biofol এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহারবিধিও দাম
biofol এর কাজ কি? গর্ভাবস্থায় বায়োফল খাওয়ার নিয়ম বায়োফলের উপকারিতা ও আমাদের শরীরে এর কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে এই ওষুধের সঠিক দাম গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ খাওয়া কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
গর্ভবতী মায়েদের ও তার গর্ভের শিশুদের সঠিক বিকাশ ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল এর প্রয়োজন পড়ে। গর্ভবতী মায়েদের শরীরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণের ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি থাকে তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায়। এই মাল্টিভিটামিন ও মাল্টি মিনারেলের চাহিদা পূরণ করতে biofol খুব ভাল উপকারী ভূমিকা পালন করে ।
Biofol 5 এর কাজ কি?
biofol এর কাজ কি? এটা হল এই পোষ্টের আসল আলোচ্য বিষয়। বায়োফল সাধারণত একটি মাল্টিভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট, যা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। এটি বিশেষ করে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও অপুষ্টিজনিত সমস্যায় উপকার দিতে পারে। দৈনন্দিন খাবার থেকে সব সময় পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায় না, তাই এমন সাপ্লিমেন্ট অনেকের জন্য সহায়ক হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করলে এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।বায়োফল শরীরে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এতে সাধারণত বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন থাকে। এসব উপাদান স্নায়ু ও রক্তকণিকা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত সেবনে শারীরিক ক্লান্তি কমতে পারে এবং কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। যারা দীর্ঘদিন অসুস্থতা বা অপারেশনের পর দুর্বলতায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
নিউরো বি কেন খায়? পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, ব্যবহার বিধি ও দাম
এছাড়া বায়োফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে, কারণ এতে ভিটামিন সি বা অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে সুরক্ষা দেয়। ফলে ত্বক, চুল ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সঠিক ডোজ ও সময় মেনে খাওয়া জরুরি।
যেকোনো সাপ্লিমেন্টের মতো বায়োফলও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন সেবন করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন বমিভাব বা পেটের অস্বস্তি। গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান বা বিশেষ রোগ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা উচিত। সঠিক ব্যবহার করলে বায়োফল শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর সহায়ক হতে পারে।
biofol এর উপাদানসমূহঃ
Biofol মূলত ফলিক অ্যাসিডভিত্তিক একটি ওষুধ। এর প্রধান উপাদান হলো Folic Acid (Vitamin B9)। বাজারে যে ভ্যারিয়েন্টটি বেশি দেখা যায়, যেমন Biofol 5, তাতে সাধারণত ৫ মি.গ্রা. ফলিক অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি শরীরে নতুন কোষ তৈরি ও রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফলিক অ্যাসিড ডিএনএ সংশ্লেষণ ও কোষ বিভাজনের জন্য অপরিহার্য। তাই গর্ভাবস্থা, অ্যানিমিয়া বা অপুষ্টিজনিত সমস্যায় এটি বেশি ব্যবহৃত হয়। শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা এবং স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পূরণে Biofol কার্যকর ভূমিকা রাখে।
জিংক ২০ ট্যাবলেট এর কাজ কি? পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, সেবন বিধি ও দাম
এছাড়া ট্যাবলেট তৈরির জন্য কিছু সহায়ক উপাদান বা এক্সসিপিয়েন্ট থাকে, যেমন স্টার্চ, ম্যাগনেশিয়াম স্টিয়ারেট বা অন্যান্য বাইন্ডার। এগুলো ওষুধের কার্যকারিতায় সরাসরি ভূমিকা না রাখলেও ট্যাবলেটের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট কোম্পানি ভেদে সহায়ক উপাদানে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তাই প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদান তালিকা দেখে নেওয়া ভালো।
বায়োফল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
biofol এর কাজ কি? তা জানার পর এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বায়োফল যেহেতু ফলিক অ্যাসিডভিত্তিক ওষুধ, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ। তবে সবার শরীর একভাবে প্রতিক্রিয়া দেয় না, তাই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণত এসব সমস্যা হালকা হয় এবং ওষুধ বন্ধ করলে সেরে যায়। তবুও অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, পেট ফাঁপা বা হালকা পেটব্যথা। কারও কারও ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এগুলো সাধারণত অল্প সময়ের জন্য হয় এবং ডোজ ঠিক করলে কমে যেতে পারে। খাবারের পর ওষুধ খেলে পেটের অস্বস্তি কিছুটা কম হতে পারে।
b 50 forte এর কাজ কি?পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,ব্যবহার বিধি ও দাম
খুব কম ক্ষেত্রে অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন ত্বকে র্যাশ, চুলকানি বা ফোলা। শ্বাসকষ্ট বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় ফলিক অ্যাসিড খেলে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতির লক্ষণ ঢেকে যেতে পারে, যা পরে স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে।
তাই বায়োফল দীর্ঘমেয়াদে বা বেশি মাত্রায় খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা অন্য কোনো ওষুধ চললে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা ঠিক নয়। সঠিক ডোজ মেনে চললে সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
biofol ব্যবহারে সতর্কতা ও সাবধানতা
Biofol ব্যবহার করার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কারণ এটি ফলিক অ্যাসিডভিত্তিক ওষুধ। যাদের ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া ঠিক নয়। ফলিক অ্যাসিড কখনও কখনও বি১২ ঘাটতির লক্ষণ আড়াল করে দিতে পারে। এতে মূল সমস্যাটি ধরা পড়তে দেরি হতে পারে।যদি আগে কখনও ফলিক অ্যাসিড বা এ ধরনের ওষুধে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে। ত্বকে র্যাশ, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। নিজে থেকে ডোজ বাড়ানো বা কমানো ঠিক নয়। নির্ধারিত মাত্রা মেনে চলাই নিরাপদ।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Biofol প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, তবে তবুও ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি। দীর্ঘদিন সেবনের প্রয়োজন হলে নিয়মিত চেকআপ করা ভালো। অন্য কোনো ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিএপিলেপটিক বা ক্যান্সারের ওষুধ চললে, সেগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব থাকতে পারে কিনা তা জেনে নেওয়া উচিত।
শিশুদের ক্ষেত্রে ডোজ আলাদা হতে পারে, তাই বড়দের ডোজ শিশুদের দেওয়া যাবে না। প্যাকেটের নির্দেশনা পড়ে নেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেবন করা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সাধারণত এটি নিরাপদ, তবে সচেতন থাকাই ভালো।
বায়োফল খাওয়ার নিয়ম ও নির্দেশনা
বায়োফল সাধারণত ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ বা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি কীভাবে এবং কতদিন খাবেন, তা রোগের ধরন ও আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।সাধারণভাবে Biofol 5 ট্যাবলেট দিনে একবার খাওয়া হয়, তবে ডোজ ভিন্ন হতে পারে। খাবারের পর পানি দিয়ে ট্যাবলেট গিলে খাওয়া ভালো, এতে পেটের অস্বস্তি কম হয়। প্রতিদিন একই সময়ে খেলে নিয়ম মানা সহজ হয় এবং কার্যকারিতাও ভালো থাকে। নিজে থেকে ডোজ বাড়ানো বা কমানো ঠিক নয়।
গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের আগে অনেক সময় ফলিক অ্যাসিড নিয়মিত দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খেতে বলা হতে পারে। যদি কোনো দিন ডোজ মিস হয়ে যায়, মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেতে পারেন, তবে পরের ডোজের সময় হয়ে গেলে একসাথে দুইটি ট্যাবলেট খাবেন না।
দীর্ঘদিন সেবনের প্রয়োজন হলে মাঝে মাঝে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। অন্য কোনো ওষুধ একসাথে চললে চিকিৎসককে জানানো জরুরি। সঠিক নির্দেশনা মেনে চললে বায়োফল সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকরভাবে কাজ করে।
বায়োফল ৫ এর দাম
biofol এর কাজ কি? তা জেনেছি এবার চলুন এই ট্যাবলেটের সম্পর্কে জানি। বাংলাদেশে বাজারে Biofol মূলত ফোলিনিক অ্যাসিড (Calcium Folinate) ভিত্তিক ওষুধ হিসেবে ট্যাবলেট আকারে কয়েকটি ডোজ পাওয়া যায়। দামগুলো সাধারণ শোরুম বা অনলাইন ফার্মেসির রেট অনুসারে নিচের মতো (মূল্যে কিছুটা ভিন্নতা হতে পারে)Biofol 5 mg ট্যাবলেট
- ১ স্ট্রিপ (10 ট্যাবলেট) প্রায় ৳ 90 – ৳ 90 টির মতো
- 30 ট্যাবলেটের প্যাক (Box) প্রায় ৳ 253 – ৳ 270 রেডিও variation থাকতে পারে
Biofol 15 mg ট্যাবলেট
- ১ স্ট্রিপ (10 ট্যাবলেট) প্রায় ৳ 235 – ৳ 250 রেঞ্জে পাওয়া যায়
- 30 ট্যাবলেটের প্যাক প্রায় ৳ 713 – ৳ 750 রেঞ্জে বিক্রি হয়
বায়োফল ১৫ এর বিকল্প ওষুধ সমূহঃ
Biofol 15 (যেটি ফোলিনিক অ্যাসিড বা ক্যালসিয়াম ফলিনেট হিসেবে কাজ করে) এর মতো শক্তি বা কার্যকারিতা যদি আপনার ডাক্তারের পরামর্শে দরকার হয়, তাহলে বাজারে Biofol 15-এর সাদৃশ্য কিছু বিকল্প ওষুধ রয়েছে। এগুলোর Generic উপাদান মূলত ফোলিনিক অ্যাসিড বা Leucovorin Calcium, যা শরীরে ফলেটের কার্যকর রূপ সরবরাহ করে। বাজারে পাওয়া বিকল্প ব্র্যান্ডসমূহ- Foly 15 mg Tablet – Drug International Ltd. তৈরি, Folinic Acid হিসেবে কাজ করে।
- Actifol 15 mg Tablet – ACI Limited-এর পণ্য, Biofol 15-এর মতোই কার্যকর।
- Folistar 15 mg Tablet – Opsonin Pharma Ltd.-এর ব্র্যান্ড (ফোলিনিক অ্যাসিড)।
- Folinex 15 mg Tablet – Beacon Pharmaceuticals-এর ভিন্ন ব্র্যান্ড, একই জেনেরিক।
মনে রাখবেনঃ প্রতিটি ওষুধের সঠিক ব্যবহার, ডোজ এবং আপনার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনটি নেওয়া উচিত তা নির্ধারণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। Generic নাম একই হলেও ব্র্যান্ড অনুযায়ী মূল্য বা এক্সসিপিয়েন্ট ভিন্ন হতে পারে।
বায়োফল ৫ কি ফলিক এসিড
হ্যাঁ, বায়োফল ৫ আসলে ফলিক অ্যাসিডই। এর জেনেরিক উপাদান হলো Folic Acid (Vitamin B9), সাধারণত ৫ মিলিগ্রাম মাত্রায় থাকে। শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ এবং নতুন কোষ গঠনে এটি ব্যবহার করা হয়।তবে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার। বাজারে Biofol 5 সাধারণত ফলিক অ্যাসিড ৫ মি.গ্রা. হিসেবে পাওয়া যায়, কিন্তু Biofol 15 ভিন্ন উপাদান, সেটি ফোলিনিক অ্যাসিড (Calcium Folinate)। তাই নাম মিল থাকলেও ডোজ ও উপাদানে পার্থক্য আছে।
Biofol ট্যাবলেট গর্ভাবস্থার জন্য ব্যবহার করে
হ্যাঁ, বায়োফোলেট (ফলিক অ্যাসিডের একটি সাপ্লিমেন্ট) গর্ভাবস্থায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড নেওয়া শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (মস্তিষ্ক বা স্পাইনাল কর্ডের জন্মগত ত্রুটি) ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষ বিভাজন ও নতুন কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা ভ্রূণের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়ক।সাধারণত ডাক্তাররা গর্ভধারণের আগে ৪–৬ সপ্তাহ থেকে এবং গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস পর্যন্ত ৫০০ মি.গ্রা. থেকে ১ মি.গ্রা. ফলিক অ্যাসিড খেতে পরামর্শ দেন। নিয়মিত সেবনে মাতার রক্তের লোহিত কণিকা সঠিক থাকে এবং ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্র সুস্থভাবে গড়ে ওঠে।
গর্ভাবস্থায় biofol ঔষধ কতদিন খেতে হয়
গর্ভাবস্থায় Biofol বা ফলিক অ্যাসিডের ট্যাবলেট খাওয়ার সময়কাল মূলত গর্ভধারণের সময় এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে ডাক্তাররা পরামর্শ দেনঃ- গর্ভধারণের আগেঃ সন্তান ধারণের কমপক্ষে ৪–৬ সপ্তাহ আগে থেকে ফলিক অ্যাসিড খাওয়া শুরু করা উচিত।
- গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকঃ প্রথম ৩ মাস (প্রায় ১২ সপ্তাহ) নিয়মিত খেতে হয়। এটি ভ্রূণের নিউরাল টিউব সঠিকভাবে গঠনে সহায়ক।
- প্রয়োজনীয় হলে গর্ভাবস্থার পরবর্তী সময়ঃ কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার গর্ভের শেষ পর্যন্ত বা ৬ মাস পর্যন্ত খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন, বিশেষ করে যাদের লোহিত কণিকার সমস্যা বা অতিরিক্ত ঝুঁকি আছে।
biofol এর ডোজ মিস হলে করণীয়
যদি Biofol খাওয়ার সময় কোনো দিন ডোজ মিস হয়ে যায়, তাহলে সাধারণভাবে যা করা উচিতঃ- মিসড ডোজ মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া: যদি পরবর্তী ডোজের সময় এখনও আসে না, তাহলে মিসড ট্যাবলেটটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খেয়ে নিন।
- পরবর্তী ডোজ সময়মতো খাওয়া: পরবর্তী ডোজ ঠিক সময়ে নেওয়া উচিত, কিন্তু দুইটি ট্যাবলেট একসাথে খাওয়া উচিত নয়। একসাথে বেশি খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- নিয়মিত সময়ে খাওয়া চালিয়ে যাওয়া: বাকি দিনগুলোতে আগের মতোই ডোজ নিন। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া: যদি মিসড ডোজ অনেকদিন হয়ে যায় বা ডোজ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে ডাক্তারকে জানানো ভালো।
biofol সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহ
১. Biofol কি?
Biofol হলো একটি ফলিক অ্যাসিড (Vitamin B9) ট্যাবলেট, যা শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার হয়।২. Biofol 5 এবং Biofol 15 এর পার্থক্য কী?
Biofol 5-এর শক্তি ৫ মি.গ্রা. ফলিক অ্যাসিড, আর Biofol 15 সাধারণত ফোলিনিক অ্যাসিড (Calcium Folinate) ১৫ মি.গ্রা. থাকে।৩. দীর্ঘদিন খাওয়া কি নিরাপদ?
সাধারণভাবে নিরাপদ, তবে দীর্ঘদিন বা উচ্চ ডোজের জন্য ডাক্তার দেখানো দরকার।৪. Biofol কি এক ধরনের ভিটামিন?
হ্যাঁ, এটি ভিটামিন B9 বা ফলিক অ্যাসিড ভিত্তিক।৫. শিশুদের জন্য Biofol খাওয়া নিরাপদ কি?
শিশুর ক্ষেত্রে ডোজ আলাদা হতে পারে, তাই ডাক্তার দেখানো ছাড়া খাওয়ানো ঠিক নয়।৬. Biofol কি ওজন বা খাদ্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?
প্রত্যক্ষভাবে ওজন কমায় না, তবে কোষ বিভাজন ও রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে।৭. Biofol কবে কার্যকর হয়?
নিয়মিত সেবন করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রক্তের ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ হতে শুরু করে।৮. Biofol সঙ্গে অন্য ওষুধ খাওয়া যাবে কি?
অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব থাকতে পারে, বিশেষ করে অ্যান্টিএপিলেপটিক বা ক্যান্সারের ওষুধ। ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।উপসংহারঃ biofol এর কাজ কি? পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যবহার বিধিও দাম
ইতিমধ্যে আমরা biofol এর কাজ কি? তা নিয়ে জেনেছি যেটার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি Biofol হলো একটি ফলিক অ্যাসিড ভিত্তিক ট্যাবলেট, যা মূলত রক্তের লোহিত কণিকা উৎপাদন, কোষ বিভাজন এবং গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে। এটি বিশেষভাবে গর্ভধারণের আগে এবং প্রথম তিন মাসে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমে। সাধারণত এটি নিরাপদ, হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন পেটফাঁপা বা বমিভাব কম দেখা যায়।সঠিক ডোজ ও সময়মতো সেবনের মাধ্যমে Biofol শরীরের ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে ডোজ নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এবং অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাবের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। গর্ভধারণকারী মহিলা, রক্তস্বল্পতা বা ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতিতে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি খুবই উপকারী এবং দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url