বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি, বাংলাদেশের নদী গুলো যেমন পদ্মা মেঘনা যমুনা তিস্তা ব্রহ্মপুত্র কর্ণফুলী নদী পরিচিতি উৎপত্তিস্থল দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা নদী সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য আশা করি জানতে পারবেন। চলুন তাহলে বাংলাদেশের দীর্ঘতম বৃহত্তম নবীনতম ক্ষুদ্রতম নদী সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত জেনে আসি।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? এই সম্পর্কে আমাদের অনেকের অজানা। বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী হলো পদ্মা। পদ্মা নদীর সাধারণত হিমালয় পর্বত থেকে উৎপত্তি হয়েছে। ভারতের নদীর নাম গঙ্গা এবং বাংলাদেশের ভেতরে আসার পর এর নাম হয়েছে পদ্মা। পদ্মা নদী বাংলাদেশের মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়। পরবর্তীতে এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পদ্মা নদী বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘ ও প্রধান নদী।পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্যঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদী কোনটি? এর উত্তর হল পদ্মা নদী। পদ্মা নদী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীর মধ্যে একটা। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। এই নদীটি প্রথমে রাজশাহীর চারঘাট থেকে পাবনা-কুষ্টিয়া-ফরিদপুর-মাদারীপুর-পরিশেষে চাঁদপুর মেঘনা নদীর সাথে সংযোগ করেছে।
আরো পড়ুন: টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কত কিলোমিটার
নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবিকাঃ পদ্মা নদী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের জীবিকার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পদ্মা নদীর উপর নির্ভর করছে বহু পরিবারের কর্মসংস্থান। পদ্মা নদীতে পাওয়া যায় বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। এছাড়াও পাওয়া যায় বিভিন্ন মাছ। পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মৎস্য শিকার, শহর, কৃষি কাজ, নৌ পরিবহন ইত্যাদি।
পদ্মা নদীর বৈশিষ্ট্যঃ পদ্মা নদীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। বর্ষাকালে এই নদীর স্রোত ও পানির পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। ঢাকা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীতে আমাদের সবার প্রিয় ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।
পদ্মা নদীর উতপত্তিস্থল কোথায়?
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? উপরে আমরা এই সম্পর্কে জেনেছি। পদ্মা নদী
হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ উৎপত্তি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার
মধ্য দিয়ে নদীর প্রধান শাখা বাংলাদেশের প্রবেশ করেছে। ভারতে হুগলী শহরে দিয়ে
গঙ্গা নদী টি ভাগীরথী নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল থেকে ২২০০ কিলোমিটার
দূরত্বে অবস্থিত গোয়ালন্দ উপজেলা প্রথমে যমুনা নদী ও পরে চাঁদপুর এর মেঘনা নদীর
সাথে সংযোগ হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ কবুতরের নাম দাম ও ছবি
পদ্মা নদীর উৎপত্তিঃ পদ্মা নদী হিমালয় পর্বত থেকে ভারতের ভেতরে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়েছে পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজশাহীর চারঘাট এলাকায় প্রবেশ করে এর নাম হয়েছে পদ্মা। পরিশেষে এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পদ্মা নদী বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ কবুতরের নাম দাম ও ছবি
পদ্মা নদীর উৎপত্তিঃ পদ্মা নদী হিমালয় পর্বত থেকে ভারতের ভেতরে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয়েছে পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজশাহীর চারঘাট এলাকায় প্রবেশ করে এর নাম হয়েছে পদ্মা। পরিশেষে এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। পদ্মা নদী বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
পদ্মা নদীর শাখা নদীগুলোর নাম কি
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা এর অনেকগুলো শাখা আছে। পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী
হল মহানন্দা ও পুনর্ভবা । বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে মহানন্দা ও
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে পুনর্ভবা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর শাখা গুলোর
মধ্যে অন্যতম বড়াল আড়িয়াল খাঁ, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, ভৈরব ও কুমার ইত্যাদি।
আরো পড়ুনঃ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কত কিলোমিটার?
আবার এর প্রশাখা নদী গুলো হলো পশুর, কপোতাক্ষ ও মধুমতী ইত্যাদি। এই সবগুলো নদী যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, নড়াইল, মাগুরা,রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ফরিদপুর, মাদারীপুর বরিশাল, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী ইত্যাদি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত এবং এদেশে রয়েছে অসংখ্য নদী। নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘতম , গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী হলো মেঘনা নদী। বাংলাদেশে শাখা ও প্রশাখা মিলে প্রায় ৩১০ টি নদী রয়েছে যার মোটা আয়তন ২৪১৪০ কিলোমিটার এরও বেশি। মেঘনা আপার অথবা মেঘনা নদী বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ ঢাকা থেকে কক্সবাজার কত কিলোমিটার?
পরবর্তীতে মেঘনা নদী চাঁদপুরে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দক্ষিনে চারটি মোহনা দিয়ে প্রায় ৯০ মাইল পথ অতিক্রম করে মেঘনা নদী বঙ্গোপসাগর এর সাথে মিলেছে। স্থানীয় ভাষায় এদের নাম সন্দীপ, শাহবাজপুর, তেঁতুলিয়া ও হাতিয়া ইত্যাদি । বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম ও গভীরতম নদী হল মেঘনা। মেঘনার প্রধান শাখা নদী হল খোয়াই ও মনু আর উপনদী গুলো হল তিস্তা, তিতাস, গোমতী, ডাকাতিয়া মেঘনার ইত্যাদি।
যমুনা নদীর গড় প্রশস্থতা সাধারণত ১০ কিলোমিটার। যমুনা নদীর প্রশস্ততা বরযাত্রীতে সাধারণত ৫কিলোমিটা এর নিচে হয় না। যমুনা নদী হিমালয়ের তিব্বত চিয়াংতাং থেকে উৎপত্তি হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম দিয়ে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে এই নদীর বাঁধ পরিবর্তন হয়ে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
নদের মূল স্রোত বিবর্তিত হয়ে এই খালটির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে নাম হয় যমুনা। ১৭৮৭ সালে তিস্তা নদীর একটি একটি শাখা যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়। তার কারণে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্ত নদী মেলে একটি বিশাল সবচেয়ে বড় নদীর আবির্ভাব ঘটায় যার নাম হল যমুনা। যার পূর্ব নাম ছিল জোনাই খাল। নাম শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন যমুনা নদী আগে একটি খাল ছিল।
তবে বর্তমানে অনেক নদীর বা নদীর শাখার মিলনের ফলে যমুনা নদী বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নবীতম, দীর্ঘতম, গভীরতম ও সবচেয়ে বড় নদীর ভেতর একটি হয়ে উঠেছে। ১৭৮৭ সালের প্রবাল ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদী গতি পরিবর্তন হয়ে যায়। গোলান্দায় পদ্মা নদী ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখার সাথে মিশেছে। বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর তুলনায় মেঘনা নদীতে সবচেয়ে বেশি চর দেখা যায়।
আরো পড়ুনঃ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কত কিলোমিটার?
আবার এর প্রশাখা নদী গুলো হলো পশুর, কপোতাক্ষ ও মধুমতী ইত্যাদি। এই সবগুলো নদী যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, নড়াইল, মাগুরা,রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, ফরিদপুর, মাদারীপুর বরিশাল, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী ইত্যাদি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বাংলাদেশের গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী কোনটি?
বাংলাদেশের গভীরতম নদী কোনটি ও বাংলাদেশের প্রশস্ততম নদী কোনটি ? আমাদের অনেকেই এই সম্পর্কে জানতে চান। কেননা এই ধরনের প্রশ্ন আমাদের বিভিন্ন পরীক্ষায় এসে থাকে। বাংলাদেশের গভীরতম নদী হলো মেঘনা। মেঘনা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ প্রায় ৩৪০০ মিটার বর্ষাকালে মেঘনা নদীর গভীরতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মেঘনা নদী বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর ভেতরে একটি। পদ্মা নদী ও যমুনা নদী একসাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নদীর তৈরি করেছে।বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত এবং এদেশে রয়েছে অসংখ্য নদী। নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘতম , গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী হলো মেঘনা নদী। বাংলাদেশে শাখা ও প্রশাখা মিলে প্রায় ৩১০ টি নদী রয়েছে যার মোটা আয়তন ২৪১৪০ কিলোমিটার এরও বেশি। মেঘনা আপার অথবা মেঘনা নদী বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
মেঘনা নদীর উৎপত্তি কোথায়?
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? পদ্মা নদী বাংলাদেশের গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী কোনটি মেঘনা নদী এই সম্পর্কে উপরে জানলাম। যে এলাকায় উৎপত্তি হয়েছে সেই এলাকার নাম বরাক। ভারতের মনিপুর রাজ্যে অবস্থিত নাগা মনিপুর পাহাড় এর পাদদেশ থেকে মেঘনা নদীর উৎপত্তি হয়েছে। বরাক নদী বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানা দিয়ে কুশিয়ারা ও সুরমা নামে প্রবেশ করে মেঘনা নাম হয়েছে।আরো পড়ুনঃ ঢাকা থেকে কক্সবাজার কত কিলোমিটার?
পরবর্তীতে মেঘনা নদী চাঁদপুরে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দক্ষিনে চারটি মোহনা দিয়ে প্রায় ৯০ মাইল পথ অতিক্রম করে মেঘনা নদী বঙ্গোপসাগর এর সাথে মিলেছে। স্থানীয় ভাষায় এদের নাম সন্দীপ, শাহবাজপুর, তেঁতুলিয়া ও হাতিয়া ইত্যাদি । বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম ও গভীরতম নদী হল মেঘনা। মেঘনার প্রধান শাখা নদী হল খোয়াই ও মনু আর উপনদী গুলো হল তিস্তা, তিতাস, গোমতী, ডাকাতিয়া মেঘনার ইত্যাদি।
বাংলাদেশের নবীনতম নদী কোনটি?
নবীনতম যমুনা নদীর দৈর্ঘ্য ঃযমুনা নদীকে বাংলাদেশের নবীনতম নদী বলা হয়ে থাকে।বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী হলো মেঘনা। কেননা এটি তুলনামূলক অন্যান্য নদীগুলো র পরে সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল ভূমিকম্পর ফলে ১৭৮৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রবাহ পরিবর্তন হয়ে যমুনা নদীর উৎপত্তি হয়েছে। যমুনা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার ও প্রশস্ত ৩ থেকে ২০ কিলোমিটার। তবে উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৪ কি.মি.।যমুনা নদীর গড় প্রশস্থতা সাধারণত ১০ কিলোমিটার। যমুনা নদীর প্রশস্ততা বরযাত্রীতে সাধারণত ৫কিলোমিটা এর নিচে হয় না। যমুনা নদী হিমালয়ের তিব্বত চিয়াংতাং থেকে উৎপত্তি হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম দিয়ে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে এই নদীর বাঁধ পরিবর্তন হয়ে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
যমুনা নদী কোথায় পতিত হয়েছে ও এর ইতিহাস
বাংলাদেশের নবীনতম নদী হলো যমুনা। ১৭৮৭ সালের পূর্বে যমুনা নামে কোন নদী ছিল না। জোনাই খাল নামে একটি ছোট নদী বা ধারা ছিল। অনেকে বলে থাকে এই খালটিকে অনেকেই যমুনা বলে ডাকত। কিন্তু ১৭৬২ সালে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারা কে পরিবর্তন করে যমুনা খালের সাথে মিলিত হয়।নদের মূল স্রোত বিবর্তিত হয়ে এই খালটির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে নাম হয় যমুনা। ১৭৮৭ সালে তিস্তা নদীর একটি একটি শাখা যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়। তার কারণে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্ত নদী মেলে একটি বিশাল সবচেয়ে বড় নদীর আবির্ভাব ঘটায় যার নাম হল যমুনা। যার পূর্ব নাম ছিল জোনাই খাল। নাম শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন যমুনা নদী আগে একটি খাল ছিল।
তবে বর্তমানে অনেক নদীর বা নদীর শাখার মিলনের ফলে যমুনা নদী বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নবীতম, দীর্ঘতম, গভীরতম ও সবচেয়ে বড় নদীর ভেতর একটি হয়ে উঠেছে। ১৭৮৭ সালের প্রবাল ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদী গতি পরিবর্তন হয়ে যায়। গোলান্দায় পদ্মা নদী ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখার সাথে মিশেছে। বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর তুলনায় মেঘনা নদীতে সবচেয়ে বেশি চর দেখা যায়।
যমুনার উপনদী বা শাখা নদী সমূহঃ
উপরে আমরা যমুনা নদী কোথায় পতিত হয়েছে এই সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা এই নদীর
কিছুর উপনদী বা শাখা নদী সম্পর্কে জানব। যমুনা নদীর প্রধান উপনদী শাখা নদী গুলো
হলো করোতোয়া , ধরলা, বড়াল , বুড়িগঙ্গা, ইছামতি, হাতি ভাঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী,
আত্রাই, তিস্তা ও সুবর্ণশ্রী ইত্যাদি। যমুনা নদীর দীর্ঘতম ও বৃহত্তম শাখা নদী হল
করোতোয়া নদী।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদ কোনটি-ব্রহ্মপুত্র নদী কোন জেলায় অবস্থিত?
উপরে তথ্য গুলোর মাধ্যমে আমরা জেনেছি বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? এবার আমরা
জানবো বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদ কোনটি? বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদ হল ব্রহ্মপুত্র নদ।
ব্রহ্মপুত্র নদী কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত
হওয়া দীর্ঘতম নদ ব্রহ্মপুত্র। এই নদের দৈর্ঘ্য ২,৮৫০ কিলোমিটার বা ১,৭৭০ মাইল।
ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকা ২,৫১,৫০০ বর্গমাইল বা ৬,৫১,৩৩৪ বর্গকিলোমিটার।
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে এই নদ। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম দিয়ে এই বাংলাদেশের প্রবেশ করেছে। এই নদীর অসংখ্য শাখা প্রশাখা দিয়ে বয়ে চলেছে বাংলাদেশের ভিতরে। দক্ষিণ অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত হয় নদী অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে মাছ ধরা, পানি সেচ ও যাতায়াত ইত্যাদি এই নদীর উপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে এই নদ। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম দিয়ে এই বাংলাদেশের প্রবেশ করেছে। এই নদীর অসংখ্য শাখা প্রশাখা দিয়ে বয়ে চলেছে বাংলাদেশের ভিতরে। দক্ষিণ অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের দিকে প্রবাহিত হয় নদী অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে মাছ ধরা, পানি সেচ ও যাতায়াত ইত্যাদি এই নদীর উপর নির্ভরশীল।
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তিস্থল কোথায়
ব্রহ্মপুত্র নদ বা নদী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। বিভিন্ন সংস্কৃত ভাষায়
ব্রহ্মপুত্র এর অর্থ হল ব্রহ্মার পুত্র। ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হল হিমালয়
পর্বতমালায়। এটি হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে অবস্থিত জিমা ইয়ংজং হিমবাহ
ব্রহ্মপুত্র নদীর উৎপত্তি। যা সাধারণত তিব্বত এর পশ্চিমাংশে অবস্থিত। ব্রহ্মপুত্র
নদীটি তিব্বতে উৎপত্তি হয়ে যখন ভারতের অরুণাচলে প্রবেশ করে তখন এর নাম হয়
সিয়ং।
আরো পড়ুনঃ
আসামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নদীর নাম দিহাং । এই দিহাং ও লোহিত নামের দুটি নদী মিলিত হয়ে যখন সমতলে যোগ হয় তখন এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। এরপরে এই নদীটি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে ও পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মেশে।
আরো পড়ুনঃ
আসামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নদীর নাম দিহাং । এই দিহাং ও লোহিত নামের দুটি নদী মিলিত হয়ে যখন সমতলে যোগ হয় তখন এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। এরপরে এই নদীটি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে ও পরবর্তীতে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মেশে।
তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি আশা করি এই সম্পর্কে আপনারা জানতে পারছেন। তিস্তা
নদী বাংলাদেশ ও ভারতের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্তবর্তি নদী। তিস্তা
নদীর উৎপত্তিস্থল হল ভারতের সিকিম পার্বত্য অঞ্চলে। এই নদীটি বাংলাদেশ, ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সিকিম অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তিস্তা পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও সিকিম বিভাগ এর অন্যতম প্রধান নদী। তিস্তা
নদীকে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ নদী যেটাকে জীবনরেখাও বলা যাই।
পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তা নদীটি বাংলাদেশের প্রবেশ
করার পর ব্রহ্মপুত্র নদীর সাথে সংযোগ হয়েছে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী এই নদীটি
দেবী পার্বতীর স্তন এর মাধ্যমে উৎপত্তি হয়েছে। তিস্তা নামটি এসেছে ত্রি স্রোতা
অথবা তিন প্রবাহ নাম থেকে।
সিকিম হিমালয়ের চিতামু হ্রদ থেকে ৭,২০০ মিটার উচ্চতায় সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি দার্জিলিং অবস্থিত শিভক গোলা নামক গিরিসঙ্কটের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ১৭৮৭ সালে একটি ভয়াবহ বন্যার ফলে নদীটির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদীতে চিলমারী নদীবন্দর দক্ষিণ পতিত হয়। তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য ৩১৫ কিলোমিটার এর মধ্যে ১১৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত।
সিকিম হিমালয়ের চিতামু হ্রদ থেকে ৭,২০০ মিটার উচ্চতায় সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি দার্জিলিং অবস্থিত শিভক গোলা নামক গিরিসঙ্কটের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ১৭৮৭ সালে একটি ভয়াবহ বন্যার ফলে নদীটির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদীতে চিলমারী নদীবন্দর দক্ষিণ পতিত হয়। তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য ৩১৫ কিলোমিটার এর মধ্যে ১১৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত।
সাধারণ প্রশ্ন(FAQ)
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী কোনটি?
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী হল গোবরা নদী।
বাংলাদেশের নদী পথের দৈর্ঘ্য কত?
বাংলাদেশের নদী পথের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার।
তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
তিস্তা নদীর দৈর্ঘ্য ৩৫০ কিলোমিটার। যার মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার বাংলাদেশে ভেতর
দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর নদীটির প্রস্থ ৫০০ মিটার থেকে ৫ কিলোমিটার।
বাংলাদেশের প্রশস্ততম নদী কোনটি?
ব্রহ্মপুত্র বা যমুনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রশস্ততম নদী।বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
যমুনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কি সুরমা?
না, বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
যা থেকে আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী হল পদ্মা। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এদেশে রয়েছে ছোট ও বড় অসংখ্য নদী। এই পোস্টে আমরা নদী সম্পর্কে আপনাদের সমস্ত ধরনের সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করা যায় এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।
বাংলাদেশের পাঁচটি বৃহৎ নদীর নাম কী কী?
বাংলাদেশের পাঁচটি বৃহৎ নদী গুলো হল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও কর্ণফুলী।পদ্মা নদীর পূর্ব নাম কী ছিল?
পদ্মা নদীর পূর্ব নাম গঙ্গা।মহিলা নদী কোথায় অবস্থিত?
মহিলা নদী বাংলাদেশের রংপুর দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।মেঘনা নদীর দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
মেঘনা নদীর ৩৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩৪০০ মিটার।উপসংহারঃবাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল।
উপরে তথ্য থেকে আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল নদী গুলো কোন জেলায় অবস্থিত, ছোট বা ক্ষুদ্রতম নদী , সবচেয়ে নবীনতম নদী ইত্যাদি সম্পর্কে জেনেছি।যা থেকে আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী হল পদ্মা। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এদেশে রয়েছে ছোট ও বড় অসংখ্য নদী। এই পোস্টে আমরা নদী সম্পর্কে আপনাদের সমস্ত ধরনের সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করা যায় এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হয়েছেন।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url