টোর ভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। উপরের দাম সাধারণ বাজারের উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

Omidon এর বিকল্প ওষুধ

Omidon-এর সক্রিয় উপাদান Domperidone, তাই প্রায়শই এর বিকল্প হিসেবেও অন্যান্য Domperidone ব্র্যান্ড বা একই ধরনের anti‑nausea ও prokinetic ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এখানে কিছু সাধারণ বিকল্প ওষুধের নাম দেওয়া হলোঃ

Domperidone‑ভিত্তিক আলাদা ব্র্যান্ড থাকে, যেমন Domperidone generic সিরাপ, ট্যাবলেট বা ড্রপ যা Omidon‑এর মতোই কাজ করে এবং বমি, বদহজম বা গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি কমাতে ব্যবহৃত হয়। এর কিছু ব্র্যান্ড নাম Omider, Adegut (Tablet ও Suspension), Adorex (Suspension ও Paediatric Drops) ইত্যাদি, যা বাজারে পাওয়া যায় এবং একই সক্রিয় উপাদান Domperidone থাকে। 

দ্বিতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার metoclopramide নামে একটি ওষুধও দিতে পারেন, যা একইভাবে পাকস্থলীর চলাচল বাড়ায় এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি Domperidone‑এর মতো কাজ করে তবে কেবল ডোজ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

আরেকটি বিকল্প হলো ondansetron, যা বিশেষত প chemo বা অপারেশনের পর জ্বর জাতীয় বমি ও বমি বমি ভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটা Domperidone‑এর মতো হজম উন্নত করে না, কিন্তু বমি-নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। 

সবশেষে, ডাক্তার কখনও কখনও প্রোক্লোরপেরাজিন বা অন্যান্য antiemetic ওষুধও নিবার্চন করতে পারেন, বিশেষত যদি Domperidone ব্যবহার করা উপযুক্ত না হয়। কোন ওষুধ আপনার জন্য ঠিক তা নির্ধারণ করতে ডাক্তারকে দেখা জরুরি। এগুলো ছাড়াও বাজারে অনেকে ডোমপেরিডোন সমজাতীয় ওষুধ পেতে পারে, তবে ডোজ ও ব্যবহারের জন্য সবসময় সঠিক চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

Omidon কতদিন ব্যবহার করা উচিত

Omidon সাধারণত সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ১–২ সপ্তাহের বেশি নিজে থেকে ব্যবহার না করাই ভালো। উপসর্গ যেমন বমি, বমি বমি ভাব বা হজমজনিত অস্বস্তি কমে গেলে ডোজ কমিয়ে বন্ধ করা যায়।

শিশুদের ক্ষেত্রে Omidon ড্রপ বা সিরাপও সাধারণত কয়েক দিন থেকে ১ সপ্তাহের বেশি দেওয়া হয় না, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। ডোজ এবং ব্যবহারের সময়কাল সবসময় ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

যদি বমি বা হজমজনিত অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা নিয়মিত ফিরে আসে, তাহলে নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। কারণ এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে।

অমিডন খেলে কি মোটা হয়

Omidon (Domperidone) সাধারণত ওজন বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহৃত হয় না। এটি মূলত বমি বমি ভাব, বমি এবং হজমজনিত অস্বস্তি কমানোর ওষুধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার বা শিশুদের মধ্যে, খাবার গ্রহণ বা হজম বৃদ্ধি পেলে সামান্য ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। এটি সরাসরি চর্বি বা মেদ বৃদ্ধির কারণে নয়, বরং খাওয়ার আগ্রহ বা হজমের উন্নতির কারণে হতে পারে।

সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ডোজে ও স্বল্পমেয়াদী ব্যবহারে ওজন বৃদ্ধির কোনো উল্লেখযোগ্য প্রমাণ নেই। যদি ওজন বা হজম নিয়ে উদ্বেগ থাকে, তা হলে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করাই উত্তম।

omidon সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহঃ

Omidon কে käyttää করা হয় কি জন্য?

বমি বমি ভাব, বমি, বদহজম, গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি ও ঢেকুর কমাতে।

Omidon ট্যাবলেট ও সিরাপ—দুটি কি আলাদা?

হ্যাঁ। ট্যাবলেট টিভিটা জলসহ খাওয়া হয়, আর সিরাপ/ড্রপ সহজে গেলে শিশু বা যারা গিলতে অসুবিধা করে তাদের জন্য।

Omidon কি শিশুদের জন্য নিরাপদ?

শিশুর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডাক্তার দেখিয়ে নির্দিষ্ট ডোজ ও ফর্ম নেওয়া উচিত।

যদি ডোজ ভুলে যাই?

মনে পড়লেই খেতে পারেন, তবে যদি পরে ডোজ নিকটবর্তী থাকে তাহলে মিসড ডোজ বাদ দিন।

যদি বুক দুধ দেয়?

বুকের দুধ দেয়ার সময়ও ডাক্তারকে জানিয়ে নেওয়া উচিত; পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা গেলেও সতর্ক থাকা ভালো।

Omidon কি ফ্লুইড ধরে রাখে?

সাধারণ ডোজে এটি ফ্লুইড ধরে রাখে এমন কোনো প্রধান প্রভাব তৈরি করে না।

Omidon এবং অন্যান্য ওষুধ একসাথে নেওয়া যাবে?

কিছু ওষুধের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন হতে পারে; চিকিৎসক জানালে সঠিক নির্দেশ পাবেন।

এটা কি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই নেওয়া যায়?

সাধারণত ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াটাই নিরাপদ।

করোনার মতো সংক্রমণে কি এটা সাহায্য করবে?

এটি শুধু বমি বা হজমজনিত সমস্যা সমাধান করে, সংক্রমণ সারায় না।

Omidon কি লিভার বা কিডনি সমস্যা থাকলে নেওয়া যাবে?

লিভার বা কিডনি সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখিয়ে ডোজ ঠিক করা উচিত, নিজে থেকে না নেওয়াই ভালো।

Omidon কি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

স্বল্প সময়ে সাধারণত নিরাপদ হলেও দীর্ঘমেয়াদী সেবনে ডাক্তারকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহারঃ omidon এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম

উপরে আমরা omidon এর কাজ কি সেই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। Omidon মূলত বমি বমি ভাব, বমি এবং হজমজনিত অস্বস্তি কমানোর জন্য ব্যবহৃত একটি নিরাপদ ওষুধ। এর সক্রিয় উপাদান Domperidone পাকস্থলীর চলাচল বাড়ায় এবং মস্তিষ্কে বমি উদ্দীপক সিগন্যাল ব্লক করে, ফলে রোগী স্বস্তি অনুভব করে। 

সংক্ষিপ্ত সময়ে ব্যবহারে এটি সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম সৃষ্টি করে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বা নিজস্ব ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি। শিশু, গর্ভবতী বা কিডনি-লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। Omidon রোগের মূল কারণ সারায় না, শুধুমাত্র উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তাই সঠিক ডোজ ও সময়মেনে ব্যবহারের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা সর্বাধিক হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url