ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহারবিধি ও দাম


ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি? ফেনাডিন ১২০ খেলে কি ঘুম হয়। ফেনাডিন ১২০ এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও দাম। ফেনাডিন ১২০ এর উপকারিতা। fenadin 120 খাওয়ার সঠিক নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা এই পোস্টে জানবো।
ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কিপার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহারবিধি ও দাম
তাদের মধ্যে অনেকেই এলার্জির সমস্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্টি হিস্টামিন ওষুধ খুঁজে থাকে।fenadin 120 মূলত এক ধরনের অ্যান্টি হিস্টামিন ওষুধ যা আমাদের এলার্জির সমস্যা ভালো করে। চলনের বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানি।

ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি?

ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি? সেই বিষয়ে আলোচনা করা এই পোষ্টের মূল উদ্দেশ্য। ফেনাডিন ১২০ মূলত একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, যার সক্রিয় উপাদান ফেক্সোফেনাডিন। এটি শরীরে অ্যালার্জির কারণে উৎপন্ন হিস্টামিনের প্রভাব কমাতে কাজ করে। হিস্টামিনের জন্য যে লক্ষণগুলো দেখা যায় যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো বা পানি পড়া, সেগুলো উপশমে সাহায্য করে।
চর্ম এলার্জি দূর করার উপায়- লক্ষণ, কারণ, প্রকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
সাধারণত অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা মৌসুমি অ্যালার্জির ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধটি ত্বকের অ্যালার্জি, বিশেষ করে আর্টিকারিয়া বা চাকা চাকা ফুসকুড়ির চুলকানি কমাতেও কার্যকর। ফেনাডিন ১২০ স্নায়ুতন্ত্রে কম প্রভাব ফেলে, তাই এটি খেলে সাধারণত ঘুমভাব কম হয়। ফলে দিনে কাজকর্মের সময় এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে ধরা হয়। দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত নেওয়া যেতে পারে।

ফেনাডিন ১২০ এর উপাদান সমূহঃ

ফেনাডিন ১২০ ট্যাবলেটের প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ফেক্সোফেনাডিন হাইড্রোক্লোরাইড (Fexofenadine Hydrochloride) ১২০ মি.গ্রা.। এই উপাদানটি একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন, যা অ্যালার্জির লক্ষণ কমাতে কাজ করে। হিস্টামিনের প্রভাব ব্লক করার মাধ্যমে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ চুলকানোর মতো উপসর্গ উপশমে সহায়তা করে। ১২০ মি.গ্রা. ডোজ সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এর পাশাপাশি ট্যাবলেটে কিছু নিষ্ক্রিয় উপাদান বা এক্সিপিয়েন্ট থাকে, যা ওষুধের গঠন ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। যেমন মাইক্রোক্রিস্টালাইন সেলুলোজ, ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট, ক্রসকারমেলোজ সোডিয়াম ইত্যাদি। এগুলো চিকিৎসাগত কাজ করে না, তবে ট্যাবলেটের আকার, ভাঙন ও শোষণ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতকারক কোম্পানি ভেদে এক্সিপিয়েন্টের ধরনে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
famiclav 500 এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম
ট্যাবলেটের কোটিং উপাদানও থাকতে পারে, যেমন হাইপ্রোমেলোজ, টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড বা পলিইথিলিন গ্লাইকোল। এই কোটিং ট্যাবলেটকে সুরক্ষা দেয় এবং সহজে গিলতে সাহায্য করে। সুনির্দিষ্ট উপাদান তালিকা জানতে প্যাকেটের লিফলেট বা লেবেল দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

ফেনাডিন ১২০ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ইতিমধ্যেই আমরা ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবার আমরা এই ট্যাবলেটের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কোনগুলো জানবো। ফেনাডিন ১২০ সাধারণত নিরাপদ ও সহনীয় হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা বমিভাব থাকতে পারে। 

কারও কারও হালকা ক্লান্তি বা তন্দ্রাভাব অনুভূত হতে পারে, যদিও এটি তুলনামূলকভাবে কম। এসব উপসর্গ বেশিরভাগ সময় অস্থায়ী এবং ওষুধ বন্ধ করলে সেরে যায়। কিছু ক্ষেত্রে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গলা শুষ্ক লাগা বা হালকা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। খুব কম সংখ্যক রোগীর ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি দেখা দিতে পারে। যদি অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি, চুলকানি বা ফোলাভাব বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
bilan 20 এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহারবিধি ও দাম
কারণ এগুলো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের লক্ষণ হতে পারে। দুর্লভ কিন্তু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, অথবা তীব্র মাথা ঘোরা অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বন্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। নিরাপত্তার জন্য আগেই নিজের ওষুধ সংবেদনশীলতার ইতিহাস জানানো ভালো।

ওষুধ গ্রহণের পর কোনো নতুন বা অস্বস্তিকর উপসর্গ টের পেলে সেটি অবহেলা না করাই ভালো। বিশেষ করে যদি অন্য ওষুধ একসাথে নেওয়া হয়, তাহলে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সঠিক ডোজ ও ব্যবহারের নিয়ম মেনে চললে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলা সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

ফেনাডিন ১২০ ব্যবহারে সতর্কতা ও সাবধানতা

ফেনাডিন ১২০ ব্যবহারের আগে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। যদি আগে ফেক্সোফেনাডিন বা অনুরূপ অ্যান্টিহিস্টামিনে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তাহলে এই ওষুধ নেওয়া উচিত নয়। কিডনি সমস্যার রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ওষুধটি সাধারণত ঘুমভাব কম তৈরি করলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা বা তন্দ্রা হতে পারে। তাই প্রথম কয়েকবার নেওয়ার পর গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্র পরিচালনায় সতর্ক থাকা ভালো। অ্যালকোহল গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। এজন্য ওষুধ চলাকালীন অ্যালকোহল এড়ানো নিরাপদ।

অ্যান্টাসিড, বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড একসাথে নিলে ওষুধের শোষণ কমে যেতে পারে। এ ধরনের ওষুধের সাথে ফেনাডিন ১২০ নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ২ ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। অন্য কোনো প্রেসক্রিপশন বা ওটিসি ওষুধ চললে চিকিৎসককে জানানো উচিত। এতে সম্ভাব্য ওষুধ-প্রতিক্রিয়া এড়ানো যায়।

গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় ফেনাডিন ১২০ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ফেক্সোফেনাডিন সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হলেও, গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উপকারিতা মূল্যায়ন করা জরুরি। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গের তীব্রতা, বিকল্প চিকিৎসা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা নিরাপদ নয়।

স্তন্যদানকালীন সময়ে এই ওষুধের অল্প পরিমাণ দুধে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শিশুর জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করে না, তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যদি শিশুর অস্বাভাবিক ঘুমভাব, খাওয়ায় অনীহা বা অস্বস্তি দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। মা ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো।

ফেনাডিন ১২০ কি এন্টিবায়োটিক?

না, ফেনাডিন ১২০ কোনো এন্টিবায়োটিক নয়। এটি একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, যার সক্রিয় উপাদান ফেক্সোফেনাডিন। এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ ধ্বংস বা দমন করতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু ফেনাডিন ১২০ অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে কাজ করে। তাই সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয় না।

ফেনাডিন ১২০ মূলত হিস্টামিনের প্রভাব ব্লক করে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো বা ত্বকের চুলকানির মতো অ্যালার্জির লক্ষণ উপশমে সাহায্য করে। এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে না। যদি জ্বর, গলা ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলাদা চিকিৎসা প্রয়োজন।

ফেনাডিন ১২০ খাওয়ার নিয়ম বা নির্দেশনা

ফেনাডিন ১২০ সাধারণত দিনে একবার, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান দিয়ে খাওয়া হয়। এটি খাদ্যের সাথে বা খাবারের আগে/পরেও নেওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত একই সময়ে নেওয়া বেশি কার্যকর। ট্যাবলেটকে গিলে খেতে হবে, চিবিয়ে নয়, এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে নেওয়া উচিত।

ডোজ বাড়ানো বা কমানো নিজের উদ্যোগে করা উচিত নয়। নির্ধারিত ডোজ মিস হলে পরবর্তী ডোজ সময়মতো নেওয়া উচিত, তবে যদি পরবর্তী ডোজের সময় খুব কাছাকাছি আসে, মিসড ডোজ এড়িয়ে শুধুমাত্র নির্ধারিত ডোজ নেওয়া উচিত।

ফেনাডিন ১২০ এর দাম

ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি? তা জানলাম এবার চলুন এই ট্যাবলেটের দাম সম্পর্কে জেনে আসা যাক। বাংলাদেশে ফেনাডিন ১২০ (Fexofenadine 120 mg) এর দাম সাধারণত প্রতি স্ট্রিপ (10টি ট্যাবলেট) ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে থাকে। এটি প্রস্তুতকারক ও দোকানের নীতির ওপর নির্ভর করে কিছুটা কমবেশি হতে পারে। মানুষ বিভিন্ন অনলাইন ফার্মেসিতে এই ভ্যারিয়েশনে দেখতে পারে। 

কখনো ছাড় থাকলে দাম কিছু কমও পাওয়া যায়, আবার অফলাইন ফার্মেসির দোকানে তা প্রায় একই রেঞ্জে থাকে। ধরুন ১ স্ট্রিপ 10টি ট্যাবলেটের মূল্য প্রায় ৮০৳‑৯০৳। প্রস্তুতকারক ও বাজারের পরিস্থিতি বদলালে এই দাম সামান্য ওঠা‑নামা করতে পারে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও প্যাকেটের লেবেল দেখে আপনার এলাকায় সঠিক দাম জানা সবসময় ভালো।

ফেনাডিন ১২০ এর বিকল্প ওষুধ সমূহঃ

ফেনাডিন ১২০-এর প্রধান উপাদান ফেক্সোফেনাডিন। একই active ingredient থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ রয়েছে যেগুলো ফেনাডিন ১২০-এর বিকল্প হিসেবে নিতে পারেন (সবগুলোই অ্যালার্জি উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত antihistamine)।
  1. Fexo 120 (Square Pharmaceuticals)
  2. Axodin 120 (Beximco Pharmaceuticals)
  3. Fexomin 120 (Ibn Sina)
  4. Fexofast 120 (Drug International)
  5. Telfast 120 (Synovia Pharma; imported popular brand)
  6. Fixal 120 (Opsonin Pharma)
  7. Vifas 120 (Healthcare Pharmaceuticals)
  8. Fenargic 120 (Rangs Pharmaceuticals)
  9. Fexonor 120 (OSL Pharma)
  10. Fexonaaf 120 (Naafco Pharma)
  11. Fexofen 120 (Somatec)
  12. Nexofen 120 (National Drug Co.)
এসব ব্র্যান্ডগুলোর সক্রিয় উপাদান একই থাকায় অ্যালার্জির লক্ষণ যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানি ইত্যাদি কমাতে কাজ করে। কোন অপশন আপনার জন্য ঠিক হবে তা নির্ভর করে দাম, সহজলভ্যতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর। নিজের চিকিৎসা ইতিহাস ও বর্তমান ওষুধের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়ার আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে আলোচনা করাই নিরাপদ।

ফেনাডিন ১২০ খেলে কি ঘুম আসে?

ফেনাডিন ১২০ দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন, তাই সাধারণত এটি খেলে বেশি ঘুম বা তন্দ্রা সৃষ্টি করে না। প্রথম প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো এটি স্নায়ুতন্ত্রকে বেশি প্রভাবিত করে না, তাই দিনে কাজকর্ম বা গাড়ি চালানোয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি হতে পারে। এটি খুবই অপ্রচলিত এবং সাধারণত অল্প সময়ের জন্য হয়।

যদি খাওয়ার পর অস্বস্তি বা ঘুম ভাব অনুভূত হয়, তখন প্রথমে ডোজের সময় বা খাবারের সঙ্গে নেওয়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করলে অনেক সময় উপশম পাওয়া যায়। যারা সংবেদনশীল বা অন্য ওষুধের সঙ্গে একসাথে ফেনাডিন ১২০ নেন, তাদের ক্ষেত্রে তন্দ্রা বা ঘুম ভাব কিছুটা বেশি হতে পারে। এ কারণে প্রথমবার নেওয়ার সময় নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ফেনাডিন ১২০ সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহঃ

প্রশ্ন ১: ফেনাডিন ১২০ কাকে দেওয়া যায়?

উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের অ্যালার্জির উপসর্গে।

প্রশ্ন ২: কতদিন খাওয়া যায়?

উত্তর: চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত খাওয়া যায়; স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা উচিত।

প্রশ্ন ৩: ফেনাডিন ১২০ কিভাবে কাজ করে?

উত্তর: এটি হিস্টামিন ব্লক করে অ্যালার্জির লক্ষণ যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানি উপশম করে।

প্রশ্ন ৪: খাবারের সঙ্গে নেওয়া যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৫: ডোজ মিস হলে কি করব?

উত্তর: খুব কাছাকাছি না হলে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত ডোজ নিন; ডাবল ডোজ গ্রহণ করবেন না।

প্রশ্ন ৬: ফেনাডিন ১২০ খেলে কি গাড়ি চালানো বা যন্ত্র ব্যবহার করা নিরাপদ?

উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত নিরাপদ কারণ এটি তন্দ্রা কম সৃষ্টি করে, তবে শুরুর প্রথমবারে সতর্ক থাকা ভালো।

প্রশ্ন ৭: শিশুদের জন্য ফেনাডিন ১২০ কত বছর থেকে ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: সাধারণত ১২ বছরের বেশি শিশুদের জন্য। ছোট শিশুদের জন্য কম ডোজ বা বিশেষ পণ্যের প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৮: ফেনাডিন ১২০ নেওয়ার আগে কি কোনো পরীক্ষা দরকার?

উত্তর: সাধারণত নয়, তবে কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৯: ফেনাডিন ১২০ কি ঠান্ডা বা সংক্রমণে কাজ করে?

উত্তর: না, এটি শুধু অ্যালার্জি উপসর্গ কমাতে কাজ করে, সংক্রমণের চিকিৎসা নয়।

প্রশ্ন ১০: ফেনাডিন ১২০ একসাথে অন্য ওষুধ নেওয়া যাবে কি?

উত্তর: বেশিরভাগ ওষুধের সঙ্গে নেওয়া যায়, তবে অ্যান্টাসিড বা কিছু ওষুধের সঙ্গে সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো।

প্রশ্ন ১১: ফেনাডিন ১২০ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার নিরাপদ কি?

উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদ, তবে স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা উচিত।

প্রশ্ন ১২: ফেনাডিন ১২০ কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: বাংলাদেশে সব বড় ফার্মেসি ও অনলাইন ফার্মেসিতে সহজলভ্য।

প্রশ্ন ১৩: ফেনাডিন ১২০-এর সঙ্গে অ্যালকোহল নেওয়া যাবে কি?

উত্তর: এড়ানো ভালো, কারণ অ্যালকোহল ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে।

উপসংহারঃ ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি? পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, ব্যবহার বিধি ও দাম

উপরে আমরা ফেনাডিন ১২০ এর কাজ কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি ফেনাডিন ১২০ একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ যা প্রধানত এলার্জি সংক্রান্ত সমস্যা যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি এবং চোখের জল পড়া কমাতে ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরে হিস্টামিন প্রভাব কমিয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 

সাধারণভাবে এটি নিরাপদ, তবে নির্দিষ্ট ডোজ ও ব্যবহারের সময়সীমা মেনে চলা জরুরি। গর্ভাবস্থা, স্তন্যদানকাল বা কিডনি-লিভারের সমস্যায় থাকলে ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত। সঠিক ব্যবহারে ফেনাডিন ১২০ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অ্যালার্জির অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে সক্ষম। আশা করি এই পোস্ট থেকে আপনারা উপকৃত হয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url